ঢাকা, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

জুলাইয়ে অসংখ্য নারীর রক্তের বিনিময়ে স্বৈরাচারী শাসনের অবসান

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ২ জুলাই, ২০২৬ ০৯:৩৬ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৯ বার


জুলাইয়ে অসংখ্য নারীর রক্তের বিনিময়ে স্বৈরাচারী শাসনের অবসান

।। মিতা রহমান।।

স্বৈরাচার  ফ্যাসীবাদ বিরোধী ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে বাংলাদেশের নারী সমাজের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত সাহসীঅদ্বিতীয়  প্রেরণাদায়ক। তারা শুধু ঘর থেকে সমর্থন জানাননিবরং রাজপথে সরাসরি নেতৃত্ব দিয়েছেনবুলেট  টিয়ারশেলের মুখে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছেন গণতন্ত্রকে মুক্তি দিতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোর তালা ভেঙে নারী শিক্ষার্থীরা প্রথম প্রতিবাদে নামেনমিছিলের প্রথম সাড়িতে রাজপথে স্লোগান দিয়ে পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার দায়িত্ব পালন করেছেন। লাঠি  ইট হাতে তারা পুলিশ  অন্যান্য বাহিনীর সামনে প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। প্রত্যেকটি পরিবারের মায়েরা  গৃহিণীরা অকুতোভয় সৈনিকের মতো রাস্তায় নেমেছিলেন। তারা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের জন্য খাবারপানি  স্যালাইনের ব্যবস্থা করেছেন এবং আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছেন। কোটা আন্দোলন থেকে এক দফা। জুলাইয়ের রক্তাক্ত‌‌ ইতিহাসে জড়িয়ে আছে শত সহস্র নারীর নাম। প্রাণ দিয়েছেন নাম না জানা অনেক নারীহামলা আর নির্যাতনের শিকারও হয়েছেন অনেকে।

 

জুলাই আন্দোলনে অনেক নারী গুরুতর আহত হয়েছেন এবং ১১ জন নারী তাঁদের জীবন বিসর্জন দিয়েছেন। মাইলস্টোন স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাঈমা সুলতানা ছিলেন এই অভ্যুত্থানের প্রথম নারী শহিদদের একজন। আন্দোলনের পর রাষ্ট্র গঠনে  অধিকার রক্ষায় নারীরা এখনো সোচ্চার রয়েছেন। সমান অধিকার  নিরাপদ সমাজ গড়তে তারা বিভিন্ন সময় নতুন করে মিছিল  সমাবেশের মাধ্যমে নিজেদের দাবি তুলে ধরছেন। ’২৪এর রক্তাক্ত জুলাইয়ে এমন হাজার হাজার নারীর সাহসী লড়াই পুরো জাতিকে এনে দিয়েছে অদম্য এক জয়ের ইতিহাস। ‘কোনো কালে একা হয়নিকো জয়ী পুরুষের তরবারিপ্রেরণা দিয়েছে শক্তি দিয়েছে বিজয়ী লক্ষ্মী নারী।’ নজরুলের এই কবিতা যেন আবারও সত্য হয়েছে ’২৪এর স্বৈরাচার বিরোধী লড়াইয়ে। কোটা আন্দোলন থেকে গণ-অভ্যুত্থানলাখো নারীর কণ্ঠে তখন দ্রোহ জাগানীয়া স্লোগান। ছিলেন মিছিলেরাজপথেসমরেসংগ্রামে। ঝরেছে অশ্রুঝরেছে রক্তকিন্তু লড়াইয়ের ময়দানে কোনো কিছুই বাঁধ হতে পারেনি।

 

২০২৪ এর ১৪ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের নারী শিক্ষার্থীরা তালা ভেঙে মধ্যরাতে প্রথম রাস্তায় নেমে আসেন নারী শিক্ষাত্রীরা। তাদের এই সাহসী পদক্ষেপ পুরো দেশবাসীকে অনুপ্রাণিত করে। সেই থেকে নারীরা প্রায়ই বিক্ষোভের সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে পুরুষ সহযোদ্ধাদের রক্ষা করার চেষ্টা করেছেন। অনেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী নারীদের অনেকে নির্মমভাবে জীবন দিতে হয়েছে এবং অনেকে গুরুতর আহত হয়েছেন। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের ছত্রছায়ায় ‘অসীম শক্তিধর’ আওয়ামী সন্ত্রাসীবেপরোয়া র‌্যাব-পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনীর তাক করা অস্ত্র-গুলির সামনে তেজোদীপ্ত-সাহসী নারীরা ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। তাদের প্রতিবাদ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের জন্য টনিক হিসাবে কাজ করেছিল। তারা সন্তানদের পাশে এসে দাঁড়ান অকুতোভয় সৈনিকের মতো। ৩৬ দিনের আন্দোলনে এসব সাহসী বীর নারীর অবদান অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই।

 

কিন্তুদুঃখজনক হলেও সত্যগণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারী সরকারের বিদায় হলেও নারী কি তাদের হিস্যা বুঝে পেয়েছেন  প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকর্মক্ষেত্রগুলোয় নারীরা এখনো বৈষম্যের শিকার। নতুন বাংলাদেশে নারীর প্রতি আরও সহনশীল হওয়ার প্রয়োজন থাকলেও তা এখনো হয় নাই। সরকার  দেশের সবাইকে মনে রাখতে হবেএই বাংলাদেশে শুধু নারী হিসাবে নয়একজন মানুষ হিসাবে মর্যাদা দিতে হবে। সবাইকে মনে রাখতে হবেছাত্র-জনতার জুলাই আন্দোলনে ‘পেছনে পুলিশসামনে স্বাধীনতা।’ সাহসী শিক্ষার্থী সানজিদা চৌধুরীর অগ্নিঝরা  বাক্যটি শক্তি জুগিয়েছে আন্দোলনকারীদের। একটা চরম বার্তা পেয়েছিল স্বৈারাচারী সরকারের প্রধান শেখ হাসিনা। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪-এর জুলাই

...
 


   আরও সংবাদ