ঢাকা, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

ঠাকুরগাঁওয়ে প্রতারণার শিকার বহু পরিবার

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ১৪ মার্চ, ২০২৬ ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৪০ বার


ঠাকুরগাঁওয়ে প্রতারণার শিকার বহু পরিবার

ঠাকুরগাঁওয়ে বিনামূল্যে সিম ও রিচার্জের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলছে একটি চক্র। তাদের কাছ থেকে রবি ও এয়ারটেল সিম নেওয়ার পর এখন বিপাকে পড়েছে বহু পরিবার। অনেকে অজান্তেই বিভিন্ন মামলার আসামি হয়ে পড়ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, সমস্যার সমাধান পেতে সংশ্লিষ্ট টেলিকম কোম্পানির দ্বারস্থ হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সমাধান মেলেনি।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা, মোহাম্মদপুর ও চিলারং ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ বিশেষ করে নারী ও গ্রামের সহজ-সরল মানুষদের টার্গেট করে একটি প্রতারক চক্র দীর্ঘদিন ধরে এ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। তারা এনআইডি কার্ড দিয়ে বিনামূল্যে একটি রবি বা এয়ারটেল সিম এবং সঙ্গে ১০৫ টাকা রিচার্জ থাকার লোভনীয় প্রস্তাব দিয়ে মানুষকে আকৃষ্ট করে।

অভিযোগ রয়েছে, একটি সিম দেওয়ার কথা বললেও গ্রাহকদের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে একাধিক সিম নিবন্ধন করে নেয় চক্রটি। ফলে যারা বিনামূল্যে সিম নিয়েছেন, তাদের অধিকাংশের এনআইডি কার্ডে অজান্তেই ১৫ থেকে ৩০টি পর্যন্ত অতিরিক্ত রবি ও এয়ারটেল নম্বর নিবন্ধিত হয়ে গেছে। এসব অতিরিক্ত সিম দেশের বিভিন্ন স্থানে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে সংশ্লিষ্ট সিমের নিবন্ধন যাদের নামে, তারাই আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়ছেন। এতে অনেক নিরীহ মানুষ অজান্তেই মামলার আসামি হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা এলাকার বাসিন্দা সেলিম রেজা বলেন, আমার পরিবারও এই প্রতারণার ফাঁদে পড়েছে। আমার মা, ভাবি ও বোনকে বিনামূল্যে সিম ও রিচার্জের কথা বলে একটি সিম দেওয়া হয়েছিল। পরে আমরা জানতে পারি, একটি সিম নেওয়ার সুযোগে তাদের এনআইডি কার্ড ব্যবহার করে একাধিক সিম নিবন্ধন করা হয়েছে। আমার পরিবারের এক সদস্যের এনআইডিতে এখন ২৮টি সিম রেজিস্ট্রেশন করা আছে। বিষয়টি জানার পর আমরা খুব আতঙ্কে আছি। আমাদের এলাকার অনেক প্রতিবেশীও একইভাবে প্রতারণার শিকার হয়ে অজান্তেই বিভিন্ন মামলার আসামি হয়ে গেছেন। এতে করে আমরা সবাই খুব ভয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।

একই এলাকার নুর নাহার বেগম বলেন, আমি একটা সিম কিনেছিলাম। কিন্তু এখন আমার এনআইডিতে ২২টি সিম রেজিস্ট্রেশন করা আছে। শুনছি অনেকেই মামলার আসামি হয়েছে। তাই খুব ভয় পাচ্ছি। রবি কাস্টমার কেয়ারে গিয়ে অতিরিক্ত সব নম্বরের নিবন্ধন বাতিল করার অনুরোধ করেছি। কিন্তু তারা বলছে এটি বাতিল করা সম্ভব নয়। এখন আমরা কোথায় যাব বুঝতে পারছি না।

সাদিকুল নামের এক ভুক্তভোগী বলেন, আমার স্ত্রী একটি সিম কিনেছিল। কিছুদিন পর হঠাৎ একদিন বাসায় পুলিশ আসে। তারা জানায় আমার স্ত্রীর নামে একটি মামলা হয়েছে। বিষয়টি জানার পর আমরা মানসিকভাবে খুব বিপর্যস্ত হয়ে পড়ি। এ কারণে আমাদের ঢাকায় যেতে হয়েছে এবং অনেক টাকা খরচ হয়েছে। এখনো মামলার অবস্থা কী তা ঠিকভাবে জানি না।

 

সোলেমান নামের আরেক ভুক্তভোগী বলেন, আমার স্ত্রীও এই ঘটনায় মামলার আসামি হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে আমাদের কয়েকবার পরিবারসহ কক্সবাজার যেতে হয়েছে। এতে আমরা অনেক হয়রানির শিকার হয়েছি।

ভুক্তভোগীরা সমস্যার সমাধানের আশায় রবি কাস্টমার কেয়ারে ছুটে গেলেও সেখান থেকে তেমন সহযোগিতা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন। কাস্টমার কেয়ারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিবন্ধিত সিমগুলো বাতিল করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে তারা ঢাকা হেড অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। তবে এ বিষয়ে কাস্টমার কেয়ারের কর্মকর্তারা সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। এনআইডি ব্যবহার করে একাধিক সিম রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কেউ যদি এ ধরনের প্রতারণার শিকার হয়ে থাকেন, তাহলে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার জন্য পুলিশের পক্ষে ভুক্তভোগীদের আহ্বান জানানো হয়েছে। আর অভিযোগ পেলে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে রবি টেলিকম কোম্পানির কর্পোরেট কমিউনিকেশন অফিসার আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, এ ধরনের অভিযোগ আমরা এর আগেও দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর এলাকা থেকেও পেয়েছি। বিষয়টি আমরা গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখব এবং এই প্রতারণামূলক কার্যক্রমের সঙ্গে রবির কোনো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জড়িত আছেন কি না তা তদন্ত করা হবে।

তবে নিবন্ধিত সিম বাতিল না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, রেজিস্ট্রেশন বাতিল না হওয়ার কোনো কারণ আমি দেখছি না। বিষয়টি নিয়ে আমরা খোঁজখবর নেব।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খায়রুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা ইতোমধ্যে এ নিয়ে কাজ শুরু করেছি। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট টেলিকম কোম্পানির সঙ্গে কথা বলে সমস্যার সমাধান বের করার চেষ্টা করা হবে।


   আরও সংবাদ