ঢাকা, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

ইতালি পাঠানোর কথা বলে লিবিয়ায় পাচার

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:৫৯ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩০ বার


ইতালি পাঠানোর কথা বলে লিবিয়ায় পাচার

ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ নেওয়ার পর এক যুবককে মিশর হয়ে লিবিয়ায় পাচার, সেখানে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মানবপাচার চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সিআইডির সদর দপ্তর থেকে এক বার্তায় বিষয়টি অবগত করা হয়।

 

গত ৫ অক্টোবর সিআইডির একটি দল ঢাকার বিমানবন্দর থানাধীন আশকোনা হাজি ক্যাম্পের সিভিল এভিয়েশন ওয়েলফেয়ার মার্কেটের সামনে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তাররা হলেন—মো. আতিকুর রহমান টমাস (৩২) এবং মো. বদিউল আলম ভূঁইয়া ওরফে বেলাল (৫৪)।

 

সূত্র মতে, নোয়াখালীর সেনবাগের বাসিন্দা ভুক্তভোগী ওই যুবক প্রায় তিন বছর সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। দেশে ফেরার পথে বিমানে এক সহযাত্রীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়।

ওই সহযাত্রীর মাধ্যমে তিনি মানবপাচার চক্রের এক সদস্যের সঙ্গে পরিচিত হন।

 

চক্রের সদস্যরা তাকে লিবিয়া হয়ে নিরাপদে ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখায়।

এ জন্য ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে তাকে ইতালি পাঠানোর চুক্তি করা হয়।

 

চুক্তি অনুযায়ী, গত ৫ এপ্রিল ভুক্তভোগী ঢাকার আশকোনার একটি অফিসে তার পাসপোর্ট জমা দেন এবং অগ্রিম ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা দেন। পরে ৭ এপ্রিল তাকে প্রথমে ভারতের নয়াদিল্লি এবং সেখান থেকে শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় পাঠানো হয়। শ্রীলঙ্কায় প্রায় ১৬ দিন অবস্থানের পর বিভিন্ন অজুহাতে তার পরিবারের কাছ থেকে ধাপে ধাপে আরও টাকা নেওয়া হয়। এরপর তাকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ হয়ে মিশরের কায়রোতে পাঠানো হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, কায়রো বিমানবন্দর থেকে চক্রের এক সদস্য তাকে একটি বাসায় নিয়ে প্রায় পাঁচ দিন আটকে রাখে। পরে পূর্বের চুক্তির কথা বলে আরও ৬ হাজার মার্কিন ডলার নেওয়া হয়। এভাবে নগদ টাকা, বিকাশ ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের কাছ থেকে মোট প্রায় ১২ লাখ ৬৭ হাজার টাকা নেওয়া হয়।

এরপর ভুক্তভোগীকে মিশর থেকে গাড়িযোগে দুর্গম মরুভূমি ও পাহাড়ি সীমান্ত অতিক্রম করে লিবিয়ায় নেওয়া হয়। সেখানে চক্রের সহযোগী হিসেবে পরিচিত এক ব্যক্তি তাকে একটি কথিত ‘গেম রুমে’ আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে।

পরবর্তীতে লিবিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালিয়ে অন্যান্যদের সঙ্গে তাকেও আটক করে কারাগারে পাঠায়। কারাগারে থাকা অবস্থায় তাকে মুক্ত করার কথা বলে পরিবারের কাছে আরও ৬ লাখ টাকা দাবি করা হয়।

পরবর্তীতে লিবিয়া পুলিশ তাকে আটক করে গত ৭ জুলাই বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়। দেশে ফিরে তিনি নিজেই বাদী হয়ে এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন।

মামলাটির তদন্তভার গ্রহণের পর সিআইডি তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই ও গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে মামলার সঙ্গে জড়িতদের অবস্থান শনাক্ত করে। পরে অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মো. আতিকুর রহমান টমাস ও মো. বদিউল আলম ভূঁইয়া ওরফে বেলালকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি।

গ্রেপ্তার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।


   আরও সংবাদ