ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২ এপ্রিল, ২০২৬ ১৫:৪৩ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৬ বার
পণ্যের অতিরিক্ত উৎপাদন এবং জোরপূর্বক শ্রম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, এসব বিষয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ২৯ এপ্রিল এ বিষয়ে শুনানি শুরু হবে বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে।
শুনানিকে কেন্দ্র করে গত বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে দেশের উৎপাদন খাতে অতিরিক্ত সক্ষমতা বা অতিউৎপাদনের প্রবণতা নেই বলে উঠে এসেছে।
একই সঙ্গে শিশুশ্রম ও জোরপূর্বক শ্রমের কোনো অস্তিত্ব নেই বলেও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুনানিতে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা হবে।
এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ বর্তমানে শুনানির প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইউএসটিআরের সঙ্গে এই শুনানি ভার্চ্যুয়ালি অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১৬টি দেশের বিরুদ্ধে এ তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত মাসে ইউএসটিআর ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ‘ধারা ৩০১’-এর অধীনে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। এই তদন্তের মূল উদ্দেশ্য হলো, এসব দেশের বাণিজ্য নীতি ও উৎপাদন ব্যবস্থা বিশ্ববাজারে এমন কোনো অতিরিক্ত সক্ষমতা তৈরি করছে কি না, যা মার্কিন উৎপাদন খাতের ক্ষতি করতে পারে।
ওয়াশিংটন মূলত তাদের সরবরাহ শৃঙ্খল দেশে ফিরিয়ে আনা এবং মার্কিন নাগরিকদের কর্মসংস্থান বাড়ানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের সবচেয়ে বড় বাজার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ বাজারে ৮৬৯ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা মোট রপ্তানির প্রায় ১৮ শতাংশ।
উল্লেখ্য, গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করেন। চলতি বছর তা কমে ১৯ শতাংশে আসে। ফেব্রুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট এ পাল্টা শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করে। তবে রায় ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন। পরদিন তা বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়, যা ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে।
১১ মার্চ উৎপাদন খাতে অতিরিক্ত সক্ষমতা ও অতিউৎপাদনের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১৬টি দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশ ছাড়াও এ তালিকায় রয়েছে চীন, সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, মেক্সিকো, জাপান ও ভারত।