স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:৩৩ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩৭ বার
একজন কম নিয়েও পুরো দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণে আধিপত্য ছিল বার্সেলোনার, কিন্তু গোলের দেখা পায়নি তারা। উল্টো প্রথম লেগে দুই অর্ধে করা দুই গোলে জয় তুলে নিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমি-ফাইনালের পথে এক পা রেখেছে আতলেতিকো মাদ্রিদ।
গতকাল রাতে ক্যাম্প ন্যুয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালের প্রথম লেগে ২-০ গোলের জয় পেয়েছে দিয়েগো সিমেওনের দল।
এই ফল আতলেতিকোর জন্য বাড়তি গুরুত্ব বহন করছে আরও একটি কারণে।
২০০৬ সালের পর প্রথমবারের মতো ক্যাম্প ন্যুতে বার্সেলোনাকে হারাল তারা। একই সঙ্গে আতলেতিকোর কোচ হিসেবে এই মাঠে ১৯ চেষ্টার পর প্রথম জয় পেলেন সিমেওনে।
চার দিন আগেই লা লিগায় আতলেতিকোর মাঠে ২-১ গোলে জিতেছিল বার্সেলোনা, যেখানে দ্বিতীয়ার্ধের পুরোটা একজন কম নিয়ে খেলেছিল স্বাগতিকরা। তবে ইউরোপের মঞ্চে নিজেদের মাঠে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি হান্সি ফ্লিকের দল।
ক্যাম্প ন্যুতে তাদের ১৪ ম্যাচের অপরাজেয় যাত্রাও থেমে গেল এই ম্যাচে।
পরিসংখ্যানে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল বার্সেলোনার দখলেই। ৫৮ শতাংশ বল দখলে রেখে ১৮টি শট নেয় তারা, যার সাতটি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে আতলেতিকোর পাঁচ শটের তিনটিই লক্ষ্যে ছিল, যার দুটি থেকেই আসে গোল।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল বার্সেলোনা। দ্বিতীয় মিনিটেই সুযোগ পান মার্কাস র্যাশফোর্ড, তবে গোলরক্ষকের দিকেই শট নেন তিনি। চার মিনিটে প্রতিপক্ষের ভুলে আরেকটি সুযোগ পেলেও এবারও সফল হতে পারেননি ইংলিশ ফরোয়ার্ড।
অন্য প্রান্তে পঞ্চম মিনিটে হুলিয়ান আলভারেসের শট সহজেই সামাল দেন হোয়ান গার্সিয়া। দশম মিনিটে র্যাশফোর্ডের পাসে জোয়াও কান্সেলোর কাছের পোস্টে নেওয়া শট ঠেকান হুয়ান মুসো। পরে ইয়ামালের পাস থেকে র্যাশফোর্ড বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়।
চাপ ধরে রাখা বার্সেলোনা ৩০ মিনিটে আরেকটি সুযোগ পায়, তবে দানি ওলমোর পাস থেকে ঠিকমতো শট নিতে পারেননি র্যাশফোর্ড। এরপর ইয়ামালের প্রচেষ্টাও প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের বাধায় আটকে যায়।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে বড় ধাক্কা খায় বার্সেলোনা। ৪৩তম মিনিটে জুলিয়ানো সিমেওনেকে পেছন থেকে ফাউল করলে প্রথমে হলুদ কার্ড দেখেন পাউ কুবার্সি। পরে ভিএআর দেখে সেটি লাল কার্ডে পরিবর্তন করেন রেফারি।
এই ফাউল থেকেই পাওয়া ফ্রি-কিকে এগিয়ে যায় আতলেতিকো। বক্সের বাইরে থেকে আলভারেসের দারুণ শট ডান পাশের ওপরের কোণা দিয়ে জালে জড়ায়। চলতি আসরে এটি তার নবম গোল, যা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের এক মৌসুমে আতলেতিকোর কোনো খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ। এই যাত্রায় আর্জেন্টাইন এই স্ট্রাইকার পেছনে ফেলেছে ২০১৩-১৪ মৌসুমে দিয়েগো কস্তার আট গোলকে।
দ্বিতীয়ার্ধে একজন কম নিয়েও ম্যাচে দাপট ধরে রাখে বার্সেলোনা। ৫০তম মিনিটে সমতায় ফেরার বড় সুযোগ তৈরি করেন ইয়ামাল, তবে তার পাস থেকে গোলরক্ষককে কাটিয়ে নেওয়ার পর কঠিন কোণ থেকে শট নিয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট হন র্যাশফোর্ড।
এরপর ফ্রি-কিক থেকে র্যাশফোর্ডের শট কর্নারে পরিণত করেন মুসো। ৫৯তম মিনিটে ইয়ামালের কর্নার থেকে গাভির হেডে জুল কুন্দে বল ছুঁতে না পারায় আরেকটি সুযোগ হাতছাড়া হয় স্বাগতিকদের।
ম্যাচের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ৭০তম মিনিটে ব্যবধান বাড়িয়ে দেয় আতলেতিকো। বাঁ দিক থেকে আসা ক্রসে ভলিতে বল জালে পাঠান বদলি নামা আলেকসান্দার সরলথ, যা বার্সেলোনার ফেরার সম্ভাবনাকে আরও কঠিন করে তোলে।
শেষ দিকে বার্সেলোনা চেষ্টা চালিয়ে গেলেও ভাগ্য তাদের সহায় হয়নি। ইয়ামালের কর্নার থেকে রোনাল্দ আরাউহোর হেড অল্পের জন্য ক্রসবারের ওপর দিয়ে যায়। দানি ওলমোর শেষ দিকের চেষ্টাও লক্ষ্যে ছিল না।
আগামী মঙ্গলবার মেত্রোপলিতানোতে হবে ফিরতি লেগ। দুই গোলের ব্যবধান ঘুচিয়ে পরের ধাপে উঠতে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়বে বার্সেলোনা। বিশেষ করে গত ফেব্রুয়ারিতে একই মাঠে কোপা দেল রের সেমি-ফাইনালের প্রথম লেগে ৪-০ গোলে হারার স্মৃতিও তাদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করবে।