ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

ইসলামপুরে রেল যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ৫ এপ্রিল, ২০২৬ ০৯:২৮ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩৮ বার


ইসলামপুরে রেল যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ

লিয়াকত হোসাইস লায়ন, জামালপুর প্রতিনিধি ॥ জামালপুরের ইসলামপুরে রেল যাত্রীরা
প্রতিদিন বিড়ম্বনার শিকার হয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ঈদের আগে পিছে
মারাত্বক আকার ধারণ করে। ইসলামপুর থেকে প্রায় প্রতিদিন শত শত ট্রেন যাত্রী
যাতাযাত করে থাকে। তাই আন্তঃ নগর ট্রেনের তোলনায় যাত্রীর সংখ্যা অনেক বেশী হওয়ায়
অধিকাংশ যাত্রীর আসন বিহীন টিকিট নিয়ে বাঁদুর ঝুঁলা হয়ে প্রতিনিয়ত
যাতায়াত করতে হয়। দূর্ভোগ লাঘবে আরো নতুন দু’টি আন্তঃ নগর ট্রেন সংযোজন
দাবী জানালেও অধ্যবদি পর্যন্ত কোন প্রতিকার মেলেনি। অন্যদিকে ৪-৫গুন বেশী দিয়ে
কালোবাজারিদের নিকট টিকিট ক্রয় করতে হিমশিম খেতে হয় নিম্ন আয়ের মানুষের।
সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ৪ লেন উন্নয়ন ঘটলেও ইসলামপুরে সড়ক
মান্ধার্তার আমলে রয়ে গেছে। সড়ক নানা স্থানে যেমনি আঁকা বাঁকা, ঠিক তেমনি
সরু। দু’টি গাড়ী ক্রস করা খুবই দুষ্কর। তাই এ অঞ্চলের মানুষ উপায় হীন হয়ে রেল ভ্রমনকে
গুরুত্ব দিয়ে থাকে।
রেলওয়ে সূত্রে জানাযায়, রাজধানী ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ রুটে বর্তমানে আন্তঃনগর তিস্তা
এক্সপ্রেস, আন্তঃনগর ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস, কমিউটার(১) কমিউটার(২) ট্রেন চলাচল করে
আসছে।
প্রতিদিন ট্রেনের আসনের চেয়ে দ্বিগুন টিকিট বিক্রি হলেও এ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যে
রেল সেবার কোন উন্নতি হয়নি। ঢাকা থেকে দেওয়ানগঞ্জ মাত্র ২১২ কিলোমিটার রাস্তা
হলেও ট্রেনে গতি সর্বোচ্চ ২৫কিঃ মিটার। সময় লাগে নুন্যতম প্রায় ৭ ঘন্টা। আর
১৯৮৫ইং সালের দিকে আন্তঃনগর ট্রেন চালুর পর ঢাকা-বাহাদুরাবাদ ঘাটে চলাচলে তখন
সময় লাগতো মাত্র ৪ ঘন্টা। বর্তমানে দ্বিগুন সময় অর্থাৎ ৭ঘন্টা সময় লাগে। এত বেশী
সময় লাগার কারন কি? এ বিষয়ে রেললাইন ইঞ্জিনিয়ারিং দায়িত্ব প্রাপ্তদের কাছে জানতে
চাইলে তারা জানায় লাইন অত্যান্ত দুর্বল। তাই ট্রেন দূর্ঘটনা এড়াতে, ধীর গতিতে চলে।
অপর দিকে রেল সুত্রে জানাযায়, গত ২০১৪ সালে ময়মনসিংহ রেলষ্ট্রেশন থেকে দেওয়ানগঞ্জ
রেলষ্ট্রেশন পর্যন্ত প্রায় ১০৪ কিঃ মিঃ রেল লাইন সহ কংক্রিট স্লিপার বসিয়ে নতুন লাইন
নির্মাণ করা হলেও তবুও লাইন দূর্বল ? এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তার কোন সদোউত্তর
মেলেনি তাদের কাছে। এদিকে ট্রেনগুলো যাত্রী ভাড়া বৃদ্ধি করা হলেও সেবার বালাই নেই।
আন্তঃনগর ট্রেনের প্রথম শ্রেণীর চেয়ার কোচেসহ আশপাসের কোচগুলোতে দীর্ঘ দিন
যাবৎ টয়লেট অকেজো। অধিকাংশ কোচের ১৪টি বাতির স্থলে রয়েছে মাত্র ২/৪টি বাতি।
কমিউটার ট্রেনে টয়লেট থাকলেও পানির ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। যাত্রীদের যাতায়াতের
দূর্বলতাকে জিম্মি করে এ যেন কর্তৃপক্ষের দায়সাড়া ব্যবসা। এছাড়াও কোচে রয়েছে
হকার ও হিজড়াদের উপদ্রব্য। হিজড়ারা পুরুষের সাথে মহিলা যাত্রী বসা দেখলে মোটা
অংকের টাকা দাবী করেন। টাকা দিতে অস্বীকার করলে অশালীন আচরণসহ নোংরা মন্তব্য করে
থাকেন। অপর দিকে সুলভ শ্রেনী থেকে শুরু করে প্রথম শ্রেনী কোচ গুলোতে ভয়ানক
রোগাক্রান্ত নোংরা ভিক্ষুকরা যাত্রী সাধারণের উপর যেন হুমড়ি খেয়ে পড়ে।
অন্যদিকে,হকারসহ খাবার গাড়ির পচা,বাসি খাবার বিক্রি করছে দেদার্ছে। শুধু তাই নয়
রেলওয়ে কিছু সংখ্যক অসাধু ব্যক্তিদের প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ মদদে টিকিট বিহীন সিট
পাইয়ে দিতে চলে রমরমা বাণিজ্য। অপর দিকে যাত্রীবাহী ট্রেনের ছাদ থেকে প্রতি বৎসর

ডাকাতের কবলে পড়ে প্রাণ দিতে হয়েছে। কমলাপুর রেলষ্ট্রেশন থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত
ছিনতাইকারি অথবা অজ্ঞান পার্টির কবলে পড়ে অনেকেরই সর্বশান্ত হতে হচ্ছে। প্রায়ই
এসব লাশ ট্রেনের ছাদে কিংবা রেল লাইনের ধারে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। বর্তমানে
ট্রেন গুলোতে যেন অপরাধের স্বর্গ রাজ্যে পরিণত হয়েছে। যেন দেখার কেউ নেই। রেলওয়ে
নির্ভর যোগ্য সুত্রে জানাযায়, এ রুটের প্রতিদিন প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার যাত্রী
চলাচল করে থাকে।
এ বিষয়ে ট্রেনের ভূক্তভোগী যাত্রীরা জানান, কমলাপুর থেকে ট্রেন ছাড়ার আগে এবং পরে
ছিনতাইকারি এমনকি অজ্ঞান পার্টির লোকজন ট্রেনের মধ্যে যাত্রীদের সর্বস্ব লুটে
নিয়ে চম্পট দেয়। রেলওয়ে আইন শৃংঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত
করে কোন প্রতিকার পায়নি যাত্রীসাধারণ। এছাড়াও ৪-৫গুন বেশী দিয়ে কালোবাজারিদের
নিকট টিকিট ক্রয় করতে হয়। এসবের জন্য রেলওয়ের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের
স্বেচ্ছাচারীতাকে দায়ী করেছেন সচেতন যাত্রী সাধারণ। অসাধুদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা সহ
আরো দু’টি আন্তঃ নগর ট্রেন সংযোজন করা হয় তাহলেই দূর্ভোগ লাঘব হবে বলেও মনে
করেন যাত্রী সাধারণ ও এই অঞ্চলের মানুষ।
ইসলামপুর বাজার স্টেশন মাস্টার শাহিন মিয়া বলেন, এই রুটে বর্তমানে,ব্রহ্মপুত্র,তিস্তা ও
কমিউটার তিনটি ট্রেন চলছে। এতে যমুনা,ব্রহ্মপুত্র নদ বিধৌত এ অঞ্চলের মানুষের
অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়। সঠিক সময় ট্রেন চলাচলসহ আরো নতুন দু’টি আন্তঃ
নগর ট্রেন সংযোজন করা হলে যাত্রীর পরিমাণ যেমন বৃদ্ধি পাবে। ঠিক তেমনি সরকারে
রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করি।

 


   আরও সংবাদ