ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

মানবপাচার চক্রের মূলহোতা গ্রেপ্তার

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:০৭ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩৪ বার


মানবপাচার চক্রের মূলহোতা গ্রেপ্তার

ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে আকর্ষণীয় বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের মূলহোতা মোহাম্মদ আরজু রহমানকে (৪৭) গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-৪ (এসআরবি-৪)।

জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বনানী সি-ব্লক এলাকা থেকে এসআরবি-৪ ও এসআরবি-১-এর যৌথ দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

 

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকার মিরপুর-১ এর পাইকপাড়ায় এসআরবি-৪ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান এসব তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১৬ জুলাই মানবপাচার চক্রের শিকার কামরুন নাহার নামের এক ভুক্তভোগী এনএসআইয়ের কাছে সাহায্যের আবেদন করেন।

তদন্তে জানা যায়, কামরুন নাহার, ফাতেমা, আঞ্জুমান আরা, পারভেজ, ফিরোজ ও মেহেদী হাসানসহ একাধিক ব্যক্তিকে সার্বিয়া ও বেলারুশ হয়ে ইতালিতে পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে প্রায় ৮৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি। পরবর্তীতে তাদের সরাসরি ইউরোপ না পাঠিয়ে নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মিশর ও লিবিয়া হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ নৌপথে ইউরোপে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়।

 

একপর্যায়ে তিন ভুক্তভোগী কৌশল অবলম্বন করে দেশে ফিরে এলেও কামরুন নাহারকে মিশরে এবং আঞ্জুমান আরাকে শ্রীলঙ্কায় আটকে রাখা হয়। সেখান থেকে তারা এনএসআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজেদের উদ্ধারে সহায়তা চান।

 

হাফিজুর রহমান জানান, আসামিকে গ্রেপ্তার পর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ৩০-৩৫ জন ভুক্তভোগী যোগাযোগ করেছেন, যারা চরম ঝুঁকি নিয়ে বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছেন। এছাড়া এনএসআইয়ের সঙ্গে প্রায় ৩০০ ভুক্তভোগীর যোগাযোগ রয়েছে। প্রাথমিক পর্যালোচনায় ধারণা করা হচ্ছে, এই চক্রের মাধ্যমে প্রতারিত ও পাচার হওয়া বাংলাদেশির সংখ্যা দুই হাজারের বেশি। চক্রটি জনপ্রতি ২০ থেকে ২৫ লাখ, এমনকি ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করত।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে তিনি জানান, আরজু রহমান প্রায় ১২ বছর ধরে অবৈধ আদম ব্যবসা ও মানবপাচারে জড়িত। সে ‘আরজু ইমিগ্রেশন লিমিটেড’ ও ‘নাফিস এয়ার ইমিগ্রেশন লিমিটেডসহ বিভিন্ন লাইসেন্সবিহীন প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে প্রত্যন্ত এলাকার বেকার যুবক ও নারীদের টার্গেট করত। শুধু গত এক বছরেই তার একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১ কোটি ৭০ লাখ ৭৫ হাজার ৪৫০ টাকার লেনদেন দেখা গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, নারীদের ভুয়া ভিসায় বিদেশে পাচার করে অনৈতিক কাজে বাধ্য করা এবং রাজি না হলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। এমনকি কোনো কোনো নারীকে জিম্মি করে শরীরে সিগারের ছ্যাঁকা দিয়ে নির্যাতন করা হতো। মিশরে আটকে থাকা কয়েকজন নারী পালিয়ে এসে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে এসব বর্বরতার কথা জানান। এখনও কয়েকজন নারী মিশরে আটকে আছেন, যাদের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে।

গ্রেপ্তার আরজু রহমানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া চক্রের অন্যান্য সহযোগীদের চিহ্নিত ও গ্রেপ্তার করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানান এসআরবি অধিনায়ক।


   আরও সংবাদ