ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১০ জুন, ২০২৬ ০৯:৪৭ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৫ বার
বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণ করতে একটি মহল বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।
মঙ্গলবার (৯ জুন) রাজধানীর সূত্রাপুর কমিউনিটি সেন্টারে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক, সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে দুস্থদের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, গত ১৭ বছর দেশের জনগণ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নিয়েছে মাত্র একশ দিনের কিছু বেশি সময় আগে। এত অল্প সময়ে একটি সরকারের পূর্ণ মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, বিগত ১৭ বছরে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে। একইসঙ্গে বিভিন্ন খাতে দলীয়করণের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কাঠামো দুর্বল করা হয়েছে।
এসব পরিস্থিতি মোকাবিলা করেই সরকারকে এগিয়ে যেতে হচ্ছে।
সরকারকে ব্যর্থ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা হচ্ছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী কিছু দল এমনভাবে কথা বলছে যেন বর্তমান সরকার দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় রয়েছে। জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। তবে দেশের সাধারণ মানুষ সচেতন এবং তারা দেশের স্বার্থ সম্পর্কে ভালো বোঝেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইশরাক হোসেন বলেন, বর্তমান সংসদে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা এবং মন্ত্রিসভার অধিকাংশ সদস্যই প্রথমবারের মতো দায়িত্ব পালন করছেন। তবে এটিকে তিনি দুর্বলতা নয়, বরং জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শক্তি হিসেবে দেখছেন।
তিনি আরও বলেন, জনগণের কাছে জবাবদিহির বিষয়টি সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। একটি বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের আমলের অসমাপ্ত প্রকল্পগুলোর ব্যয় ও সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হলে প্রধানমন্ত্রী জনগণের কাছে জবাবদিহির বিষয়টি সামনে আনেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা রাষ্ট্র পরিচালনা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
জনগণের প্রতি ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, সরকার ধাপে ধাপে সমস্যাগুলোর সমাধানে কাজ করছে। আওয়ামী লীগ সরকারের মতো নয়, বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছে এবং আবারও জনগণের কাছেই ফিরে যেতে হবে। সে কারণে জনগণের স্বার্থের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
নিজের নির্বাচনী এলাকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি এখন বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে মাদক সমস্যা মহামারি আকার ধারণ করেছে। দেশি-বিদেশি নানা চক্রান্ত মোকাবিলা করেও সরকার এ সমস্যা সমাধানে কাজ করছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাদক ব্যবসায়ী বা মাদকের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। তারা যে পরিচয়ই দেওয়ার চেষ্টা করুক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদক মামলায় জামিনের বিষয়টিও সংসদীয় দলের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে এবং আইনমন্ত্রীকে কঠোর আইন প্রয়োগের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শের কথা উল্লেখ করে ইশরাক হোসেন বলেন, দেশের স্বার্থ ও জনগণের অধিকারের প্রশ্নে বিএনপি আপস করবে না। দেশি-বিদেশি নানা ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি হতে হলেও তা মোকাবিলা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, আগামী সপ্তাহ থেকে তিনি তার নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি ওয়ার্ডে গিয়ে মানুষের সমস্যার খোঁজ নেবেন এবং সেগুলোর সমাধানে কাজ করবেন। শুধু গণমাধ্যমে বক্তব্য দিয়ে চলে যাওয়াই তার রাজনীতি নয়, বরং মানুষের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে তাদের সমস্যার সমাধান করাই হবে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূল লক্ষ্য।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক (দপ্তর) সাইদুর রহমান মিন্টু, যুগ্ম আহ্বায়ক ঢাকা মহানগর দক্ষিণ মকবুল ইসলাম টিপু, আব্দুস সাত্তার, সূত্রাপুর থানা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ আজিজুল ইসলাম, গেন্ডারিয়া থানা সভাপতি আব্দুল কাদির, শ্রমিক দলের দক্ষিণের সভাপতি সুমন ভূঁইয়া প্রমুখ।