ঢাকা, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

রোমাঞ্চকর খেলার শহর ‘বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটি’

স্পোর্টস ডেস্ক


প্রকাশ: ৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:৫৮ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৮ বার


রোমাঞ্চকর খেলার শহর ‘বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটি’

ক্রিকেট মাঠটা ভীষণ ব্যস্ত। প্রায়ই সেখানে বসে নানা টুর্নামেন্ট।

চলছে বসুন্ধরা ক্রিকেট নেটওয়ার্কের কার্যক্রমও। সবুজ মাঠের এক পাশে দুদিকে খোলা গ্যালারি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে দোতলা প্যাভিলিয়ন।

অন্য পাশে সুবিশাল ইনডোর। তার পাশেই আরও কয়েকটি আউটডোর পিচ।

 

একটি ক্রিকেট মাঠ ঘিরেই যে এত আয়োজন, তা প্রথম দেখায় অবাক করার মতো। অথচ এটিই বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির সামান্য একটি অংশ মাত্র।

 

ক্রিকেট মাঠ পেরোলেই ফুটবল স্টেডিয়াম। এরপর দুটি সুইমিংপুলসহ ‘গোল্ড’স জিম’, ইয়োগা সেন্টার। তার পাশেই বসুন্ধরা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ। আরও সামনে এগোলেই আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণের বিশাল কর্মযজ্ঞ। পাশে অ্যাথলেটিকস ট্র্যাক, হকি মাঠসহ আরও বেশ কিছু খেলার অবকাঠামো।

স্পোর্টস সিটির মূল গেটে ঢোকার আগেই চোখে পড়ে বসুন্ধরা কিংসের অনুশীলন মাঠ। সেটিও ছোট কোনো আয়োজন নয়। সঙ্গে রয়েছে আরও একটি বিশাল ক্রীড়া কমপ্লেক্স। সেখানে ফুটসাল মাঠ, প্যাডেল টেনিস কোর্ট এবং এক লাখ বর্গফুটের বিশাল ইনডোর।

সব মিলিয়ে এটি শুধু কোনো স্পোর্টস কমপ্লেক্স নয়, সত্যিকার অর্থেই একটি ক্রীড়া শহর।

প্রায় ৩০০ বিঘা জায়গাজুড়ে ১৭টি খেলার জন্য তৈরি হচ্ছে ২৪টি স্থাপনা। বাংলাদেশে তো বটেই, দক্ষিণ এশিয়াতেও এটিই সর্ববৃহৎ স্পোর্টস সিটি। ২০২১ সালে নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর এর বড় একটি অংশ এখন দৃশ্যমান। কোথাও নিয়মিত খেলা হচ্ছে, কোথাও চলছে শেষ মুহূর্তের নির্মাণকাজ।

বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির সবচেয়ে দৃশ্যমান অংশগুলোর একটি বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনা। এরই মধ্যে এই মাঠে হয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ। অস্ট্রেলিয়া, লেবানন, ফিলিস্তিন, মালদ্বীপ ও আফগানিস্তানের মতো দল এখানে এসে খেলেছে। মেয়েদের সাফ টুর্নামেন্টও হয়েছে এই মাঠে।

জাতীয় স্টেডিয়ামের সংস্কারকাজ চলার সময় বাংলাদেশ ফুটবলের হোম ভেন্যু হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনা।

স্টেডিয়াম লাগোয়া রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত ‘গোল্ড’স জিম’। স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ ও ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য এরই মধ্যে এটি হয়ে উঠেছে নতুন আকর্ষণ। ৫০ ও ২৫ মিটারের দুটি সুইমিংপুল রয়েছে এখানে। পাশেই মাল্টিস্পোর্টস জোন। সেখানে নিয়মিত আয়োজন হবে স্কোয়াশ, মার্শাল আর্ট ও বক্সিংয়ের ইভেন্ট।

ইয়োগা সেন্টারের কার্যক্রমও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

এই কমপ্লেক্স পেরোলেই চোখে পড়ে নান্দনিক বসুন্ধরা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলাকেও এখানে সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে স্পোর্টস সিটির সামগ্রিক পরিকল্পনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা।

স্কুলের পাশেই নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম। এই মুহূর্তে চলছে মাঠ ও গ্যালারি নির্মাণের কাজ। স্টেডিয়ামের পাশে ক্রিকেটের আরও একটি অনুশীলন মাঠ তৈরি হয়েছে। সেখানে এরই মধ্যে ঘাসও রোপণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) সাবেক চ্যাম্পিয়ন রংপুর রাইডার্স এই মাঠে অনুশীলন করে। পাশের ইনডোরে রয়েছে নেট প্র্যাকটিসের ব্যবস্থা।

ক্রিকেট কমপ্লেক্স পেরিয়ে সাউথ জোনে আরও একটি বড় ক্রীড়া কমপ্লেক্স গড়ে উঠেছে। সেখানে রয়েছে দুটি ফুটবল মাঠ। এর একটিকে ঘিরে তৈরি হচ্ছে ৪০০ মিটারের অ্যাথলেটিকস ট্র্যাক। রয়েছে দুটি হকি মাঠ, একটি ম্যাচের জন্য এবং অন্যটি অনুশীলনের জন্য। মাঠ তৈরির কাজ প্রায় শেষ, বাকি শুধু অ্যাস্ট্রো টার্ফ বসানো।

ফুটবল মাঠ দুটির কাজও পুরোপুরি শেষ। পাশাপাশি রয়েছে দুটি ফুটসাল মাঠ, রোলার স্কেটিং জোন, তিনটি বাস্কেটবল কোর্ট এবং দুটি করে কাবাডি ও ভলিবল কোর্ট।

তায়কোয়ানদো ও জুডোর জন্য খেলার ব্যবস্থা এবং একটি সুইমিং কমপ্লেক্সও তৈরি হচ্ছে এখানে।

স্পোর্টস সিটির মূল গেটে ঢোকার আগেই বাঁদিকে বসুন্ধরা কিংসের অনুশীলন মাঠসহ যে বিশাল কমপ্লেক্সটি চোখে পড়ে, সেটিও আলাদা করে নজর কাড়ার মতো।

এখানে এক লাখ বর্গফুটের বিশেষ ইনডোরের কাজ পুরোপুরি শেষ। এত বড় এর পরিসর যে ভেতরে ঢুকলে সেটিকে ইনডোর নাকি বিশাল কোনো খোলা মাঠ, প্রথম মুহূর্তে বুঝে ওঠাই কঠিন।

এক ছাদের নিচে রয়েছে ২৪টি ব্যাডমিন্টন কোর্ট। আবার চারটি ব্যাডমিন্টন কোর্ট একত্র করে বানিয়ে ফেলা যায় একটি মিনি ক্রিকেট জোন। ফলে একই সময়ে এখানে আটটি মিনি ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজন করা সম্ভব। এরই মধ্যে এমন টুর্নামেন্টও হয়েছে।

ইনডোরের সামনেই রয়েছে প্যাডেল টেনিসের আয়োজন। টেনিস ও স্কোয়াশের সংমিশ্রণে তৈরি এই খেলাটি যেমন রোমাঞ্চকর, তেমনি এর কোর্টগুলোও দৃষ্টিনন্দন। রঙিন টার্ফের ১৬টি প্যাডেল টেনিস কোর্টে এখন নিয়মিত খেলা হচ্ছে।

পাশেই রয়েছে তিনটি ফুটসাল মাঠ। আছে সুইমিংপুলও।

আর সবকিছুর মাঝে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন ক্যাফেটেরিয়া। দোতলায় শিশুদের খেলার জায়গা, তৃতীয় তলায় সিনেমা হল ও ফুড কোর্ট।

একটি জায়গায় দাঁড়িয়ে যদি খেলাধুলার আনন্দময় একটি মঞ্চের কথা কল্পনা করা হয়, সেখানে হয়তো থাকবে সবুজ মাঠ, স্টেডিয়াম, ইনডোর, সুইমিংপুল, টেনিস কোর্ট, স্কুল, জিম কিংবা শিশুদের খেলার জায়গা।

বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটিতে সেই কল্পনার প্রায় সবকিছুই যেন বাস্তবে রূপ পেয়েছে। কোথাও চলছে আন্তর্জাতিক ফুটবল, কোথাও ক্রিকেটের অনুশীলন, কোথাও ব্যস্ত ইনডোর, আবার কোথাও চলছে নতুন স্থাপনা নির্মাণের কাজ।

প্রায় ৩০০ বিঘা জায়গাজুড়ে ১৭টি খেলার ২৪টি স্থাপনা নিয়ে বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটি তাই শুধু বাংলাদেশের ক্রীড়া অবকাঠামোয় নতুন সংযোজন নয়, দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় ক্রীড়া নগরীর একটি পূর্ণাঙ্গ রূপও হয়ে উঠছে।

খেলার জন্য আলাদা আলাদা মাঠ নয়, এক জায়গায় নানা খেলার এমন সমন্বিত আয়োজনই বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটিকে দিয়েছে ‘ক্রীড়া শহর’-এর পরিচয়।


   আরও সংবাদ