ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:৫৭ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩৩ বার
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ৩.৪ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। বিশ্বব্যাংক বলছে, ২০২৩ সাল থেকে ধীরগতির মুখে পড়েছে।
জ্বালানি খাতের সংকট, আর্থিক খাতের ভঙ্গুরতা ও দুর্বল অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আদায়ের মতো কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে চাপে রেখেছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেটে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিনিয়োগ কার্যক্রম নিস্তেজ হয়েছে, রপ্তানি গতি হারিয়েছে এবং মূল্যস্ফীতি উচ্চ পর্যায়ে থাকায় পরিবারগুলোর ক্রয়ক্ষমতা কমেছে ও ব্যবসার খরচ বেড়েছে। আর্থিক খাতের দুর্বলতা ঋণ সরবরাহ ও বিনিয়োগকারীদের আস্থাকে প্রভাবিত করছে, আর সীমিত রাজস্ব সক্ষমতা সরকারি বিনিয়োগকে বাধাগ্রস্ত করছে।
তবে এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যেও শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধির কারণে বহিঃখাত স্থিতিশীল রয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ ধীরে ধীরে সহজ হলে এবং সরকারের সংস্কার উদ্যোগ গতি পেলে ২০২৭-২৮ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৩.৯%-এ উন্নীত হতে পারে।
বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান বিভাগের পরিচালক জিন পেসমে বলেন, অর্থনৈতিক মন্দা এড়াতে এবং বেসরকারি বিনিয়োগনির্ভর অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথে ফিরতে ব্যাংকিং খাত, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ ও জ্বালানি খাতে দ্রুত ও সাহসী সংস্কার প্রয়োজন। দরিদ্রদের সুরক্ষা এবং আরও বেশি ও উন্নত মানের কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য জরুরি সংস্কারে গতি আনতে হবে। কাজ শুরুর সময় এখনই।
দারিদ্র্য বেড়েছে, কমেছে কর্মসংস্থান
২০২৫-২৬ অর্থবছরে দারিদ্র্য ও বৈষম্য বেড়েছে। আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২১ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি থমকে গেছে এবং নারীরা চাকরি হারিয়েছেন।
খেলাপি ঋণ ৩৩.২%
ব্যাংকিং খাতের ঝুঁকি আরও বেড়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণের হার ছিল ৩০.৬%, যা ২০২৬ সালের জুনে বেড়ে ৩৩.২%-এ দাঁড়িয়েছে। জিডিপির ৮.৩% রাজস্ব আদায় বিশ্বের সর্বনিম্নগুলোর একটি, যা প্রয়োজনীয় খাতে সরকারি ব্যয় সীমিত করছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব ঘাটতি জিডিপির ৩.৫ % থেকে বেড়ে ৩.৯% হয়েছে।
সামাজিক সুরক্ষায় লক্ষ্যভিত্তিক সংস্কারের সুপারিশ
সামাজিক সুরক্ষা, জ্বালানি ও কৃষি ভর্তুকি দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিলেও সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারগুলোর প্রায় অর্ধেক কোনো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় নেই। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরও সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণ করা গেলে এসব কর্মসূচির দারিদ্র্য-বিমোচন প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। সরকারের ‘ডায়নামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’ বাস্তবায়ন ও সম্প্রসারণকে এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলা হয়েছে। এটি এমন একটি সমন্বিত ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে তথ্যভিত্তিক সুবিধাভোগী নির্বাচন ও নিরবচ্ছিন্ন তালিকাভুক্তি সম্ভব হবে।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, একাধিক খাদ্য ভর্তুকি একীভূত করা এবং ফ্যামিলি কার্ডের সঙ্গে বিদ্যমান নগদ সহায়তা কর্মসূচির আরও ভালো লক্ষ্য নির্ধারণ যুক্ত করা গেলে অতিরিক্ত ২৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে দারিদ্র্য থেকে বের করে আনা সম্ভব।
দক্ষিণ এশিয়ার প্রবৃদ্ধি ৬.৯%, তবে ২০২৭ সালে কমবে
বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট মঙ্গলবার প্রকাশিত বিশ্বব্যাংক গ্রুপের আঞ্চলিক প্রতিবেদন ‘সাউথ এশিয়া ইকোনমিক আপডেট’-এর সহযোগী প্রকাশনা। এতে বলা হয়েছে, শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদার কারণে বৈশ্বিক ধাক্কা সামলে এ বছর দক্ষিণ এশিয়ার প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৬.৯% হবে। তবে প্রতিকূলতা বাড়ায় ২০২৭ সালে তা কমে ৬.৭%-এ নামতে পারে।
বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জুট বলেন, কঠিন বৈশ্বিক পরিস্থিতিতেও দক্ষিণ এশিয়া উল্লেখযোগ্য সহনশীলতা দেখিয়েছে। তবে গতি ধরে রাখতে ও আরও কর্মসংস্থান তৈরিতে অঞ্চলটিকে প্রবৃদ্ধির নতুন চালিকাশক্তিতে বিনিয়োগ করতে হবে। দ্রুত বিকাশমান এআই বৈশ্বিক মূল্য শৃঙ্খলের সুযোগ কাজে লাগাতে দেশগুলোকে দক্ষতা, অবকাঠামো ও সহায়ক পরিবেশে বিনিয়োগ করতে হবে।
এআই ঘিরে নতুন সম্ভাবনা
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ায় এআই ব্যবহার বাড়ছে, তবে উন্নত অর্থনীতির তুলনায় এখনও অনেক পিছিয়ে। তবু এর গ্রহণ ত্বরান্বিত হচ্ছে এবং প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন বাজার খুঁজতে এআই ব্যবহার করছে। সরকারগুলোও সেবা খাতে এআই কাজে লাগাচ্ছে, যেমন ভারতে ক্ষুদ্র কৃষকদের কাছে এআইভিত্তিক আবহাওয়া পূর্বাভাস পৌঁছানো এবং বাংলাদেশে এআই-সহায়ক রেটিনা স্ক্রিনিং।
বিশ্বব্যাংক গ্রুপের এশিয়া বিষয়ক প্রধান অর্থনীতিবিদ ফ্রান্তসিস্কা ওনসর্গ বলেন, শ্রম উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে, রপ্তানির সুযোগ সম্প্রসারণ করে এবং সরকারি সেবার মান উন্নত করে এআই দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়নের গতিপথ বদলে দিতে পারে। তবে এর সুফল পেতে সরকারগুলোকে এআই গ্রহণে বাধা সৃষ্টিকারী মৌলিক ঘাটতিগুলো দূর করতে হবে।