ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ৯ অগাস্ট, ২০২৬ ১৫:৩১ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩০ বার
পার্বত্য চট্টগ্রামের উর্বর মাটি ও অনুকূল আবহাওয়ায় নানা ধরনের দেশি-বিদেশি ফলের চাষ হয়ে আসছে। অনাবাদি জমি ও পাহাড়ি টিলাগুলোতেও গড়ে উঠছে ফলের বাগান।
সেই ধারাবাহিকতায় এবার পাহাড়ের কৃষিতে নতুন বৈচিত্র্য যোগ করেছে বিদেশি ফল রাম্বুটান।
খাগড়াছড়ির সদর, মহালছড়ি ও পানছড়ি উপজেলায় শখের বশে বিচ্ছিন্নভাবে শুরু হওয়া রাম্বুটান চাষ এখন ধীরে ধীরে বাণিজ্যিক সম্ভাবনার দিকে এগোচ্ছে।
গাছে থোকায় থোকায় ঝুলে থাকা লালচে রঙের এই ফল দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, তেমনি স্বাদেও পেয়েছে মানুষের প্রশংসা। মৌসুমি ও দেশি-বিদেশি নানা ফলের ভিড়ে বাজারে রাম্বুটানও তৈরি করেছে আলাদা আকর্ষণ।

পাহাড়ের মাটিতে রাম্বুটান/ছবি: বাংলানিউজ
ফলটির গায়ে নরম কাঁটার মতো আবরণ থাকায় দূর থেকেই নজর কাড়ে। নতুন এই ফল দেখতে ও স্বাদ নিতে বাজারে ভিড় করছেন কৌতূহলী ক্রেতারা।
তবে চাহিদা বাড়লেও তুলনামূলক বেশি দাম এখনো এর বিস্তারের পথে অন্যতম বাধা। বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি রাম্বুটান বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা দরে।
খাগড়াছড়ির পানছড়ি ও মাটিরাঙা উপজেলার সীমান্তবর্তী পাহাড়ি জনপদ ঝর্ণাটিলায় ১০০ একর জমিতে গড়ে উঠেছে জোবায়ের এগ্রোর মিশ্র ফলের বাগান। সেখানে অন্যান্য ফলের পাশাপাশি শোভা পাচ্ছে লাল ও হলুদ রঙের রাম্বুটান। চলতি মৌসুমে বাগানটি থেকে প্রায় ৩ মেট্রিক টন রাম্বুটান বিক্রির আশা করছেন উদ্যোক্তারা।
বাগানের তত্ত্বাবধায়ক মো. মেরাজুল ইসলাম বলেন, বাগানে প্রায় দেড় হাজার রাম্বুটান গাছ রয়েছে। এর মধ্যে এবার প্রায় অর্ধেক গাছে ফল এসেছে। আম ও লিচুর মৌসুম শেষ হওয়ায় বর্তমানে রাম্বুটানই বাগানের প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি রাম্বুটান ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

পাহাড়ের মাটিতে রাম্বুটান/ছবি: বাংলানিউজ
পানছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস সালাম বলেন, রাম্বুটান চাষে উদ্যোক্তাদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। মাঠপর্যায়ে কৃষি বিভাগের কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় এই ফলের চাষও দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। বাজারজাতকরণসহ কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও রাম্বুটান চাষের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা রয়েছে।
রসালো ও সুস্বাদু এই বিদেশি ফলের প্রতি মানুষের আগ্রহও ক্রমেই বাড়ছে। স্থানীয়দের মতে, বাণিজ্যিকভাবে রাম্বুটানের চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে পাহাড়ি এলাকায় কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে। পাশাপাশি স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পর দেশের সমতল এলাকাতেও সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
পাহাড়ের মাটিতে বিদেশি ফলের এই নতুন অভিযাত্রা তাই শুধু কৃষিতে বৈচিত্র্য আনছে না, তৈরি করছে নতুন উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও। সঠিক পরিচর্যা, বাজারজাতকরণ ও সরকারি সহযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে রাম্বুটান ভবিষ্যতে পার্বত্য অঞ্চলের সম্ভাবনাময় বাণিজ্যিক ফলগুলোর একটি হয়ে উঠতে পারে।