স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ জুলাই, ২০২৬ ০৯:৪২ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩৭ বার
ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাস নতুন করে লিখল মিসর। ডালাস স্টেডিয়ামে নাটকীয়তায় ঠাসা এক ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে ৪–২ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ফারাওরা।
১৯৩৪ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলতে নেমেছিল মিসর, আর তাতেই বাজিমাত করল মোহামেদ সালাহর দল।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে মিসর।
ফলও আসে হাতেনাতে। খেলার ১৩ মিনিটেই এক পরিকল্পিত আক্রমণ থেকে দলকে এগিয়ে নেন ইমান আশুর।
একটি ফ্রি-কিক থেকে মোহাম্মদ সালাহ সরাসরি শট না নিয়ে ছোট পাস দেন আশুরকে। আশুরের প্রথম শটটি প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে ফিরে এলেও, ফিরতি বলে নিখুঁত হেডে জাল খুঁজে নেন তিনি।
প্রথমার্ধে ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় মিসর।
বিরতির ঠিক পরপরই ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন ওমর মারমুশ। কিন্তু প্রতিপক্ষ গোলরক্ষককে একা পেয়েও লক্ষ্যভেদ করতে ব্যর্থ হন তিনি। মিসরের এই ভুলের খেসারত দিতে হয় ৫৫ মিনিটে। ফ্রি–কিক থেকে উড়ে আসা বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই জড়িয়ে দেন মিসরের ডিফেন্ডার মোহাম্মদ হানি। এই আত্মঘাতী গোলে ম্যাচে ১–১ সমতা ফেরায় অস্ট্রেলিয়া।
ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগ মুহূর্তে, যোগ করা সময়ে মিসরের একটি নিশ্চিত গোলের প্রচেষ্টা অবিশ্বাস্য দক্ষতায় রুখে দেন অস্ট্রেলিয়ার গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচ। ফলে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা ১–১ সমতায় শেষ হলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধেও কোনো দল গোল করতে না পারলে টাইব্রেকারের কথা মাথায় রেখে এক কৌশলগত চাল চালেন অস্ট্রেলিয়ার কোচ। প্যাট্রিক বিচকে তুলে নিয়ে মাঠে নামানো হয় অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ম্যাথু রায়ানকে। তবে কোচের সেই বাজি কাজে আসেনি।
১২০ মিনিটের খেলা ১–১ সমতায় শেষ হওয়ার পর শুরু হয় টাইব্রেকারের ভাগ্য পরীক্ষা। চতুর্থ শটেই ম্যাচের নিষ্পত্তি হয়ে যাওয়ায় পঞ্চম শটের আর প্রয়োজন হয়নি। টাইব্রেকারে ৪–২ ব্যবধানের এই মহাকাব্যিক জয়ে নতুন ইতিহাস গড়ে মাঠ ছাড়ে মিসর।