ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ ০৯:৩২ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৯ বার
ব্যথাকে ভুল বোঝার ঘটনা প্রায় সবার সঙ্গেই ঘটে। অনেক সময় এক ধরনের ব্যথা অন্য যন্ত্রণার সঙ্গে হুবহু মিলে যায়, অথচ তার কারণ ও ফলাফল সম্পূর্ণ আলাদা হতে পারে।
এর ফলে ভুল চিকিৎসা বা চিকিৎসায় দেরি হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের সব ব্যথা এক রকম নয়।
আপনি ভাবছেন পেশিতে টান লেগেছে, কিন্তু আসল সমস্যা হতে পারে স্নায়ুতে। তাই পেশি ও স্নায়ুর ব্যথার পার্থক্য বোঝা অত্যন্ত জরুরি।
স্নায়ুর ব্যথা: কীভাবে চিনবেন?
স্নায়ুর ব্যথা সাধারণত তীক্ষ্ণ, জ্বালাপোড়া বা বিদ্যুতের শকের মতো অনুভূতি তৈরি করে। এই ব্যথা এক জায়গায় সীমাবদ্ধ থাকে না, হাত বা পা বেয়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
এ ছাড়া যেসব লক্ষণ দেখা যায়, ঝিঁঝি ধরা, অবশ হয়ে যাওয়া, সুচ ফোটার মতো অনুভূতি, দুর্বলতা, শরীরের ভঙ্গি বদলালেও ব্যথা কমতে বা বাড়তে পারে। এই ধরনের ব্যথা সাধারণত স্নায়ু চাপে পড়লে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে হয়। যেমন, স্লিপ ডিস্ক, কার্পাল টানেল সমস্যা বা ডায়াবেটিসজনিত স্নায়ুর জটিলতা।
পেশির ব্যথা: কেমন হয়?
পেশির ব্যথা তুলনামূলকভাবে আলাদা। এটি সাধারণত নির্দিষ্ট জায়গায় সীমাবদ্ধ থাকে এবং মাংসপেশিতে টান বা চাপের কারণে হয়। এর বৈশিষ্ট্য, নির্দিষ্ট জায়গায় ব্যথা, চাপ দিলে ব্যথা বাড়ে, নড়াচড়া করলে বাড়ে, বিশ্রাম নিলে বা মালিশ করলে কমে, পেশির ব্যথা সাধারণত অতিরিক্ত পরিশ্রম, ভুল ভঙ্গিতে বসা বা শোয়া, ভারী কিছু তোলা কিংবা হঠাৎ টান লাগার কারণে হয়।
সতর্ক-সংকেত যেগুলো উপেক্ষা করবেন না
কিছু লক্ষণ আছে, যেগুলো দেখা গেলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি,
* ব্যথা এক জায়গা থেকে ছড়িয়ে পড়া
*অবশ ভাব বা ঝিঁঝি ধরা
*দুর্বলতা
*শরীরের সমন্বয় নষ্ট হওয়া
*মল-মূত্র নিয়ন্ত্রণে সমস্যা
এই লক্ষণগুলো থাকলে তা সাধারণ পেশির ব্যথা নাও হতে পারে।
পেশির ব্যথা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিশ্রাম, পানি পান ও সামান্য চিকিৎসাতেই কমে যায়। তবে ব্যথা যদি দীর্ঘদিন থাকে, খুব তীব্র হয় বা নড়াচড়া করাই কঠিন হয়ে পড়ে, তাহলে তা অবহেলা করা উচিত নয়। ব্যথার ধরন বুঝে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়াই দ্রুত সুস্থ হওয়ার চাবিকাঠি।