ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ৯ জুলাই, ২০২৬ ১৩:৫৫ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২১ বার
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি বিধান অবৈধ ঘোষণা করে দেওয়া হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে সংবিধানে গণভোটের বিধান ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টায় প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
এর আগে টানা তিন দিনের শুনানি শেষে বুধবার আপিলের রায় ঘোষণার জন্য ৯ জুলাই দিন ধার্য করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। রিটকারীর পক্ষে ছিলেন ড. শরীফ ভূঁইয়া এবং জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।
হাইকোর্ট গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর পঞ্চদশ সংশোধনীর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তি-সংক্রান্ত বিধানসহ কয়েকটি অংশ অসাংবিধানিক ঘোষণা করে বাতিল করেন। একই সঙ্গে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে গণভোটের বিধান পুনর্বহাল করেন। তবে পঞ্চদশ সংশোধনী পুরোপুরি বাতিল করা হয়নি।
রায়ে হাইকোর্ট বলেন, গণতন্ত্র সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশ এবং তা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বিকশিত হয়। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক তিনটি জাতীয় নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেনি এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতি জনআস্থা নষ্ট হয়েছে।
আদালত আরও বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা জনগণের অভিপ্রায়ের ভিত্তিতে সংবিধানে যুক্ত হয়েছিল এবং তা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশে পরিণত হয়েছে। এ কারণে পঞ্চদশ সংশোধনীর ২০ ও ২১ অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় বাতিল ঘোষণা করা হয়।
এ ছাড়া পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংযোজিত সংবিধানের ৭ক, ৭খ ও ৪৪(২) অনুচ্ছেদও বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে গণভোট বাতিল-সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনীর ৪৭ ধারা অসাংবিধানিক ঘোষণা করে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের আগের বিধান পুনর্বহাল করা হয়।
রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর বাকি বিধানগুলো বহাল থাকবে। তবে ভবিষ্যতে জাতীয় সংসদ আইন অনুযায়ী জনগণের মতামতের ভিত্তিতে সেগুলো সংশোধন, পরিমার্জন বা পরিবর্তন করতে পারবে।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৩০ জুন আওয়ামী লীগ সরকার সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী জাতীয় সংসদে পাস করে। ওই সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করা হয় এবং সংবিধানের ৫৪টি ক্ষেত্রে সংযোজন, সংশোধন ও প্রতিস্থাপন আনা হয়েছিল।