ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ০৯:৪২ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৯ বার
তীব্র তাপদাহের মাঝে হঠাৎ বৃষ্টির কারণে রাজশাহীর লিচু বাগানগুলোতে দেখা দিয়েছে অস্বাভাবিক এক পরিস্থিতি। গাছে গাছে লিচু পাকার আগেই ফেটে যাচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রে ঝরেও পড়ছে।
এতে চাষিদের মধ্যে বেড়েছে দুশ্চিন্তা। আশঙ্কা করা হচ্ছে উৎপাদন কমে যেতে পারে।
এপ্রিলের শুরু থেকেই রাজশাহীতে মৃদু থেকে মাঝারি তাপদাহ বিরাজ করছে। গত বুধবার দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা পৌঁছেছে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা এবারের মৌসুমের সর্বোচ্চ।
তীব্র এই তাপদাহের আগে পুরো এপ্রিলজুড়েই মৃদু ও মাঝারি তাপদাহ ছিল। এর মধ্যেই বৈশাখের প্রথম সপ্তাহে বৃষ্টিপাত হয়।
প্রকৃতির এই বৈপরীত্যের প্রভাব সরাসরি পড়েছে লিচু বাগানগুলোতে।
নগরের চণ্ডিপুর এলাকায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস চত্বরে থাকা লিচু গাছগুলোতে দেখা গেছে, গাছে ফল ধরেছে এবং অল্প কিছুদিনের মধ্যেই পাকার উপযোগী হবে। কিন্তু প্রতিটি থোকায় দু-একটি করে লিচু ইতোমধ্যে ফেটে গেছে। অনেক ফলের গায়ে কালচে ও খয়েরি দাগ পড়েছে। এ ছাড়া কিছু ছোট আকারের লিচু ঝরে পড়ে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়।
একই চিত্র দেখা গেছে নগরের রায়পাড়া এলাকার একটি বাগানেও। বাগানি রফিকুল ইসলাম জানান, গরমে লিচু ঝরে পড়া বা ফেটে যাওয়া নতুন কিছু নয়, তবে এবার এর মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেশি। এতে তারা ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন এবং উৎপাদন কম হবে বলে মনে করছেন।
রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, তাপদাহের মধ্যে হঠাৎ বৃষ্টির ফলেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। দীর্ঘ সময় তীব্র গরমে থাকার পর হঠাৎ বৃষ্টি হলে লিচুর ভেতরের অংশ দ্রুত স্ফীত হয়, কিন্তু খোসা সেই চাপ সহ্য করতে না পেরে ফেটে যায়। মাঠপর্যায় থেকেও এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের উচ্চ পর্যবেক্ষক শহীদুল ইসলাম জানান, এপ্রিলের শুরু থেকেই তাপমাত্রা ঊর্ধ্বমুখী। বুধবার বেলা ৩টায় দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠে। এ দিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের দিন মঙ্গলবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে ৩ এপ্রিলও একই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল।
তিনি আরও জানান, ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাকে মৃদু তাপদাহ এবং ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসকে মাঝারি তাপদাহ হিসেবে ধরা হয়। চলতি এপ্রিলজুড়েই রাজশাহীতে এই দুই ধরনের তাপদাহ অব্যাহত ছিল, যা বুধবার তীব্র তাপদাহে রূপ নেয়। এর মধ্যে বিভিন্ন সময় বৃষ্টিপাতও হয়েছে। সর্বশেষ গত রোববার ৬ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া ৮, ৯ ও ১০ এপ্রিলও অল্প পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ৫৩০ হেক্টর জমিতে লিচু বাগান থেকে উৎপাদন হয়েছিল ৩ হাজার ৭৬৮ মেট্রিক টন। চলতি বছর বাগানের পরিমাণ সামান্য কমে ৫২৮ হেক্টরে দাঁড়ালেও উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে কিছুটা বেশি। তবে বর্তমান আবহাওয়াজনিত কারণে সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, খরার মধ্যে হঠাৎ বৃষ্টিপাতই লিচু ফেটে যাওয়ার মূল কারণ। এ থেকে গাছকে রক্ষা করতে হলে খরা চলাকালেও গাছের গোড়ায় নিয়মিত সেচ দিতে হবে। প্রয়োজনে গাছে পানি স্প্রে করা যেতে পারে। পাশাপাশি হরমোন, বোরণ বা জিংক প্রয়োগ করলে কিছুটা প্রতিকার মিলতে পারে।
তাপদাহ ও অনিয়মিত বৃষ্টির এমন প্রভাবে রাজশাহীর সুস্বাদু লিচু উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। চাষিরা এখন তাকিয়ে আছেন অনুকূল আবহাওয়ার দিকে।