স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ জুলাই, ২০২৬ ০৯:২১ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৭ বার
নাহিদ রানা বল হাতে ক্যারিয়ারের সেরা পারফরম্যান্স উপহার দিলেন, প্রায় তিন বছর পর জাতীয় দলে ফিরে প্রথম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ফিফটিও পেলেন ইয়াসির আলি রাব্বি। কিন্তু এই দুই ইতিবাচক দিকও বাংলাদেশের হার এড়াতে পারল না।
শুরুতে বোলিংয়ে অতিরিক্ত রান খরচ আর পরে ব্যাটিং ব্যর্থতায় জিম্বাবুয়ের কাছে ৩২ রানের হার নিয়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু করেছে সফরকারীরা।
বুধবার (১৫ জুলাই) বুলাওয়েতে টস জিতে জিম্বাবুয়েকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় বাংলাদেশ।
কিন্তু শুরু থেকেই স্বাগতিক ব্যাটাররা চড়াও হন বাংলাদেশের বোলারদের ওপর। পাওয়ার প্লের ছয় ওভারেই তারা তুলে নেয় ৫৪ রান।
তাসকিন আহমেদ, নাসুম আহমেদ ও শেখ মেহেদী হাসান কেউই শুরুতে রান আটকাতে পারেননি।
ইনিংসের চতুর্থ ওভারে প্রথম সাফল্য এনে দেন নাহিদ রানা।
তার শর্ট বলে ডিপ স্কয়ার লেগে ধরা পড়ে ১৪ রান করা তাদিওয়ানাশে মারুমানি। ৩৭ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙলেও আক্রমণাত্মক ব্যাটিং চালিয়ে যান ব্রায়ান বেনেট।
ডিওন মায়ার্সকে নিয়ে দ্বিতীয় উইকেটে দ্রুত রান যোগ করেন বেনেট। নবম ওভারে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন মায়ার্সকে ২০ রানে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন। এরপর সিকান্দার রাজাকে নিয়ে আবারও রান তোলার গতি বাড়ান বেনেট। তবে ৩০ বলে ৪৪ রান করা এই ওপেনারকে ১১তম ওভারে ফিরিয়ে দেন নাহিদ।
এরপর সাইফউদ্দিন থামান ১৩ বলে ২০ রান করা সিকান্দার রাজাকে। আর নিজের শেষ ওভারে ম্যাচে বড় প্রভাব ফেলেন নাহিদ। পরপর দুই বলে মিল্টন শুম্বা (১১) ও তাশিঙ্গা মুসেকিয়াকে ফিরিয়ে জিম্বাবুয়েকে চাপে ফেলেন তিনি। যদিও হ্যাটট্রিকের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি।
শেষদিকে রায়ান বার্ল ২২ বলে অপরাজিত ৩০ এবং ব্র্যাড ইভান্স ৯ বলে ১৯ রান করে স্বাগতিকদের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ১৭০ রানে নিয়ে যান। শেষ ওভারে ১৮ রান দিয়ে ফেলায় রানটা খানিকটা বেশি হয়ে যায়।
নাহিদ ৪ ওভারে ২৬ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়ে গড়েন টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড। সাইফউদ্দিন নেন দুটি উইকেট।
১৭১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিল বাংলাদেশ। রিচার্ড এনগারাভার এক ওভারেই ফিরে যান দুই ওপেনার সাইফ হাসান (১২) ও তানজিদ হাসান (১৬)। এরপর ব্লেসিং মুজারাবানির বলে ৫ রান করে বিদায় নেন পারভেজ হোসেন।
দ্রুত তিন উইকেট হারানোর পর তাওহিদ হৃদয় ও ইয়াসির আলি কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। তবে ১৩ বলে ১৪ রান করে বড় শট খেলতে গিয়ে আউট হন হৃদয়। এরপর নুরুল হাসান সোহান অপ্রয়োজনীয় রান নিতে গিয়ে রানআউট হয়ে দলের বিপদ আরও বাড়ান।
এক প্রান্তে অবশ্য লড়াই চালিয়ে যান ইয়াসির। প্রায় তিন বছর পর জাতীয় দলে ফিরে ৩৩ বলে তুলে নেন নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ফিফটি। শেখ মেহেদীর সঙ্গে ৫২ রানের জুটি গড়ে ম্যাচে ফেরার আশা জাগান তিনি। তবে ১৮ বলে ১৯ রান করে মেহেদী আউট হলে সেই আশা ধাক্কা খায়।
শেষদিকে ইয়াসিরও ৩৮ বলে ৫৪ রান করে এনগারাভার শিকার হন। তার ইনিংসে ছিল দুটি চার ও তিনটি ছক্কা। এরপর দ্রুত বাকি উইকেটগুলো হারিয়ে ১৯ ওভারে ১৩৮ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ।
জিম্বাবুয়ের হয়ে রিচার্ড এনগারাভা ও ব্লেসিং মুজারাবানি চারটি করে উইকেট নেন।