ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১৩:০৪ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৩ বার
জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের একটি নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে এবং তা প্রতি মাসেই পর্যালোচনা করা হয় বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
তিনি জানান, আগামী মাসে তেলের দাম বাড়ানো হবে কি না, সে বিষয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি একথা বলেন।
জ্বালানি মন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে উদ্ভূত রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইরান কর্তৃক 'স্ট্রেট অব হরমুজ' দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিধি-নিষেধ আরোপ করায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে।
ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্যে অস্বাভাবিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতেও সরকার সম্ভাব্য সব উৎস খুঁজে দেশে সব ধরনের তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রেখেছে।
দেশে বর্তমানে জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৬৪৪ মেট্রিক টন ডিজেল মজুদ আছে এবং ৩০ এপ্রিলের মধ্যে আরও ১ লাখ ৩৮ হাজার টন আসবে।
এছাড়া ১০ হাজার ৫০০ টন অকটেন মজুদ আছে এবং এপ্রিলের মধ্যেই আরও ৭১ হাজার ৪৩৩ টন আসবে।
পেট্রোল মজুদ আছে ১৬ হাজার টন, যার বিপরীতে আরও ৩৬ হাজার টন আসার অপেক্ষায় রয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর তুলনা করে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় সব দেশই হিমশিম খাচ্ছে। পাকিস্তান ইতোমধ্যে তেলের দাম ৫০ শতাংশ বাড়িয়েছে, শ্রীলঙ্কা রেশনিং পদ্ধতি চালু করেছে। ভারত, আফগানিস্তান, নেপালসহ অন্যান্য দেশও দাম বাড়িয়েছে। সে তুলনায় একমাত্র বাংলাদেশই এখন পর্যন্ত জ্বালানি তেলের মূল্য স্বাভাবিক রেখেছে।
তিনি আরও জানান, এপ্রিল মাসে তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও কৃষি কার্যক্রমের কথা বিবেচনা করে। কৃষকদের ডিজেল প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সেচ কার্ডের মতো কৃষি কার্ড দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ ও পাচার রোধে কড়া ব্যবস্থার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, অবৈধ মজুদ বন্ধে ৩ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে ৩৪২টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এতে ২ হাজার ৪৫৬টি মামলা দায়ের এবং ৩১ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এসব অভিযানে ১ কোটি ২৫ লাখ ৩৯ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায়ের পাশাপাশি প্রায় ৪০ লাখ ৪৮ হাজার ৪৫৬ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে তদারকির জন্য ট্যাগ অফিসার নিয়োগ এবং জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে প্রতিদিন জুম অ্যাপের মাধ্যমে পরিস্থিতি মনিটরিং করা হচ্ছে বলেও সংসদকে জানান মন্ত্রী। তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, তেলের অবৈধ মজুদ বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদলতের অভিযান অব্যাহত থাকবে।