ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৪ জুন, ২০২৬ ০৯:৩৮ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৮ বার
দেশের শ্রম আইন অনুযায়ী কারখানা মালিকের নিট মুনাফার ৫ শতাংশ শ্রমিকদের দেওয়ার কথা থাকলেও অধিকাংশ শিল্প কারখানা তা দেয় না।
তৈরি পোশাক খাতের মতো দেশের বড় শিল্প খাতও তাদের শ্রমিকদের মুনাফার ৫ শতাংশ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি নিয়েছে।
বিদেশি তেল-গ্যাস অনুসন্ধানকারী কোম্পানিগুলো এই হার ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ দশমিক ৫০ শতাংশ করে নিয়েছে।এখন দেশি কোম্পানিগুলোও চায় বিদেশি কোম্পানিগুলোর মতো অংশগ্রহণ তহবিল বা ‘প্রডাক্টিভিটি গেইন শেয়ারিং’ কার্যকর হোক।
শ্রম আইন-২০০৬ অনুযায়ী, ‘প্রত্যেক অর্থবছর অতিবাহিত হওয়ার নয় মাসের মধ্যে, পূর্ববর্তী সংশ্লিষ্ট বছরের নিট মুনাফার ৫ শতাংশ অর্থের— ১) ৮০ শতাংশ অংশগ্রহণ তহবিল, ২) ১০ শতাংশ কল্যাণ তহবিল এবং ৩) ১০ শতাংশ বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন আইন, ২০০৬-এর ধারা ১৪-এর অধীন স্থাপিত শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন তহবিলে প্রদান করতে হবে।’
নিট মুনাফার ৫ শতাংশের ৮০ শতাংশ হলো অংশগ্রহণ তহবিল।
এই তহবিল শ্রমিকদের মাঝে বণ্টিত হবে, যার দুই-তৃতীয়াংশ সরাসরি শ্রমিকদের মাঝে বিতরণ করা হবে। আর এক-তৃতীয়াংশ বিনিয়োগ করা হবে এবং বিনিয়োগের মুনাফা শ্রমিকদের মাঝেই বিতরণ করা হবে।
কল্যাণ তহবিলের ১০ শতাংশ ব্যবহারের জন্য গঠিত ট্রাস্টি বোর্ডের মাধ্যমে শ্রমিক কল্যাণে ব্যবহার করা হবে।
বাকি ১০ শতাংশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন পরিচালনা করবে। এই অর্থ সাধারণ প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত শ্রমিকদের কল্যাণ সাধনের জন্য একটি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ব্যবহার করা হবে। বর্তমানে এই তহবিল শ্রম মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। এই তহবিলে বর্তমানে প্রায় এক হাজার তিনশ কোটি টাকা জমা রয়েছে।
জানা গেছে, অংশগ্রহণ তহবিলের অর্থ শ্রমিকদের মাঝে বিতরণ করার কথা থাকলেও, কিছু প্রতিষ্ঠান তা দিলেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান দেয়নি। দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের কোনো কারখানাই শ্রমিকদের মুনাফার ৫ শতাংশ দেয় না। বিদেশি তেল কোম্পানিগুলো সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এই অংশগ্রহণ তহবিলকে ৫ শতাংশ থেকে ১.৫০ শতাংশে নামিয়ে এনে একটি অধ্যাদেশ জারি করিয়ে নিয়েছে, যা তারা তাদের শ্রমিক-কর্মচারীদের মাঝে বিতরণ করছে।
প্রায় দেড় দশক আগে এক গবেষণায় আলতাফ পারভেজ দেখিয়েছিলেন, আইন থাকলেও তা কার্যকর না করার ফলে অংশগ্রহণ তহবিল বাবদ শ্রমিকরা মালিকদের কাছে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা পাবেন। আইন অনুযায়ী প্রাপ্য হলেও মালিকরা তা দেয়নি; শ্রমিকরা সংগঠিত ও সচেতন না হওয়ার কারণে আদায় করতে পারেনি, আবার সরকারের পক্ষ থেকেও আদায়ের পক্ষে কোনো ভূমিকা রাখা হয়নি।
এ বিষয়ে আলতাফ পারভেজ বাংলানিউজকে বলেন, ‘মালিকের নিট মুনাফার ৫ শতাংশ শ্রমিকদের দেওয়ার যে আইনটা আছে, তা ভালো। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটার পরিমাণ আরও বেশি হওয়া উচিত। কিন্তু আইন তো বাস্তবায়ন হয় না। কিছু কিছু করপোরেট প্রতিষ্ঠান হয়তো কিছুটা বাস্তবায়ন করে; কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই আইনটার বাস্তবায়ন নেই। এবং এটার প্রচারও তেমন নেই, অনেক শ্রমিকও এটা জানেন না। আর দ্বিতীয় বিষয় হলো, যেহেতু এখন প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠান বা অর্গানাইজড সেক্টর কম। এখন তো সবাই আনঅর্গানাইজড ঠিকাদারি শ্রমিকের যুগে আছে। হয়তো অনেক বড় প্রতিষ্ঠানে অনেক কর্মীও আছেন, কিন্তু দেখা গেল এসব কর্মী চুক্তিভিত্তিক। ওই আইনটা ফাঁকি দেওয়ার জন্যই মালিকরা এভাবে করে রেখেছেন। বলতে গেলে পুরো শ্রমখাতটাই অসংগঠিত খাত হয়ে যাচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই ধরনের আইনগুলো যখন কাজ করে, তখন শিল্প খাত খুব সংগঠিত বা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়। কিন্তু শিল্পকে বানিয়ে ফেলা হয়েছে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত। মন্ত্রণালয়ের নজরদারিও নেই, ট্রেড ইউনিয়নগুলোও দুর্বল হয়ে গেছে। আগের মতো আর শক্তিশালী ট্রেড ইউনিয়ন নেই, সৎ শ্রমিক নেতার সংখ্যাও কমে গেছে। এসব মিলে আমার মনে হয় না এখন আর নতুন অনুসন্ধানের প্রয়োজন আছে। এজন্য আমার লেটেস্ট অনুসন্ধান নেই। তবে আমি যতদূর দেখেছি, ওই করপোরেট কিছু প্রতিষ্ঠান এই আইন পরিপালন করে বলে দেখায়, কিছু পালন করে। কিন্তু অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান একদমই অনুসরণ করছে না।’
এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের শ্রম সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার শ্রমিক অধিকার বিশেষজ্ঞ এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, ‘বর্তমানে অনেক দেশীয় প্রতিষ্ঠানও এই টাকা দিচ্ছে। তবে সমস্যা শুরু হয় ২০১৩ সালের পর থেকে। ২০১৩ সালের শ্রম আইন সংশোধনীতে যখন বলা হয় যে, এই লভ্যাংশ অফিসাররাও পাবেন; এটি মূলত কিছু বহুজাতিক কোম্পানির চাপে করা হয়েছিল। যেমন কাফকো, যেখানে শ্রমিকের চেয়ে অফিসারের সংখ্যা বেশি। তাদের লভ্যাংশ অনেক বেশি হওয়ায় শ্রমিকরা অনেক টাকা পেয়ে যাচ্ছিল, যা তারা নিয়ন্ত্রণ করতে চাচ্ছিল।’
‘এরপর এক পর্যায়ে গার্মেন্টস সেক্টরকে এই ৫ শতাংশের বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং তাদের জন্য একটি ‘সেন্ট্রাল ফান্ড’ গঠন করা হয়। সেখানে তারা রপ্তানি মূল্যের ০.১ শতাংশ দেওয়ার কথা। পরবর্তীতে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানকারী কোম্পানিগুলোও চাপ দিতে থাকে যাতে তাদের ক্ষেত্রেও এটি কমানো হয়,’ যোগ করেন তিনি।
সৈয়দ সুলতান আহমেদ আরও বলেন, ‘শ্রমিকদের এই টাকাটা এখন অফিসারদের মধ্যেও ভাগ হচ্ছে। এমনকি গার্মেন্টস সেক্টরকে আইন সংশোধন করে এর বাইরে রাখা হয়েছে। তবে শর্ত ছিল যে, সরকার বিকল্প কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করলে তারা অব্যাহতি পাবে। কিন্তু সেন্ট্রাল ফান্ডের মাধ্যমে গার্মেন্টস শ্রমিকরা সরাসরি লভ্যাংশ পাচ্ছেন না; সেখান থেকে শুধু বিমা বা দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এটি আসলে শ্রমিকদের মুনাফার অংশ পাওয়ার যে অধিকার ছিল, তা থেকে তাদের বঞ্চিত করছে।’
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের তৈরি পোশাক খাত এখন সংগঠিত শিল্পে পরিণত হয়েছে। চল্লিশ লাখ শ্রমিক এই খাতে কর্মরত রয়েছেন। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন থেকে শুরু করে ব্যাংক-বিমা, যোগাযোগসহ বিভিন্ন শিল্প ও সেবা খাত তৈরি পোশাক খাতকে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে। কিন্তু এই পোশাক শিল্পের শ্রমিকরাই আইনি অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অন্যান্য খাতের অধিকাংশ শিল্প ও সেবা খাতেও ক্ষুদ্র একটি অংশের শ্রমিক ছাড়া প্রায় সবাই এই আইনি অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সৈয়দ সুলতান আহমেদ বলেন, ‘এই আইনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো সম্ভব। একজন শ্রমিক যখন জানবে যে কোম্পানির লভ্যাংশের একটি অংশ সে পাবে, তখন তার কাজের প্রতি এক ধরনের মালিকানা তৈরি হয়। বাংলাদেশে প্রোডাক্টিভিটি বাড়ানোর জন্য এর চেয়ে ভালো আর কোনো আইন নেই। কিন্তু বর্তমানে আউটসোর্সিং বা ক্যাজুয়াল শ্রমিকদের এই সুবিধার বাইরে রাখা হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।’
তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালে যে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন হলো, যেখানে ছাত্র-শ্রমিক সবাই জীবন দিল—এরপরও যদি এমন বৈষম্যমূলক পরিস্থিতি বজায় থাকে, তবে তা মেনে নেওয়া যায় না। আমাদের উচিত সরকারকে এ বিষয়ে কঠোর হতে বলা, যাতে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো দেশের মুনাফা বাইরে নিয়ে যাওয়ার আগে এদেশের শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা বুঝিয়ে দেয়। অনেক কোম্পানি বিনিয়োগ না করার অজুহাত দেয়, কিন্তু ভারত বা জার্মানিতেও সিএসআর বা এই ধরনের আইন বাধ্যতামূলক। তারা সেখানে ব্যবসা করতে পারলে বাংলাদেশে কেন করবে না?’
শ্রমিক নেতারা বলেন, অংশগ্রহণ তহবিল বা প্রডাক্টিভিটি গেইন শেয়ারিং কার্যকর হলে নিট মুনাফার ৪ শতাংশ সরাসরি শ্রমিকরা পেতে পারে। ০.৫ শতাংশ শ্রমিকদের কল্যাণমূলক কাজে ব্যবহৃত হবে এবং বাকি ০.৫ শতাংশ সরকারের ব্যবস্থাপনায় শ্রমিক কল্যাণে ব্যবহৃত হবে। এই টাকা শুধু সংশ্লিষ্ট কারখানার শ্রমিকরাই পাবে তা নয়, যেসব অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত অংশগ্রহণ তহবিলে টাকা দেবে না, ওই খাতের শ্রমিকরাও এই সুবিধা পাবে। তাদের পরিবারের কল্যাণে অর্থ ব্যবহৃত হবে। কিন্তু তারা সেটা পাচ্ছে না।
আশুলিয়ার তৈরি পোশাক শ্রমিক আমিরুল ইসলাম জানেনই না প্রডাক্টিভিটি শেয়ারিং গেইন তহবিল কী! তিনি ফোনে বাংলানিউজকে বলেন, ‘এ সম্পর্কে আমি জানি না। এগুলো থাকলে তো ভালোই হয়। ছেলে-মেয়েকে স্কুলে পড়ানোর জন্য খরচ করতে পারতাম। এখন চাকরি করে যে বেতন পাই, এই আয় দিয়ে কোনোমতে সংসারটা চলে। তাই ছেলে-মেয়ে দুইটাকে কম খরচে মাদ্রাসায় পড়তে দিয়েছি।’
৪৬ বছর বয়সে চাকরি হারিয়ে রাজধানীর মিরপুর-১০ এলাকায় রাস্তার পাশে সবজি বিক্রি করছেন আবু ইউসুফ। তিনি বলেন, ‘এটা নিয়ে কথা বলে লাভ নেই। এসব তহবিল থাকলে হয়তো এখনো আমার চাকরি করার অধিকার থাকতো, কাজ কমে গেছে বলে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করা হতো না। পাশাপাশি তহবিলের টাকা পেতাম। সেটা হলে আমাকে বেঁচে থাকার জন্য এখানে রাস্তার পাশে সবজি বিক্রি করা লাগতো না।’
শ্রম আইনে মুনাফার ৫ শতাংশ দেওয়ার কথা বলা হলেও কিছু প্রতিষ্ঠান দিলেও অধিকাংশ দিচ্ছে না। আবার তৈরি পোশাক শিল্প মালিকরা এই আইনের বাধ্যবাধকতা থেকে বেরিয়ে গেছেন। বিদেশি তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কোম্পানিগুলোও ৫ শতাংশের বাধ্যবাধকতা থেকে বেরিয়ে ১.৫ শতাংশ দেওয়ার বিষয়টি অন্তর্বর্তী সরকারের মাধ্যমে কার্যকর করেছে। এখন দেশি যেসব প্রতিষ্ঠান এই অর্থ দিচ্ছে, তাদের পক্ষ থেকেও দাবি তোলা হচ্ছে—একই দেশে দুই নিয়ম নয়, তাদের মুনাফার ৫ শতাংশের পরিবর্তে ১.৫ শতাংশ করা হোক।
বাংলাদেশ ওশান গোয়িং শিপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিওজিএসওএ) সভাপতি আজম জে চৌধুরী গত ২ জুন এক অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রীর কাছে মালিকদের নিট মুনাফার ১.৫ শতাংশ শ্রমিকদের দেওয়ার বিষয়টি কার্যকর করার দাবি জানান।
আজম জে চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশে বিনিয়োগকারী দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে এ ব্যবস্থার পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে আসছে।” তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের চাপের মুখে সরকার ডব্লিউপিপিএফের হার ১ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে।
তবে তার মতে, বিদেশি ও স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য ভিন্ন নীতি গ্রহণ করা উচিত হবে না। তিনি বলেন, “এক দেশে দুই ধরনের আইন হতে পারে না। যদি হার ১.৫ শতাংশ করা হয়, তাহলে তা সব বিনিয়োগকারীর জন্য সমভাবে প্রযোজ্য হতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, শ্রমিকের সঠিক সংজ্ঞা না থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠানে ফান্ডের বড় অংশ কর্মকর্তাদের মধ্যে বণ্টিত হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, কাফকোতে গত বছর প্রায় ৫০০ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে, যার প্রায় ৮৫ শতাংশই কোম্পানির কর্মকর্তাদের কাছে গেছে, শ্রমিকদের কাছে নয়।
এ বিষয়ে শ্রমিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, “মালিককে মুনাফার ৫ শতাংশ শ্রমিককে দিতে হবে, বড় কথা হচ্ছে এটা আইন। এক দেশে দুই আইন চলতে পারে না। বিদেশি বিনিয়োগ বলে তারা দেশের সম্পদ নিয়ে যাবেন, প্রয়োজনে তাদের ওপর ট্যাক্স তো বাড়ানো দরকার। তাদের মুনাফায় অংশগ্রহণের হারটা কমিয়ে দেওয়া হবে কেন? এটা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার করলো এবং পরে আমরা দেখলাম শ্রম উপদেষ্টাও বললেন যে, তারা নাকি বিদেশিদের চাপে এটা করতে বাধ্য হয়েছেন। এখন আমাদের দেশি মালিকরা যে যুক্তিটা দিচ্ছেন, তারা বলছেন—যেহেতু বিদেশিরা ১.৫ শতাংশ দেবেন, তাহলে আমরা দেশিরা কেন ৫ শতাংশ দেব! মূল উদ্দেশ্য তাদের ওই জায়গাটায়। তারাও মুনাফার অংশটা থেকে শ্রমিকদের বঞ্চিত করতে চান। এটা গেল একটা দিক।”
‘শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনে যে সামান্য টাকা দেওয়া হচ্ছে, সেটারও সঠিক ব্যবহার হচ্ছে না। বর্তমানে এই শ্রমিকদের টাকা নিয়ে শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের তহবিলে প্রায় ১৩০০ কোটি টাকার মতো জমা আছে। এই টাকা নিয়ে নানা ধরনের কথাবার্তা আসে। এখন প্রয়োজন হচ্ছে এই দুর্নীতিটা বন্ধ করা, যাতে শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের তহবিলটা যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা করা হয়। শ্রমিকরা যারা আপদে-বিপদে পড়ে তারা যেন পান; শ্রমিকদের মৃত্যুজনিত, তাদের অসুস্থতাজনিত, তাদের সন্তানের লেখাপড়াজনিত অথবা অন্যান্য ক্ষেত্রে তারা যেন সঠিকভাবে এই টাকাটা পান,’ যোগ করেন তিনি।
অংশগ্রহণ তহবিলের অবস্থা অনেকটা ‘কাজীর গরু কেতাবে আছে, গোয়ালে নেই’ বলে মনে করেন গার্মেন্টস অ্যান্ড সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক কাজী রুহুল আমিন। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, ‘শ্রম আইন অনুযায়ী মালিকের নিট মুনাফার ৫ শতাংশ শ্রমিকদের কল্যাণে দিতে হবে, এটা শ্রমিকের অধিকার। কিন্তু এই আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মালিকরা যেমন আইন মানছেন না, তেমনি বিগত সরকারগুলোকেও আমরা উদাসীন দেখেছি। সম্প্রতি রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে শ্রমিকদের জন্য বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির কথা বলেছে, যেমন—৬ মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি, সামাজিক সুরক্ষা এবং আইএলও কনভেনশন বাস্তবায়ন। আমরা চাই এই ৫ শতাংশ লভ্যাংশ যেন প্রতিটি শ্রমিক পায়, যা তাদের জীবনযাত্রার মান কিছুটা হলেও উন্নত করবে।’