ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

বান্দরবানে অবাধে আহরণ বাঁশকোড়ল

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ১১ অগাস্ট, ২০২৬ ১০:০৩ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২২ বার


বান্দরবানে অবাধে আহরণ বাঁশকোড়ল

পার্বত্য জেলা বান্দরবানে বিভিন্ন পাহাড় ও বন থেকে অবাধে বাঁশকোড়ল সংগ্রহ করে তা বাজারে বিক্রি করছেন খুচরা বিক্রেতারা। প্রতিবছরই জুন, জুলাই আর আগস্ট মাসে পাহাড়ে জন্মানোর সঙ্গে সঙ্গে বাঁশকোড়ল সংগ্রহ করে তা স্থানীয় বাজারে বিক্রির হিড়িক পড়ে।

প্রতিদিনই বাজারে সহজলভ্য হিসেবে এই বাঁশকোড়ল পাওয়া যাওয়ায় স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পাশাপাশি বাঙালি ও পর্যটকদের খাবারের পছন্দের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে এই বাঁশকোড়ল। তবে বাঁশের বংশ বিস্তারের শুরুতেই বাঁশের কোড়ল ভেঙে তা বিক্রি করে ফেলায় বান্দরবানে দিন দিন বিলুপ্তির পথে যাচ্ছে প্রাকৃতিক নানা জাতের বাঁশ।

 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বান্দরবানের বিভিন্ন বাজারে এখন ৫০ থেকে ৭০ টাকায় সুস্বাদু সবজি হিসেবে পাওয়া যাচ্ছে বাঁশকোড়ল। মূলত বাঁশ বড় হওয়ার আগে জন্মানোর সঙ্গে সঙ্গে যেটি মাটি থেকে বের হয়, সেটিই হলো বাঁশকোড়ল।

আর স্বল্পমূল্যে পাওয়া যাওয়ায় এই বাঁশকোড়লের জনপ্রিয়তা এখন সবার কাছে।

 

এদিকে পাহাড়, বন ও বিভিন্ন ঝিরি-ঝর্ণার পাশ থেকে প্রতিবছর জন্মানোর সঙ্গে সঙ্গে বাঁশকোড়ল সংগ্রহ করে অবাধে বাজারে বিক্রি করে ফেলায় দিন দিন পরিবেশ ও জলবায়ুর ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে।

 

বান্দরবানসহ তিন পার্বত্য জেলায় প্রাকৃতিকভাবে মুলি বাঁশ, ডলু বাঁশ, মিতিঙ্গ্যা বাঁশ, ফারুয়া বাঁশ, বাজ্জে বাঁশ, কালি ছুরি বাঁশ জন্ম নেয়। আর এই বাঁশ দিয়ে বাড়ি তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন বেতের শোপিস তৈরি করা হয়। তবে কোনো প্রকার নিয়মনীতি আর জরিমানা না হওয়ায় প্রতিদিনই বাঁশকোড়ল আহরণের মাধ্যমে তা অবাধে বিক্রির ফলে মূল্যবান বাঁশসম্পদ ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে চলে যাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রিপন চক্রবর্তী বাংলানিউজকে জানান, প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো বাঁশ আমাদের সম্পদ। কিন্তু অনেকে এই বাঁশ বড় হওয়ার আগেই বাঁশকোড়ল খাওয়া আর বিক্রির জন্য বর্ষা মৌসুমে কেটে ফেলে। প্রতিবছরই অনেক বাঁশ জন্মানোর সঙ্গে সঙ্গে কেটে ফেলা হয়। আর এতে বাঁশসম্পদ ধীরে ধীরে পাহাড় থেকে হারিয়ে যাচ্ছে।

বান্দরবানের উজানীপাড়ার বাসিন্দা ক্যাসামং মারমা বাংলানিউজকে জানান, একসময়ে বান্দরবানে বাঁশের প্রচুর ঘর আমরা দেখতে পেতাম। তবে গত কয়েক বছর ধরে বাঁশের অভাবে বাঁশের ঘর তৈরি হচ্ছে না। তিনি বাংলানিউজকে আরও বলেন, পাহাড়ে খুঁজে খুঁজে অনেক নারী বর্ষা মৌসুমে বাঁশকোড়ল নিয়ে আসেন আর বাজারে ৭০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত এক বান্ডিল বিক্রি করেন। সহজেই প্রাপ্ত এই বাঁশকোড়ল সংগ্রহ করে বিক্রি করে লাভবান হওয়ায় অনেকে এই পেশায় জড়িত হয়ে পড়েছেন।

বাজারের ব্যবসায়ী পিন্টু জানান, বাঁশকোড়ল খেতে প্রচুর স্বাদ আর বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে এর চাহিদা প্রচুর। বর্ষা মৌসুমে তাই বাঁশ আহরণ বেশি হয় আর আমাদের প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো বিভিন্ন বাঁশ বিলুপ্তির পথে চলে যাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সংবাদকর্মী মো. শাফায়েত হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, বাঁশসম্পদ আমাদের পরিবেশ, অর্থনীতি এবং জীববৈচিত্র্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি। এটি মাটির ক্ষয়রোধ করে, কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই অপরিকল্পিতভাবে বাঁশের কোড়ল সংগ্রহ এবং বিক্রি বন্ধে প্রশাসন এখনই যথাযথ উদ্যোগ নেবে, এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

বান্দরবান বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. তৌফিকুল ইসলাম বাংলানিউজকে জানান, জুন থেকে আগস্ট, এই তিন মাস পাহাড় থেকে বাঁশ আহরণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে অনেকে এই নিয়ম না মেনে অবাধে বাঁশকোড়ল সংগ্রহ করে তা বাজারে বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন। তবে বাঁশের বংশবিস্তার আর পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বন বিভাগ বিভিন্ন পাড়া ও গ্রামে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চলমান রেখেছে।


   আরও সংবাদ