ঢাকা, বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

প্রত্যেক মুসলিমকে তার যোগ্যতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী ইসলাম ধর্ম প্রচার করতে হবে

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ১ মার্চ, ২০২৪ ০৮:৫৩ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৫১ বার


প্রত্যেক মুসলিমকে তার যোগ্যতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী ইসলাম ধর্ম প্রচার করতে হবে

  আল্লাহ রাব্বুল আরশিল আযীম বলেন :  আমি তাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত করলে তারা সালাত কায়েম করবে, যাকাত দিবে এবং সৎ কাজের আদেশ করবে ও অসৎ কাজ হতে নিষেধ করবে। সকল কাজের পরিণাম আল্লাহর এখতিয়ারে। [সূরা ২২, আল হাজ্জ-৪১] 
১। নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : তোমাদের প্রত্যেকেই (স্ব-স্ব স্থানে) এক একজন দায়িত্ববান এবং তোমাদের প্রত্যেকেই তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞেসিত হবে। [মুসলিম/৪৫৭৩, বুখারী/৬৬৪০]
২। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন  : তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি অন্যায় কাজ হতে দেখবে সে যেন তা হাত দিয়ে প্রতিহত করে, তাতে যে সামর্থ্য নয় সে যেন তার যবান দিয়ে তা প্রতিহত করে, তাতেও যে সামর্থ্য নয় সে যেন মনে মনে তা প্রতিহত করার চেষ্টা করবে। আর এ হল দুর্বলতম ঈমান। [তিরমিযী/২১৭৫, ইব্ন মাজাহ/৪০১৩]
৩। আবদুল্লাহ ইব্ন আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন  : আমার কথা অন্যদের নিকট পৌছে দাও, তা যদি এক আয়াতের পরিমাণও হয়। [বুখারী/৩২০৭, তিরমিযী/২৬৬৯] 

ইসলাম ধর্ম প্রচারের গুরুত্ব
=====================
  তোমাদের মধ্যে এরূপ এক সম্প্রদায় হওয়া উচিত যারা কল্যাণের দিকে আহবান করে এবং সৎ কাজে আদেশ করে ও অসৎ কাজে নিষেধ করে, আর তারাই সুফল প্রাপ্ত হবে। [সূরা ৩, আলে ইমরান-১০৪] 
  আর মু’মিন পুরুষ ও মু’মিনা নারীরা হচ্ছে পরস্পর একে অন্যের বন্ধু। তারা সৎ বিষয়ের শিক্ষা দেয় এবং অসৎ বিষয় হতে নিষেধ করে, আর সালাতের পাবন্দী করে ও যাকাত প্রদান করে, আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আদেশ মেনে চলে, এসব লোকের প্রতি আল্লাহ অবশ্যই করুণা বর্ষণ করবেন, নিঃসন্দেহে আল্লাহ অতিশয় ক্ষমতাবান, হিকমাত ওয়ালা। [সূরা ৯, আত তাওবা-৭১]
  তোমরাই সর্বোত্তম উম্মাত, মানব জাতির কল্যাণের জন্য তোমাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে, তোমরা সৎ কাজে আদেশ করবে ও অসৎ কাজে নিষেধ করবে এবং আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে আর যদি গ্রন্থ প্রাপ্তরা বিশ্বাস স্থাপন করত তাহলে অবশ্যই তাদের জন্য মঙ্গল হত; তাদের মধ্যে কেহ কেহ মু’মিন এবং তাদের অধিকাংশই দুস্কার্যকারী। [সূরা ৩, আলে ইমরান-১১০]

ইসলামী ধর্ম প্রচারের ফাযীলাত
=======================
  আল্লাহ রাব্বুল ইয্যাত বলেন  : ঐ ব্যক্তি অপেক্ষা কথায় কে উত্তম যে আল্লাহর প্রতি মানুষকে আহবান করে, সৎ কাজ করে এবং বলে  : আমিতো আত্মসমর্পনকারীদের অন্তর্ভুক্ত। [সূরা ৪১, ফুসসিলাত-৩৩] 
  তোমরা আল্লাহর পথে ব্যয় কর এবং স্বীয় হস্ত ধ্বংসের দিকে প্রসারিত করনা এবং কল্যাণ সাধন করতে থাক, নিশ্চয়ই আল্লাহ কল্যাণ সাধনকারীদের ভালবাসেন। [সূরা ২, আল বাকারা-১৯৫]
১।  রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন  : আল্লাহর শপথ! তোমার হিদায়াতের কারণে যদি একজন লোকও সত্য পথের পথিক হয় তাহলে তা তোমার জন্য মূল্যবান লাল উটনীর চেয়েও উত্তম। [আবূ দাউদ/৩৬২০, মুসলিম/৬০০২, বুখারী/৩৪২৮]
২। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন  : যে ব্যক্তি হিদায়াতের দিকে আহবান জানায় তার জন্য সেই পথের অনুসারীদের পুরষ্কারের অনুরূপ পুরষ্কার রয়েছে। এতে তাদের পুরষ্কার থেকে কিছুমাত্র ঘাটতি হবেনা। আর যে ব্যক্তি গোমরাহীর দিকে আহবান জানাবে তার উপর সেই পথের অনুসারীদের পাপের অনুরূপ পাপ বর্তাবে। এতে তাদের পাপসমূহ কিছুমাত্র হালকা হবেনা। [মুসলিম/৬৫৬০, তিরমিযী/২৬৭৪] 

ইসলাম ধর্মের প্রচার কিভাবে করা যেতে পারে?
=================================
  হে রাসূল! যা কিছু তোমার রবের পক্ষ থেকে তোমার উপর অবতীর্ণ করা হয়েছে, তুমি (মানুষকে) সব কিছুই পৌঁছে দাও; আর যদি এরূপ না কর তাহলে তোমাকে অর্পিত দায়িত্ব পালন করলেনা; আল্লাহ তোমাকে মানুষ (অর্থাৎ কাফির) হতে রক্ষা করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফির সম্প্রদায়কে সুপথ প্রদর্শন করেননা। [সূরা ৫, আল মায়িদা-৬৭] 
১।  রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : আমি তোমাদের মাঝে দুইটি জিনিস রেখে যাচ্ছি, কুরআন এবং আমার হাদীস। যতদিন তোমরা ঐ দুইটিকে আঁকড়ে ধরে থাকবে ততদিন তোমরা পথভ্রষ্ট হবেনা। [আবূ দাউদ/৪৫৩৩, মুসলিম/২৮১৭]

ইসলাম ধর্ম প্রচার করার জন্য নিম্নে বর্ণিত পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারেঃ 
================================
০১. মৌখিক কথার মাধ্যমেঃ মৌখিক কথার মাধ্যমে আল্লাহর বান্দাদেরকে দীনের দা‘ওয়াত দেয়া যায়। 
০২. লেখনীর মাধ্যমেঃ ইসলামী বই-পুস্তক সংকলন করা এবং সেগুলি বিনামূল্যে অথবা স্বল্পমূল্যে বিতরণ, পত্র-পত্রিকায় ইসলামী প্রবন্ধ লেখা, ইসলামী সাময়িকী প্রকাশ, বিভিন্ন ভাষায় আল কুরআন, সহীহ হাদীস ও ইসলামী বই অনুবাদ করে প্রচার করা, লিফলেট বিতরণ এবং পোস্টার লিখনের মাধ্যমে দীনের প্রচার করা যায়।
০৩. শিক্ষাক্রমের মাধ্যমেঃ আধুনিক শিক্ষার নামে ধর্মহীন শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন করে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আল কুরআন ও হাদীসের মৌলিক জ্ঞানার্জন বাধ্যতামূলক করার মাধ্যমে। 
০৪. মাসজিদের খতীব ও ইমামের মাধ্যমেঃ মাসজিদের খতীব কিংবা ইমামের দ্বারা জুমু‘আ অথবা অন্যান্য ওয়াক্তে সালাতের পূর্বে অথবা পরে সমবেত মুসল্লিদের নিকট নির্দিষ্ট সময়ে কিংবা দিনে দুই একটি আয়াত ও হাদীস পাঠ করে শুনানো যায়, তাতে সহজেই আল কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর প্রচার হয়ে যায়।
০৫. ইসলাম ধর্ম সংক্রান্ত যুক্তি-তর্কের মাধ্যমেঃ ধর্ম সংক্রান্ত যুক্তি-তর্কের মাধ্যমে দীনের সঠিক দিক নির্দেশনা পরিষ্কার হয়ে ওঠে। ফলে ভ্রান্ত আকীদা-বিশ্বাসের অবসান ঘটে এবং মানুষের নিকট ইসলামের সঠিক সিদ্ধান্ত পৌঁছে যায়।
০৬. দীনি প্রতিষ্ঠান স্থাপনের মাধ্যমেঃ মাসজিদ, মাদ্রাসা, মক্তব, পাঠাগার, পাঠশালা, লাইব্রেরী, ক্লাব, স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দীন প্রচার ও ইসলামের সঠিক দিক নির্দেশনা মানুষের নিকট তুলে ধরা যায়।
০৭. আধুনিক প্রচার যন্ত্রের মাধ্যমেঃ বর্তমানে বিজ্ঞানের উৎকর্ষতার ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা এমন উন্নত হয়েছে যে, মুহুর্তের মধ্যে বিশ্বের সংবাদ পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে পৌঁছে দেয়া যায়। তাই রেডিও, টিভি, স্যাটেলাইট চ্যানেল, কম্পিউটার, ইন্টারনেট, মোবাইল ইত্যাদির মাধ্যমেও দীনের প্রচার খুব সহজেই পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে পৌঁছে দেয়া এবং করা সম্ভব।

ইসলাম ধর্ম প্রচার না করার পরিণতি
=======================
 আল্লাহ রাব্বুল ইয্যাত বলেন  : বল, কেবল আল্লাহর বাণী পৌঁছানো এবং তা প্রচার করাই আমার কাজ। যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অমান্য করে তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন, সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে। [সূরা ৭২, আল জিন-২৩] 
  হে মু’মিনগণ! আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য কর, তোমরা যখন তার কথা শুনছ তখন তোমরা তার আনুগত্য হতে মুখ ফিরিয়ে নিওনা। তোমরা ঐ সব লোকের মত হয়োনা, যারা বলে  : আমরা আপনাদের কথা শুনলাম, কার্যতঃ তারা কিছুই শোনেনা। [সূরা ৮, আল আনফাল-২০-২১] 
  যে ব্যক্তি তার রবের নির্দেশনাবলী দ্বারা উপদিষ্ট হয়ে তা হতে মুখ ফিরিয়ে নেয় তার অপেক্ষা অধিক যালিম আর কে? আমি অবশ্যই অপরাধীদেরকে শাস্তি দিয়ে থাকি। [সূরা ৩২, আস সাজদা-২২] 
  যদি কেহ আল্লাহর দিকে আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া না দেয় তাহলে সে পৃথিবীতে আল্লাহর অভিপ্রায় ব্যর্থ করতে পারবেনা এবং আল্লাহ ছাড়া তাদের কোন সাহায্যকারী থাকবেনা। তারাতো সুস্পষ্ট বিভ্রান্তিতে রয়েছে। [সূরা ৪৬, আহকাফ-৩২] 
১।  মানুষ যখন যালিমকে যুলম করতে দেখে তখন তারা যদি তাকে প্রতিহত না করে তাহলে আল্লাহ তা‘আলা অচিরেই তাদের সবাইকে তাঁর ব্যাপক আযাবে নিপতিত করবেন। [তিরমিযী/২১৭১]

   ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ কর্তৃক প্রকাশিত আল কুরআন ও হাদীস গ্রন্থ হতে সংকলিত।
   দীন প্রচারের স্বার্থে অন্যান্যদের নিকট শেয়ার করুন।


   আরও সংবাদ