ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ৯ মার্চ, ২০২৬ ০৯:১৫ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৮ বার
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ বিন ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
রোববার (৮ মার্চ) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা তথ্যে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ কর্তৃক হাদি হত্যার প্রধান আসামি মূল শ্যুটার ফয়সাল ও আলমগীর ভারতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাদের দুজনকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ গত শনিবার (৭ মার্চ) রাতে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ এলাকা থেকে তাদের আটক করে। পরে এ বিষয়ে একটি মামলা করা হয়। সেই মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে রোববার সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির করার পর তাদের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। ভারতের সংবাদ সংস্থা এএনআই এবং পশ্চিমবঙ্গের গণমাধ্যম ‘এই সময়’ তাদের আটক করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে।
গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের পর তারা সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে পালিয়ে আত্মগোপন করেছিলেন। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এই গ্রেপ্তারকে একটি বড় সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছে, কারণ হাদি হত্যার পর বাংলাদেশে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ডিজিএফআইয়ের নবনিযুক্ত মহাপরিচালক ভারত সফর করেন। তিনি এ সময় ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে শহীদ ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিসহ সব সন্ত্রাসীকে আটক করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে অনুরোধ জানান।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ সুস্পষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ওই দুই আসামিকে আটক করতে সক্ষম হয়। এছাড়া বাংলাদেশের আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতে বসে দেশবিরোধী প্রচারণাকারীদের বিরুদ্ধেও সাঁড়াশি অভিযান চালাবে বলে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চয়তা দিয়েছে।
এখানে উল্লেখ্য যে, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে জুমার নামাজ শেষে গণসংযোগ করে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেল আরোহী দুই ব্যক্তির গুলিতে গুরুতর আহত হন ওসমান হাদি। ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।
এখন ভারতে আটক ফয়সাল ও আলমগীরকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।