স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ অগাস্ট, ২০২৬ ১৩:২৮ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৬ বার
ব্রাজিলিয়ান মহাতারকা নেইমার জুনিয়র ফের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ৩৪ বছর বয়সে সান্তোসে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা।
আগামী ৩১ ডিসেম্বর শেষ হতে যাচ্ছে ক্লাবটির সঙ্গে তার বর্তমান চুক্তির মেয়াদ। চুক্তি নবায়ন কিংবা দলবদল নিয়ে যখন নানা গুঞ্জন, ঠিক তখনই মার্কিন মুলুকের ইন্টার মায়ামি ফুটে উঠেছে তার ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ের এক নতুন গন্তব্য হিসেবে।
সাম্প্রতিক সময়ে সান্তোসের সঙ্গে নেইমারের সম্পর্ক নিয়ে কিছুটা টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। ব্রাজিলীয় গণমাধ্যম ‘জিই’-এর তথ্যমতে, শাপকোয়েন্সের বিপক্ষে ২-২ ড্রয়ের পর ক্লাবের অনুশীলন কেন্দ্রে এসে মাত্র কয়েক মিনিট অবস্থান করেন নেইমার।
এরপর প্রথম একাদশের রিকভারি সেশনে অংশ না নিয়েই কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া বেরিয়ে যান তিনি। এই ঘটনায় ক্লাব কর্তারা বেশ বিরক্ত হলেও পরবর্তী অনুশীলনে তিনি যোগ দেওয়ায় সান্তোস তার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি।
তবে আসল আলোচনা শুরু হয়েছে তার ভবিষ্যৎ গন্তব্য নিয়ে। ৩১ ডিসেম্বর চুক্তি শেষ হলে ফ্রি এজেন্ট হিসেবে যেকোনো ক্লাবে যাওয়ার সুযোগ পাবেন এই ফরোয়ার্ড। নেইমার নিজেও স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি সান্তোসে থাকা, নতুন দল খোঁজা কিংবা ফুটবলকে বিদায় জানানোর মতো সব পথই খোলা রাখছেন। এমন পরিস্থিতিতে ইন্টার মায়ামিতে লিওনেল মেসি এবং লুইস সুয়ারেজের সঙ্গে তার ফের একত্র হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠেছে।
২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বার্সেলোনায় একসঙ্গে খেলে বিশ্ব ফুটবলে রাজত্ব করেছিলেন মেসি, সুয়ারেস ও নেইমার; যাদের ফুটবল বিশ্ব একনামে ‘এমএসএন’ ত্রয়ী হিসেবে চেনে। কাতালান ক্লাবটির হয়ে তিন মৌসুমে তারা একটি চ্যাম্পিয়নস লিগ, দুটি লা লিগা ও তিনটি কোপা দেল রেসহ মোট ৯টি শিরোপা জেতেন। বিশেষ করে প্রথম মৌসুমে তাদের ট্রেবল জয়ের পথে তিনজনে মিলে সর্বমোট ১২২টি গোল (মেসি ৫৮, নেইমার ৩৯, সুয়ারেস ২৫) করেছিলেন।
সম্প্রতি ইন্টার মায়ামি থেকে সের্হিও বুসকেতস ও জর্দি আলবা বিদায় নেওয়ার পর ক্লাবটি এখন তাদের নতুন প্রজেক্ট সাজানোর পরিকল্পনা করছে। মেসি ও সুয়ারেস এখনো মায়ামিতে থাকায় নেইমারকে উড়িয়ে এনে সেই ঐতিহাসিক আক্রমণভাগকে পুনর্জীবিত করাটা শুধু মাঠের পারফরম্যান্সেই নয়, বাণিজ্যিকভাবেও বিশাল ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
অবশ্য এই দলবদলের ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। ৩৪ বছর বয়সী নেইমারের সাম্প্রতিক ক্যারিয়ার ইনজুরি এবং অনিয়মিত পারফরম্যান্সে জর্জরিত। ফুটবলের সহজাত প্রতিভা নিয়ে সংশয় না থাকলেও বর্তমান শারীরিক অবস্থায় তিনি কতটা কার্যকর হতে পারবেন, তা নিয়ে ফুটবল বিশ্লেষকদের মাঝে দ্বিমত রয়েছে। কারও মতে, বার্সার সেই ঐতিহাসিক ত্রয়ীকে ফিরিয়ে আনার এটাই সুবর্ণ সুযোগ; আবার অনেকের মতে, ফিটনেস বিবেচনায় এটি মায়ামির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ হতে পারে।
মায়ামির সঙ্গে এখনো নেইমারের কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি। শেষ পর্যন্ত তিনি কোন পথ বেছে নেবেন, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রয়েছে নেইমারের হাতেই। বার্সেলোনায় ইতিহাস গড়া ‘এমএসএন’ ত্রয়ীর রূপকথা কি তবে মায়ামির মাটিতে শেষ অধ্যায় লিখবে?; এই প্রশ্নের উত্তর পেতে ফুটবল বিশ্বকে আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে।