ঢাকা, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

ইসরায়েলের কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিন নারী জাতীয় দলের ফুটবলার

স্পোর্টস ডেস্ক


প্রকাশ: ৪ জুন, ২০২৬ ১৫:৩৩ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২১ বার


ইসরায়েলের কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিন নারী জাতীয় দলের ফুটবলার

ফিলিস্তিন জাতীয় নারী ফুটবল দলের খেলোয়াড় রান্দ হালাওয়ানিকে আটক করেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। জেরুজালেমে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠানোর পর তাকে দীর্ঘ সময় ধরে আটকে রাখা হয় বলে নিশ্চিত করেছে ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা।

 

আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ২০ বছর বয়সী এই নারী ফুটবলারকে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গ্রেফতার করা হয়। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিনি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (পিএফএ)।

 

ফিলিস্তিনি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হালাওয়ানি এবং দলের সাবেক এক নারী ফুটবলারকে গ্রেফতারের এই ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি ফিলিস্তিনি ক্রীড়াবিদদের ওপর ইসরায়েলের সুপরিকল্পিত ও পদ্ধতিগত নিপীড়নের একটি অংশ, যা কোনো জবাবদিহিতা ছাড়াই দিনের পর দিন চলে আসছে।

জেরুজালেমের ফিলিস্তিনি গভর্নর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ইসরায়েলি একটি আদালত হালাওয়ানির আটকাদেশ আগামী শুক্রবার পর্যন্ত বাড়িয়েছে।

 

এর আগে গত মঙ্গলবার অধিকৃত পশ্চিম তীর থেকে ফিলিস্তিন জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার এবং বিরজিট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী নাটালি আবু দিয়াহসহ আরও তিন তরুণীকে গ্রেফতার করে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।

ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, এই চার তরুণী ‘সন্ত্রাসবাদী কার্যক্রম ও এর সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে উসকানি’ দেওয়ার সন্দেহে অভিযুক্ত।

 

তবে এই গ্রেফতারের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বিরজিট ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ। এক বিবৃতিতে তারা উল্লেখ করেছে, এটি ফিলিস্তিনি শিক্ষা ব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন চালিয়ে যাওয়ার অধিকারের ওপর ইসরায়েলের ‘পদ্ধতিগত দমননীতিরই’ একটি অংশ।

নাটালি আবু দিয়াহ যে চার্চের অন্তর্ভুক্ত, সেই ইভানজেলিকাল লুথারান চার্চের বিশপ ইমাদ হাদ্দাদ অবিলম্বে তার মুক্তির দাবি জানিয়েছেন। গত মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তিনি গভীর ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘এই খবর আমাদের গভীরভাবে স্তব্ধ ও আতঙ্কিত করেছে। একই সঙ্গে দুঃখজনক যে, নাটালির পরিবার এখনো জানে না তাকে ঠিক কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের বন্দি অধিকার বিষয়ক প্রধান সংগঠন ‘প্রিজোনার্স ক্লাব’-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইসরায়েলের বিভিন্ন কারাগারে ৮৯ জন ফিলিস্তিনি নারী বন্দি রয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনটি শিশু এবং তিনজন গর্ভবতী নারীও আছেন। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের আওতাধীন এই সংগঠনটি মে মাসের শেষের দিকে জানায়, ইসরায়েলি নাগরিকদের অন্তর্ভুক্ত করাসহ বর্তমানে ৯ হাজার ৪০০-এরও বেশি ফিলিস্তিনি ইসরায়েলের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন।


   আরও সংবাদ