আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১ নভেম্বর, ২০২৬ ১৩:০৩ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ১১ বার
বিশ্বজুড়ে তাণ্ডব চালানো এল নিনো আবহাওয়াজনিত প্রাকৃতিক পরিস্থিতির প্রভাবে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ। শনিবার (৩১ অক্টোবর) তিনি এ ঘোষণা দেন।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার ব্যাপক পরিবর্তন দেখা দিচ্ছে।
বলিভিয়ায় এর কারণে কোথাও বন্যা, আবার কোথাও খরা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় অর্থ ও অন্যান্য সম্পদ দ্রুত ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতেই জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানান প্রেসিডেন্ট।
জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে পাজ বলেন, জরুরি অবস্থার ঘোষণায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে আরও বেশি উদ্ধারকারী দল মোতায়েনের নির্দেশনাও রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এল নিনোর প্রভাবে খরা ও বন্যার মতো পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
এ সংকট মোকাবিলায় সব সরকারি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা প্রয়োজন।’
চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত সরকারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বলিভিয়ার ৯টি প্রশাসনিক বিভাগের মধ্যে ৬টিতে খরার কারণে প্রায় ৭৮ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া খরার কারণে দেশটিতে ৭৫ হাজারের বেশি গবাদিপশু মারা গেছে।
এল নিনো একটি প্রাকৃতিক আবহাওয়াজনিত ঘটনা। এ সময় প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলের মধ্য ও পূর্ব অংশের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়। এর ফলে বিশ্বজুড়ে বায়ুপ্রবাহ, বায়ুচাপ ও বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিক ধরনে পরিবর্তন ঘটে।
জাতিসংঘ চলতি সপ্তাহে সতর্ক করে বলেছে, বর্তমান এল নিনো পরিস্থিতি অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। এর ফলে লাতিন আমেরিকা, পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকা, এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ব্যাপক দুর্যোগ দেখা দিতে পারে।
বলিভিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যেও এল নিনোর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। পেরুতে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি দাবানলের ঘটনা ঘটেছে। এসব দাবানলে এরই মধ্যে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
অন্যদিকে প্রতিবেশী চিলির রাজধানী সান্তিয়াগোতে চলতি বছরের অক্টোবর মাসে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। দেশটির আবহাওয়ার ইতিহাসে এটি ছিল সবচেয়ে বৃষ্টিবহুল অক্টোবর।