ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১৪:০৯ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৪৫ বার
চট্টগ্রাম: শুষ্ক মৌঁসুম শুরু না হতেই বন্দরনগরী চট্টগ্রামে শুরু হয়েছে সুপেয় পানির জন্য সংকট। কর্ণফুলী ও হালদা নদীতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং পানির স্তর অস্বাভাবিক নিচে নেমে যাওয়ায় চট্টগ্রাম ওয়াসার দৈনিক উৎপাদন প্রায় ৬ থেকে ৭ কোটি লিটার কমে গেছে। ফলে রমজানে ইফতার ও সেহরির সময়েও পানির জন্য নগরবাসীকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
ওয়াসা সূত্র জানায়, বর্তমানে জোয়ারের সময় হালদা নদীর পানিতে লবণের মাত্রা পাওয়া যাচ্ছে প্রতি লিটারে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৯০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত।
যেখানে পানের যোগ্য পানিতে লবণের সহনীয় মাত্রা মাত্র ৫০ থেকে ৩৫০ মিলিগ্রাম। অতিরিক্ত লবণের কারণে মদুনাঘাট ও মোহরা পানি শোধনাগারসহ তিনটি প্রকল্পে প্রতিদিন গড়ে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা পানি উত্তোলন ও উৎপাদন বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
স্বাভাবিক সময়ে ওয়াসা ৪৫ থেকে ৫০ কোটি লিটার সরবরাহ করলেও বর্তমানে তা কমে ৪০ থেকে ৪৩ কোটি লিটারে দাঁড়িয়েছে। ফলে প্রতিদিন প্রায় ৫ থেকে ৭ কোটি লিটার পানির ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।
এছাড়া সরবরাহ করা পানির প্রায় ৩০ শতাংশই ‘সিস্টেম লস’ বা অপচয় হচ্ছে বলে জানা গেছে। সংকট মোকাবিলায় ওয়াসা বর্তমানে রেশনিং পদ্ধতিতে পানি সরবরাহ করছে।
ওয়াসা কর্মকর্তার জানান, দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়া এবং কাপ্তাই লেকে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া এই সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ। কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের রুলকার্ভ অনুযায়ী পানির উচ্চতা ৯৪ এমএসএল (মিনস সি লেভেল) থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে তা ৯২ এমএসএল-এ নেমে এসেছে।
লেক থেকে পর্যাপ্ত পানি না ছাড়ায় নদীর পানির চাপ কমে গেছে, ফলে সমুদ্রের লোনা পানি অনায়াসেই নদীতে ঢুকে পড়ছে।
প্রধান প্রকৌশলীর বক্তব্য সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম বাংলানিউজকে বলেন, কাপ্তাই হ্রদে পানির স্তর কমে যাওয়ায় সেখান থেকে পর্যাপ্ত পানি ছাড়া হচ্ছে না। ফলে নদীর মিঠা পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় জোয়ারের সময় সমুদ্রের লবণাক্ত পানি অনায়াসেই ঢুকে পড়ছে। বর্তমানে হালদা ও কর্ণফুলী নদীর পানিতে লবণের মাত্রা প্রতি লিটারে ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৯০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে, যা সহনীয় মাত্রার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। এই অতিরিক্ত লবণাক্ততার কারণে জোয়ারের সময় তিনটি শোধনাগারে প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা পানি সংগ্রহ বন্ধ রাখতে হচ্ছে, যার ফলে উৎপাদন ৬ কোটি লিটার কমে গেছে।
তবে পর্যাপ্ত বৃষ্টি হলে অথবা কাপ্তাই লেক থেকে পানি ছাড়ার পরিমাণ বাড়ানো হলে এই লবণাক্ততা দ্রুতই কেটে যাবে।