ঢাকা, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

বাড়তি ভাড়ায় জিম্মি নগরবাসী

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ২২:২২ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৮ বার


বাড়তি ভাড়ায় জিম্মি নগরবাসী

দেশে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ঘোষণা কার্যকর হওয়ার পরপরই রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় রাইড শেয়ারিং সেবায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। সকাল থেকেই যাত্রীরা অভিযোগ করছেন, অ্যাপের নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে চালকেরা বাড়তি টাকা দাবি করছেন।

এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন কর্মজীবীরা। 

 

যাত্রীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমার খবর এলেও দেশে জ্বালানির দাম বাড়ানোর প্রভাব সরাসরি পড়েছে পরিবহন খাতে।

এর সুযোগ নিয়ে অনেক রাইড শেয়ারিং চালক যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

রোববার (১৯ এপ্রিল) সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রে অ্যাপে নির্ধারিত ভাড়া বা স্বাভাবিক ভাড়ার বাইরে ৫০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত বেশি দাবি করছেন চালকেরা।

কেউ কেউ বাড়তি ভাড়া না দিলে ট্রিপ বাতিল করছেন, আবার কেউ সরাসরি যেতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন।

 

রায়েরবাগ থেকে কারওয়ান বাজারগামী যাত্রী রাশেদ মাহমুদ বলেন, অ্যাপে ভাড়া দেখাচ্ছিল ১৪০ টাকা।

কিন্তু চালক সরাসরি বললেন ২০০ টাকা না দিলে যাবেন না। বাধ্য হয়ে অফিসে দেরি এড়াতে রাজি হয়েছি।

 

একই এলাকার আরেক যাত্রী সুমাইয়া আক্তার বলেন, সকাল থেকেই তিনজন চালক ট্রিপ ক্যানসেল করেছেন। পরে একজন রাজি হয়েছেন, তবে ৫০ টাকা বাড়তি নিয়েছেন। এতে আমাদের মতো নিয়মিত যাত্রীদের অনেক সমস্যা হচ্ছে।

বাড্ডা এলাকা থেকে প্রেসক্লাবগামী যাত্রী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, কয়েকদিন ধরেই জ্বালানি তেলের নানা অজুহাতে বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছিল। আজ থেকে মনে হচ্ছে যাত্রীরা যেন জিম্মি হয়ে গেছে।

অন্যদিকে চালকেরা বলছেন, শুধু জ্বালানির দাম বাড়ার কারণেই তারা বাড়তি ভাড়া নিচ্ছেন, বিষয়টি এমন নয়। পাম্পগুলোয় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে গিয়ে সময় নষ্ট হচ্ছে, যা বড় সমস্যায় পরিণত হয়েছে। প্রতিবার তেল নিতে অন্তত ছয় ঘণ্টা সময় লাগছে। এতে তাদের আয় কমে গেছে।

চালকেরা জানান, আগে খরচ বাদে দিনে ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা আয় হলেও এখন তা কমে ৭০০ থেকে ১০০০ টাকায় নেমে এসেছে। যাত্রীও কমেছে। ফলে আয় প্রায় নেই বললেই চলে।

ধোলাইপাড় এলাকার রাইড শেয়ারিং চালক নাজমুল হোসেন বলেন, তেলের দাম বাড়লে আমাদের খরচ সরাসরি বেড়ে যায়। কিন্তু অ্যাপে ভাড়া সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে না। তাই কিছুটা সমন্বয় না করলে চালানো কঠিন।

আরেক চালক শহিদুল ইসলাম বলেন, যাত্রীরা অনেকেই বাড়তি ভাড়া দিতে চান না। কিন্তু বাস্তবতা তো বুঝতে হবে। আগের খরচে এখন গাড়ি চালানো সম্ভব না। তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে, আবার দামও বেড়েছে। বাধ্য হয়েই বাড়তি ভাড়া নিতে হচ্ছে।

পল্টন এলাকার চালক রুবেল মিয়া বলেন, অনেক গাড়িতে আগের তেল থাকলেও সামনে তো নতুন দামে তেল নিতে হবে। তাই এখন থেকেই হিসাব করতে হচ্ছে।

শাহবাগে কথা হয় রাইডার হারুন অর রশিদের সঙ্গে। তিনি বলেন, তেল পেতে অনেক সময় লাগছে। দিনের অর্ধেক শেষ হয়ে যায়। আগে দিনে ১২০০ টাকার মতো আয় হতো, এখন ৮০০ থেকে ৯০০ টাকাও হচ্ছে না।

নবাবগঞ্জের রাইডার সাইফুল ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় অনেকের কাছে ১০-২০ টাকা বাড়তি চাইলেও পাওয়া যায় না। কিন্তু আমাদের আয় তো কমেছে।

রাইডার হাসিবুর রহমান জানান, ফুয়েল পাস না থাকায় গত শুক্রবার তিনি ১৭ ঘণ্টা পর তেল পেয়েছেন। এতে তার গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট হচ্ছে।

এদিকে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মধ্যেও এতদিন দেশে তেলের দাম সমন্বয় করা হয়নি। তবে বর্তমান পরিস্থিতির কারণে সরকারকে দাম বাড়াতে হয়েছে। রোববার সচিবালয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মূল্য সমন্বয়ের পরও জ্বালানি খাতে সরকারের ভর্তুকি পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়নি; এখনও ভর্তুকি বহাল রয়েছে।

অন্যদিকে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সরকারি সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির মতে, এই সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের জীবনে নতুন করে দুর্ভোগ ডেকে আনবে এবং এটি তাদের জন্য ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়াবে।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে তেলের দাম সমন্বয় করেছে সরকার। শনিবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানায়।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১৯ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা, ডিজেল ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৮ টাকা বাড়িয়ে ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই দাম রোববার থেকে কার্যকর হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে পরিবহন ব্যয়, কৃষি উৎপাদন খরচ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়বে।

পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মতে, তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই পণ্য পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পায়, যার প্রভাব পড়ে গণপরিবহন ও অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারিং সেবায়ও। এ অবস্থায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।


   আরও সংবাদ