ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

শূন্যরেখায় আটকে আছে ১১ জন

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ৮ জুন, ২০২৬ ১০:৩৯ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৭ বার


 শূন্যরেখায় আটকে আছে ১১ জন

ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ১১ জনকে অবৈধভাবে পুশ-ইনের চেষ্টা করেছে। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা না নেওয়ায় ওই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

বাংলাদেশে ঢুকতে না পারা ওই ১১ জন ৩৬ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আটকে আছে শূন্যরেখায়। পতাকা বৈঠকের পরেও বিএসএফ কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় সমাধান মেলেনি।

ফলে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।

 

রোববার (৭ জুন) বিকেল পর্যন্ত ওই ১১ জনকে শূন্যরেখায় বিছানা পেতে অপেক্ষা করতে দেখা যায়।

এদের মধ্যে রয়েছেন ৩ জন পুরুষ, ৪ জন নারী ও ৪ জন শিশু। 

 

তাদের মধ্যে একজন নারী ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এবং এক শিশু প্রতিবন্ধী।

প্রচণ্ড রোদ, বৃষ্টি ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন-রাত কাটাতে হচ্ছে তাদের। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবার অভাবে পরিস্থিতি ক্রমশই সংকটাপন্ন ও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। 

 

জানা গেছে, শুক্রবার (৫ জুন) ভোর সাড়ে ৩টার দিকে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১১ জনকে ঠাকুরগাঁওয়ের মশালগাঁও সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবি তাৎক্ষণিকভাবে ওই পুশ-ইন প্রতিহত করলে তারা দুই দেশের মধ্যবর্তী শূন্যরেখার কাছে অবস্থান নিতে বাধ্য হন। এরপর থেকেই খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।

এদের মধ্যে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী রোজিনা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানায়, বাবা-মায়ের সঙ্গে ভারতের কলকাতায় বসবাস করছিল সে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদের আটক করার পর প্রায় ১২ দিন বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ঘোরানোর পর শেষ পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও সীমান্তে এনে ছেড়ে দেয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সীমান্তের জমির আইলে বসে থাকা নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের অবস্থা অত্যন্ত করুণ। মানবিক কারণে আশপাশের গ্রামবাসী শুকনো খাবার ও পানি পৌঁছে দিলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। দীর্ঘ সময় ধরে আটকে থাকায় শিশুদের মধ্যে আতঙ্ক ও অসুস্থতার লক্ষণও দেখা দিয়েছে।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি ও মানবাধিকারের তোয়াক্কা না করেই বিএসএফ বাংলাদেশি নাগরিকদের জোরপূর্বক সীমান্তে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। 

৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, বিজিবির পক্ষ থেকে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে অবৈধ পুশ-ইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। আইন ও নীতিমালা অনুযায়ী যথাযথ প্রমাণসহ বাংলাদেশি নাগরিকদের হস্তান্তর করা হলে আমরা গ্রহণ করব। তবে কোনো ধরনের অবৈধ পুশ-ইন গ্রহণ করা হবে না।

এদিকে, প্রায় ৩৬ ঘণ্টা ধরে শূন্যরেখায় আটকে থাকা নারী, শিশু ও অসহায় মানুষের মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয়রা বলছেন, বিষয়টি শুধু সীমান্ত নিরাপত্তার নয়, এটি এখন একটি মানবিক সংকটে রূপ নিয়েছে। 

দ্রুত কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগ নিয়ে তাদের নিরাপদ সমাধান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।


   আরও সংবাদ