ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ ০৯:৩৪ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৪৬ বার
প্রাথমিকে মামলার কারণে দীর্ঘদিন আটকে থাকা সাড়ে ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সব মিলে প্রাথমিকে ৬০ হাজার এবং মাধ্যমিকে আরও ১০ হাজার শিক্ষক বিশেষ ব্যবস্থায় নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সিলেট নগরীর জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির অডিটোরিয়ামে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬ উপলক্ষে সিলেট শিক্ষা বোর্ড এবং সিলেট অঞ্চলের মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন। এসময় শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
প্রাথমিকের শিক্ষক স্বল্পতার কথা উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের সময়ে সাড়ে ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষককে পদায়ন করা যায়নি। মামলা করে আটকে দিয়েছেন আত্তীকরণ শিক্ষকরা।
এ ব্যাপারে বিগত সরকার কোনো উদ্যোগ নেয়নি। আমি আসার পরেই এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিয়ে আইনমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিনা শর্তে স্যারেন্ডার করলাম যে এটা আমাকে করে দিতে হবে।
২৮৭ জন শিক্ষককে আত্তীকরণ করা হয়েছিল, সরকারি বিধিমালায় এটা হয় না বলে ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদায়ন হয়নি।
এহছানুল হক মিলন বলেন, আমি বললাম আমি কোনো প্রতিযোগিতা করব না, অর্থাৎ ২৮৭ জন শিক্ষককে আমি নিয়ে নেব। কোনো অসুবিধা নেই। তাহলে আমি একসঙ্গে ৩২ হাজার ৫০০ শিক্ষক পাচ্ছি। এই ৩২ হাজার ৫০০ শিক্ষককে যখন প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেব। সঙ্গে সঙ্গে ৩২ হাজার ৫০০ সহকারী শিক্ষক প্রয়োজন হবে। এর সঙ্গে আরও ১০ হাজার শিক্ষক অবসরে যাওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে ৬০ হাজার শিক্ষকের প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মাধ্যমিকের শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সাত হাজার শূন্য পদ রয়েছে। অবসর মিলে ১০ হাজার শিক্ষক প্রয়োজন। সেগুলো নন-ক্যাডারের মাধ্যমে নিয়ে নেওয়ার জন্য কাজ চালিয়ে যাব।
মন্ত্রী জানান, বিশেষ ব্যবস্থায় শিক্ষক নিয়োগ করার জন্য আজকালের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিশেষ ব্যবস্থায় শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারি সেই ব্যবস্থা আমাদের করতেই হবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষাখাতে জিডিপি ৫ শতাংশ বাড়িয়ে দেবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু আমি খুব শঙ্কিত যে আমি এত টাকা নিতে পারব কি না। বহুদিন না খেয়ে নাড়িভুঁড়ি শুকিয়ে গেছে। সেজন্য আপনাদের সঙ্গে ঘুরে ঘুরে দেখা করতে আসা। মানসম্মত শিক্ষা কীভাবে করা যায় সেজন্য।
তিনি বলেন, সিলেট অঞ্চলে বর্গা শিক্ষক পাওয়া যায়। শিক্ষকরা লন্ডন চলে যায়। আমরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক পাই না। সেগুলো নিয়ে অনেক সমস্যা আছে, এগুলো আমাদের সমাধান করতে হবে।
তিনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জনবল সংকট নিরসনে সরকার কাজ করছে। প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে বিপুল সংখ্যক শূন্য পদ দ্রুত পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে শিক্ষা প্রশাসনে বিদ্যমান ঘাটতি ও অদক্ষতা দূর করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
মতবিনিময় সভায় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমেদ চৌধুরী ও কয়ছর আহমদ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ এম সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরী, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রুহুল আমিন, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মিয়া মো. নুরুল হক, সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, সিলেট জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, মহানগর বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী ও সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন।