ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

তারেক রহমানই শেষ ভরসা

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৯:৩৫ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৫০ বার


তারেক রহমানই শেষ ভরসা

বাংলাদেশের সমকালীন রাজনীতিতে গত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে সবচেয়ে আলোচিত ও প্রতীক্ষিত নাম তারেক রহমান। দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রবাস জীবন শেষে আগামী ২৫ ডিসেম্বর এক ঐতিহাসিক মুহূর্তে নিজ মাতৃভূমিতে পা রাখতে যাচ্ছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির এই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তার এই প্রত্যাবর্তনকে কেবল একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতার নির্বাসন শেষে দেশে ফেরা হিসেবে দেখছেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা, বরং ভঙ্গুর রাষ্ট্রীয় কাঠামো, বিপর্যস্ত জননিরাপত্তা এবং চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা ১৬ কোটি মানুষের কাছে এটি এক নতুন আশার সঞ্চার হিসেবেও দেখছেন।

বাংলাদেশের সমকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এক চরম অনিশ্চয়তা ও ক্রান্তিকালের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে।

গত ৫ আগস্ট দীর্ঘ দেড় দশকের এক ফ্যাসিবাদী শাসনের পতনের পর দেশ এক নতুন ভোরের স্বপ্ন দেখেছিল। কিন্তু সেই স্বপ্নের রেশ কাটতে না কাটতেই জনমনে দানা বেঁধেছে চরম শঙ্কা ও নিরাপত্তাহীনতা। বিগত এক বছরের বেশি সময় ধরে দেশে যে ধরনের অস্থিতিশীলতা, মব ভায়োলেন্স এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও উগ্রবাদের আস্ফালন দেখা যাচ্ছে, তাতে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বুদ্ধিজীবী মহল পর্যন্ত আজ দিশেহারা।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে যে ভয়াবহ নেতৃত্বহীনতা এবং উগ্রবাদের আস্ফালন দেখা দিচ্ছে, তা থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য একজন অভিজ্ঞ এবং সর্বজনগ্রাহ্য নেতৃত্বের বিকল্প নেই।

তারা মনে করছেন, তারেক রহমান তার দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শকে ধারণ করে এই ক্রান্তিকালে দেশকে একটি স্থিতিশীল অবস্থানে নিয়ে যেতে পারবেন।

 

গত ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর দেশ এক নতুন স্বাধীনতার স্বাদ পেলেও দ্রুতই সেই আনন্দ উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। ছাত্র-জনতার সেই রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানের পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে অবনতি ঘটেছে, তা নজিরবিহীন। গত ১৬ মাসে দেশে মব ভায়োলেন্সের নামে যে অরাজকতা তৈরি হয়েছে, তা সাধারণ মানুষের মনে নিরাপত্তাহীনতার সৃষ্টি করেছে।

দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম দৈনিক প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার ভবনে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাটি ছিল মুক্ত সাংবাদিকতার ওপর এক নগ্ন আঘাত। একই রাতে ছায়ানট ও উদীচীর মতো সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে যে তাণ্ডব চালানো হয়েছে, তাকে ‘সাংস্কৃতিক মৌলবাদ’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

 

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতার পর তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে যখন সারা দেশে জোর আলোচনা চলছিল এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার যখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের তারিখ জানিয়ে তফসিল ঘোষণা করেন, ঠিক তখনই ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও তরুণ নেতা শরিফ ওসমান বিন হাদিকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগরে সংঘটিত এই ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে তার মৃত্যুর পর এই হত্যাকাণ্ডকে পূঁজি করে যেভাবে দেশের শীর্ষ গণমাধ্যমগুলোতে হামলা চালানো হয়, তা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা হতে পারে না বলে মনে করেন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব থেকে শুরু করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

 

বিশ্লেষকদের মতে, এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়েছিল তারেক রহমানের দেশে ফেরার প্রাক্কালে একটি ভীতিকর পরিবেশ তৈরির জন্য। যারা তারেক রহমানের নেতৃত্বকে ভয় পায়, তারাই এই ধরণের হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার পথ বেছে নিয়েছে। তবে তারেক রহমান অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং তার দলের নেতাকর্মীদের শান্তি ও সহনশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বলে জানা গেছে দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দের কাছ থেকে।

দেশের প্রথম সারির দুই গণমাধ্যম প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টার ভবনে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা দেশের বিবেকবান মানুষকে স্তম্ভিত করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, একই রাতে ছায়ানট এবং পরদিন উদীচীর মতো সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে হামলা প্রমাণ করে যে, এটি কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার একটি অপচেষ্টা। এ ঘটনায় শিল্পী-সাহিত্যিকরা তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, এটিকে ‘দানবিক’, ‘গুন্ডাগিরি’ আখ্যা দিয়ে তারা বলেছেন, এই ঘটনা শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, বরং বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে আঘাত করা হয়েছে; শিল্পীরা এই হামলার প্রতিবাদে গান-কবিতা ও প্রতিবাদের মাধ্যমে শোক প্রকাশ করছেন এবং শিল্প-সংস্কৃতির ওপর এমন আক্রমণকে প্রতিহত করতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এ ঘটনার পরপরই সংগীতশিল্পী শায়ান চৌধুরী অর্ণব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে উদ্বেগ প্রকাশ করে লিখেছেন, “পাল্টা লড়াইয়ের একমাত্র উপায় হলো ভোট দেওয়া এবং অন্যদেরও ভোট দিতে উৎসাহিত করা, নইলে শিল্পীরা বিপদে পড়বেন।”  উদীচীর সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে এ প্রসঙ্গে বলেন, “এগুলো সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্তের অংশ।” কতিপয় ষড়যন্ত্রকারীর উস্কানি এবং দেশে থাকা তাদের সমর্থকদের মাঠপর্যায়ের তাণ্ডব একই সুতায় গাঁথা বলে মনে করছেন কেউ কেউ। তারা মনে করছেন, এই ষড়যন্ত্রকারীরা চাইছেন দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে নির্বাচনকে বানচাল করতে এবং দেশকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিতে।

এ ছাড়া গণমাধ্যমগুলোয় হামলার রাতে ইংরেজি দৈনিক নিউ এইজের সম্পাদক ও সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীরের মতো একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের ওপর শারীরিক লাঞ্ছনার ঘটনাকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দেখছেন, দেশে এক নতুন ধরনের ‘ফ্যাসিবাদের বিকল্প উগ্রবাদ’ হিসেবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একমাত্র শক্তিশালী গণভিত্তি সম্পন্ন রাজনৈতিক নেতৃত্বই পারে এই ‘মব’ কালচার বন্ধ করে দেশে আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে।

বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির পেছনে একটি গভীর ও সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের কথা বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। দেশের ভেতরে যখন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে, তখন দেশের বাইরে থেকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেও উস্কানি দিচ্ছেন কেউ কেউ। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সে নির্বাসনে থাকা দুজন প্রভাবশালী ইউটিউবার এই অস্থিতিশীলতা তৈরিতে নেপথ্য কারিগর হিসেবে কাজ করছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ইউটিউবাররা দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক এবং ইউটিউবে অত্যন্ত সরব প্রচারণা চালিয়ে আসছেন।

অভিযোগ রয়েছে, তারা কেবল প্রচারণা নয়, বরং দেশে ‘মব ভায়োলেন্স’ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য সরাসরি প্ররোচনা দিচ্ছেন। তাদের উস্কানিতেই একদল উগ্রপন্থী গোষ্ঠী বিভিন্ন সময় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করেছে। শরিফ ওসমান বিন হাদির ওপর হামলার পর এই ইউটিউবারদের উস্কানিমূলক বক্তব্য দেশের সাধারণ মানুষের মনে ভীতির সঞ্চার করেছে। এই গুটি কয়েক ইউটিউবাররা বিভিন্ন ভিডিওর মাধ্যমে দেশের সুশীল সমাজ এবং প্রগতিশীল প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়িয়ে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ আছে, যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য এক বিশাল হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক বাংলাদেশের মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা মনে করছেন, তারেক রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব এই ধরনের ‘সাইবার সন্ত্রাস’ এবং মাঠপর্যায়ের নৈরাজ্য দমন করতে সক্ষম হবে।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক শূন্যতা ও নেতৃত্বের সংকট কাটাতে তারেক রহমান যে এখন জাতীয় ঐক্যের প্রতীকে পরিণত হয়েছেন, তার বড় প্রমাণ গত ২১ ডিসেম্বর রাজধানীর র্যাডিসন ব্লু হোটেলে আয়োজিত মতবিনিময় সভা। বিএনপির আমন্ত্রণে এ দিন দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, সম্পাদক এবং বুদ্ধিজীবীরা সেখানে উপস্থিত হয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি তাদের আস্থার কথা জানিয়েছেন। যারা এক সময় তারেক রহমানের কঠোর সমালোচক ছিলেন, তারাও আজ দেশের এই ক্রান্তিকালে তার নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন। দৈনিক ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীনের ভাষায়, “বাংলাদেশের এখন সবচেয়ে বড় সংকট হলো নেতৃত্বের সংকট। আমাদের একজন নেতা প্রয়োজন।”

একইভাবে প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান স্বীকার করেছেন যে, দেশে একটি ভয়ংকর রাজনৈতিক শূন্যতা বিরাজ করছে এবং তারেক রহমান আরও আগে দেশে ফিরলে বিএনপির পাশাপাশি দেশের জন্যও ইতিবাচক হতো। বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘ দেড় দশকে সব মতের সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীকে এক ছাদের নিচে আনতে পারা তারেক রহমানের এক বড় রাজনৈতিক বিজয়। এটি প্রমাণ করে যে, তিনি কেবল একটি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নন, বরং জাতীয় ঐক্যের একজন স্থপতি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। মানুষ এখন আর বিভাজন চায় না, তারা চায় স্থিতিশীলতা, যা তারেক রহমানের দূরদর্শী রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সম্ভব বলে তারা আশাব্যক্ত করছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যারা এক সময় তারেক রহমানকে রাজনীতি থেকে ‘মাইনাস’ করতে চেয়েছিল, আজ তারাই তার মধ্যে স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্রের রক্ষাকর্তাকে দেখতে পাচ্ছেন।

রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে। ব্যাংকিং খাতে ভয়াবহ লুটপাট, ডলার সংকট এবং মুদ্রাস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে। ব্যবসায়ী সমাজ কোনো দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগে যেতে সাহস পাচ্ছেন না, তারা একটি নির্বাচিত ও রাজনৈতিকভাবে দায়বদ্ধ সরকারের অভাব অনুভব করছেন। তারেক রহমান তার ‘৩১ দফা’ সংস্কার প্রস্তাবে আধুনিক বাজার অর্থনীতি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উন্নয়ন এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির এক বিস্তারিত রূপরেখা দিয়েছেন। ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তারা মনে করছেন, তারেক রহমান একজন আধুনিক মনস্ক নেতা যিনি বিশ্ববাজারের গতিপ্রকৃতি বোঝেন। তার নেতৃত্বে একটি রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী সরকার গঠিত হলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা পুনরায় আস্থাশীল হবেন। এছাড়া কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দারিদ্র্য বিমোচনে তিনি তার পিতার সেই ‘খাল কাটা কর্মসূচি’ বা কৃষি বিপ্লবের যে আধুনিক সংস্করণ তিনি আনতে চান, যা বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতিকে পাল্টে দেবে বলে অর্থনীতিবিদদের ধারণা। এই কারণেই দেশের ব্যবসায়ী সমাজ তারেক রহমানকে তাদের ব্যবসায়িক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির শেষ ভরসা হিসেবে দেখছেন।

বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার একটি বিশাল অংশ তরুণ। এই ‘জেনারেশন জেড’ বা তরুণ প্রজন্ম চায় একটি আধুনিক, মেধাভিত্তিক এবং দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ। তারেক রহমান তার বিভিন্ন ভার্চুয়াল বক্তৃতায় তরুণদের কারিগরি শিক্ষা ও প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তোলার ওপর সর্বোচ্চ জোর দিয়েছেন। তিনি চান এমন একটি রাষ্ট্র ব্যবস্থা যেখানে তদবির বা স্বজনপ্রীতি নয়, বরং মেধার ভিত্তিতে চাকরি ও সুযোগ তৈরি হবে। তিনি বিএনপির রাজনীতিতে ইতিমধ্যে ব্যাপক হারে তরুণদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যা দলের মধ্যে এক ধরণের নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে।

নারীর ক্ষমতায়নেও তার দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত প্রগতিশীল। ব্যক্তিগত জীবনে ধর্মপ্রাণ হয়েও তারেক রহমান সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদের ঘোর বিরোধী। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশে প্রতিটি ধর্মের ও বর্ণের মানুষের সমান নাগরিক অধিকার রয়েছে। তার এই ‘ইনক্লুসিভ’ বা অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক দর্শনই শিক্ষিত তরুণ ও আধুনিক নারীদের তার প্রতি আকৃষ্ট করেছে। তারা মনে করছে, তারেক রহমান ক্ষমতায় এলে দেশে মৌলবাদের অন্ধকার থাকবে না, বরং একটি আধুনিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।

তারেক রহমানের নেতৃত্বের ভিত্তি বুঝতে হলে যেতে হবে তার পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শনে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ইতিহাসবিদরা মনে করেন, আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার হিসেবে জিয়াউর রহমান যে বহুদলীয় গণতন্ত্রের সূচনা করেছিলেন, তা-ই আজ বিএনপির রাজনীতির প্রাণশক্তি। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে জিয়াউর রহমান তলাবিহীন ঝুড়ির তকমা পাওয়া একটি দেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে তুলে দিয়েছিলেন। তার প্রবর্তিত ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ দেশের সাধারণ মানুষকে একাত্ম করেছিল। জিয়ার উত্তরসূরি হিসেবে তারেক রহমানের রক্তে মিশে আছে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার সেই অদম্য জেদ।

একইভাবে তার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ‘আপসহীন’ নেতৃত্ব তারেক রহমানের রাজনৈতিক চরিত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টরা। আশির দশকে এরশাদবিরোধী আন্দোলনে বেগম জিয়ার অকুতোভয় ভূমিকা এবং পরবর্তীতে তিন মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় তার অবদান অনস্বীকার্য। বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমান কেবল উত্তরাধিকার সূত্রে নেতা হননি, বরং দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনে দলের ঐক্য ধরে রেখে এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে দূর থেকে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, তিনি শহীদ জিয়ার দূরদর্শিতা এবং বেগম জিয়ার সাহসের সার্থক সংমিশ্রণ।

আজ যখন রাষ্ট্রকাঠামো ভেঙে পড়ার উপক্রম, তখন মানুষ তারেক রহমানের মধ্যেই সেই ‘ত্রাতা’র রূপ দেখতে পাচ্ছে, যিনি উত্তরাধিকার ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে দেশকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তুলতে পারেন বলে মানুষ বিশ্বাস করছে।

তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন কেবল বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতির জন্যও এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। শ্রীলঙ্কায় রাজাপাকসে পরিবারের পতন এবং পরবর্তীতে জনমতের প্রতিফলনে নতুন সরকার গঠন, কিংবা পাকিস্তানে রাজনৈতিক অস্থিরতা—এ সবকিছুই প্রমাণ করে যে এ অঞ্চলে এখন ‘পিপলস পাওয়ার’ বা জনগণের শক্তির জয়জয়কার। বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ ভারত বরাবরই এদেশের রাজনীতিতে নিজের প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা করেছে। তবে তারেক রহমানের অবস্থান এক্ষেত্রে অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ ও আত্মমর্যাদাশীল।

সম্প্রতি বিবিসি বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, তার রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু হলো “সবার আগে বাংলাদেশ”। তিনি স্পষ্ট করেছেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের স্বার্থ রক্ষা করেই তিনি অন্য রাষ্ট্রের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখবেন। ফেলানী হত্যার বিচার চাওয়া এবং পানির ন্যায্য হিস্যা নিয়ে তার আপসহীন বক্তব্য প্রমাণ করে, তিনি কোনো বিদেশি শক্তির চাপে নতি স্বীকার করবেন না। দক্ষিণ এশিয়ার বর্তমান অস্থির প্রেক্ষাপটে এমন একজন দৃঢ়চেতা নেতার প্রয়োজন ছিল, যিনি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি নিজ দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে অগ্রাধিকার দেবেন। ভারতের থিঙ্কট্যাঙ্কগুলোও এখন বুঝতে পারছে যে, বাংলাদেশে বিএনপির মতো একটি গণমুখী ও জাতীয়তাবাদী শক্তিকে উপেক্ষা করে দীর্ঘমেয়াদী আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

বাংলাদেশের বর্তমান সংকটটি কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং অস্তিত্বের সংকট। দীর্ঘ ১৬ বছরের স্বৈরশাসনের পর যে নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন মানুষ দেখেছিল, তা যেন কিছু উগ্রবাদী ও ষড়যন্ত্রকারীর হাতে জিম্মি না হয়ে পড়ে—সেই আশঙ্কাই এখন প্রবল। দেশের সাধারণ মানুষ, শ্রমিক, কৃষক, মেহনতি মানুষ থেকে শুরু করে সুশীল সমাজ- সবাই আজ অপেক্ষায় রয়েছেন একজন জাতীয় নেতার, যিনি এমন ক্রান্তিকালে দেশ ও জাতিকে উদ্ধার করে নতুন বাংলাদেশ বিনিমার্ণ করার পথে নিয়ে যাবেন।

তারেক রহমানের এই আগমনে দেশের অস্থিতিশীলতা দূর হবে, মব কালচার বন্ধ হবে এবং দেশের প্রতিটি নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে—এটাই আজ কোটি মানুষের বিশ্বাস। ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন কেবল লন্ডনের হিথ্রো থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসা নয়, বরং তা বাংলাদেশের অন্ধকার থেকে আলোর পথে যাত্রা বলে আশা প্রকাশ করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


   আরও সংবাদ