ঢাকা, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

ভোটের আগে সংখ্যালঘু ভোট নিয়ে সজাগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক


প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারী, ২০২৬ ১০:০৫ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৮৮ বার


ভোটের আগে সংখ্যালঘু ভোট নিয়ে সজাগ

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, বাংলায় কেউ কেউ অশান্তি ছড়াতে চাইছেন। সতর্ক থাকতে হবে। ভোটের স্বার্থে কেউ কেউ অশান্তি ছড়াতে চায়, কিন্তু বাংলা শান্তি চায়। সবাইকে মাথা ঠান্ডা রেখে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

 

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক ভবন নবান্ন থেকে মুসলিম সম্প্রদায়ের নাম উহ্য রেখে মমতা বলেন, যদি আমাদের ৩০ শতাংশ অন্য কোনো কমিউনিটির লোক হয়, আমরা ঝগড়া করলে কি তারা রোজ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাবে? আমার প্রাণ ওষ্ঠাগত করে দেবে, টিকতে দেবে না? এ রকম ২৬ শতাংশ আমাদের তফশিলি জাতিও রয়েছে, ৬ শতাংশ আদিবাসীও রয়েছে। আদিবাসীদের ওপর সামান্য কিছু হলেই ট্রেন অবরোধ করে দেয়। ওঠতে চায় না। আমি তো এ রকমটা চাই না।

আমি চাই সবাই সবার মতো শান্তিতে থাকুক। কেউ কারও বিষয়ে নাক গলাবে না।

 

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, কেউ হিন্দু হতে পারে, কেউ মুসলিম, শিখ বা খ্রিস্টান হতে পারে। আমরা তো কাউকে নিয়ে আসিনি।

হিন্দু-মুসলিম বিভাজন তো স্বাধীনতার সময় থেকেই। সে সময় ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান একসঙ্গে ছিল। স্বাধীনতার পর যাদের ইচ্ছা হয়েছিল তারা পাকিস্তানে গেছে, কেউ বাংলাদেশে গেছে, আবার কেউ ভারতে রয়ে গেছে। সেই অর্থে আমরা সবাই ভারতবাসী।

 

বিজেপিকে নিশানা করে মমতা বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩০ শতাংশ মুসলিম সম্প্রদায়ের।

সেই সম্প্রদায়ের সঙ্গে যদি কোনো ঝগড়া হয়, তাহলে তারা প্রতিবাদী হবেই। তবে আমরা কোনো ধরনের ঘটনা চাই না। আমরা চাই সবাই যেন শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারে। কেউ কারও বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না। কেউ কেউ নির্বাচনের আগে দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু আমাদের ৩৬৫ দিন একসঙ্গে থাকতে হয়। তাই আপনারা যেন শান্তিতে থাকতে পারেন, আপনাদের পরিবারের সদস্যরা যেন ভালোভাবে থাকতে পারে—সেই দিকটি দেখতে হবে। চিন্তার কোনো কারণ নেই। আপনারা ব্যবসা ছোট বা বড় যাই হোক না কেন, শান্তিতে কাজ করুন। শান্তি রক্ষা করাটাই আমাদের কাজ।

 

মুখ্যমন্ত্রীর অভিমত, পশ্চিমবঙ্গ সবার। এটা আপনাদের মাতৃভূমি। এমনকি পশ্চিমবঙ্গ গোটা পূর্ব ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গেটওয়ে। ফলে বাংলাই এখন শিল্পের গন্তব্যস্থান।

তবে মুখ্যমন্ত্রী যে ৩০ শতাংশের কথা বলেছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলের অভিমত, পশ্চিমবঙ্গে এই ৩০ শতাংশ সংখ্যালঘু, অর্থাৎ মুসলমান সম্প্রদায়। কারণ পশ্চিমবঙ্গে ২৯৪টি বিধানসভা আসন রয়েছে। এর মধ্যে ১৪৬টি বিধানসভায় মুসলিম ভোট বড় ফ্যাক্টর। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের নিরিখে এই ১৪৬টি আসনের মধ্যে তৃণমূলের দখলে রয়েছে ১৩১টি, বিজেপির দখলে ১৪টি এবং আইএসএফের দখলে রয়েছে একটি আসন। আবার ৪০–৯০ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোট রয়েছে, এমন বিধানসভা আসনের সংখ্যা ৭৪টি। ২৫–৪০ শতাংশ মুসলিম ভোট রয়েছে, এমন বিধানসভা আসনের সংখ্যা ৭২টি।

মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য প্রসঙ্গে সিপিএম নেতা কলতান দাশগুপ্ত বলেন, পুলিশ প্রশাসন যদি তৃণমূলকে দেখলে টেবিলের নিচে লুকিয়ে পড়ে, তাহলে কারা অশান্তি তৈরির চেষ্টা থামাবে? বিজেপি নেতারা যদি পাড়া-পাড়ায় ধর্ম ও জাতের রাজনীতি তৈরি করতে প্রস্তুত থাকে এবং তাতে তৃণমূল নেতারা জড়িত থাকে, তাহলে কে কাকে থামাবে? আমরা বারবার সব সম্প্রদায়ের মধ্যে শান্তি বজায় রাখার কথাই বলে আসছি।

এদিকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি পদে শমীক ভট্টাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পর মুসলিম ভোট প্রসঙ্গে দলটির অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে। সংখ্যালঘুদের মন পেতে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও। তাদের যৌথ মত, পশ্চিমবঙ্গে বসবাসকারী সবাই বাংলার মানুষ। কিন্তু খুনি ও সন্ত্রাসীদের কোনো জাত বা ধর্ম নেই, এরা তৃণমূল আশ্রিত। বিজেপি মুসলিম দুষ্কৃতিদের বিরুদ্ধে কথা বলেছে।

অর্থাৎ ভোটের আগে পশ্চিমবঙ্গের সব রাজনৈতিক দলই সংখ্যালঘু মুসলমানদের ভোট নিয়ে অঙ্ক কষতে শুরু করেছে। কারণ আগামী এপ্রিলে পশ্চিমবঙ্গে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে বিধানসভা নির্বাচন।


   আরও সংবাদ