ঢাকা, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

রাজধানীজুড়ে ককটেল বিস্ফোরণ-আগুন

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:৪৮ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৮ বার


রাজধানীজুড়ে ককটেল বিস্ফোরণ-আগুন

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা থেকে দিবাগত রাত পর্যন্ত একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় কয়েকটি বাসে আগুন দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ও নিক্ষেপ করা হয়।

এসব ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযানে আটক ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে বেশ কয়েকজনকে।

 

ঘটনাগুলোর মধ্যে সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে মিরপুর-১ ওভারব্রিজের নিচে অভিজাত পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেওয়া হয়। অজ্ঞাত ব্যক্তি বাসটির পেছনের সিটে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায়।

এতে পেছনের দুটি সিট আংশিক পুড়ে গেলেও কোনো হতাহত হয়নি।

 

 

 

সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৭টা ১০ মিনিটের মধ্যে মিরপুর-১১ মেইন রোডের জমজম টাওয়ারের বিপরীতে শিকড় পরিবহনের একটি বাসে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

এতে কোনো হতাহত হয়নি। সন্দেহভাজন হিসেবে বাসটির চালক ও হেলপারকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

 

রাত ৮টা থেকে ৮টা ১০ মিনিটের মধ্যে বাড্ডা-রামপুরা সংযোগ সড়কে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপরীতে হামিম গ্রুপের একটি স্টাফ বাসে আগুন দেওয়া হয়। এতে বাসটির পেছনের অংশ পুড়ে যায়। একই রাতে দিবাগত রাত ১টা ৩ মিনিটে কদমতলীর মেইন রোডে শান্ত ফিলিং স্টেশনের পাশে পার্ক করে রাখা ঠিকানা পরিবহনের একটি বাসেও আগুন লাগে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিটে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তার সামাদ সুপার মার্কেটের সামনে তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এতে একজন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। রাত ৯টা ১৫ মিনিটে একই এলাকার শহীদ ফারুক রোডের মাথায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ইনকামিং ফ্লাইওভার থেকে একটি ককটেল নিক্ষেপ করে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

 

 

রাত ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে কদমতলীর পোস্তগোলা ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় একটি ককটেল নিক্ষেপ করে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে একজন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়।

রাত ৯টা ২০ মিনিটে ধানমন্ডীর শংকর বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন আহমদ মেডিকেলের সামনে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এতে কোনো হতাহত বা আটকের তথ্য পাওয়া যায়নি।

রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে মতিঝিলের শাপলা চত্বরসংলগ্ন এলাকায় একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। রাত ১০টা ৫৮ মিনিটে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় দুটি ককটেল বিস্ফোরণ হয়। এসব ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি।

 

রাত ১১টা ৩০ মিনিটে শাহবাগের তিন নেতার মাজারসংলগ্ন মেট্রোরেলের নিচে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। একই সময়ে বাড্ডার ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে লাল টেপে মোড়ানো একটি ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। সেটি বিস্ফোরিত না হওয়ায় বাড্ডা থানা পুলিশ ককটেলটি উদ্ধার করে।

রাত আনুমানিক ১১টা ৪০ মিনিটে লালবাগে একটি বাউন্ডারি ওয়ালে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। সেটি দেয়ালে আঘাত লেগে সামনের সড়কে পড়ে বিস্ফোরিত হয়। এতে কোনো হতাহত হয়নি।

দিবাগত রাত ১২টা ৫ মিনিটে মহাখালীর আমতলী এলাকায় চারটি ককটেল নিক্ষেপ ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে বনানী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।

সর্বশেষ রাত ১২টা ২০ মিনিটের দিকে মিরপুর মডেল থানাধীন গ্রামীণ ব্যাংক সেন্টার লক্ষ্য করে মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি একটি ককটেল নিক্ষেপ করে। সেটি বিস্ফোরিত হলেও প্রাথমিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় মোটরসাইকেল জব্দসহ একজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

এসব ঘটনার মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজনকে আটক ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাত ১১টার দিকে পল্লবীর সেকশন-১২ কালশী মোড় এলাকা থেকে আওয়ামী লীগের দুই পদধারী নেতাকে গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া গেছে। হাতিরঝিল এলাকা থেকে যশোরের শার্শা উপজেলার চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ দুজনকে আটক করা হয়েছে।

ভাটারা থেকে মো. রানা মিয়া, শাহবাগ-ঢাকা মেডিকেল কলেজ এলাকা থেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগের ২০ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি মোহাম্মদ বাবুল এবং তেজগাঁওয়ের পশ্চিম তেজতুরী বাজার এলাকা থেকে ২৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সময় দেকে আটক করা হয়েছে।

এছাড়া মিরপুরের রূপনগর থেকে ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের কর্মী ইউসুফ ওরফে ‘ময়লা ইউসুফ’ এবং পল্টন-গুলিস্তান এলাকা থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কর্মী সন্দেহে মোহাম্মদ হানজালা নামে একজনকে আটক করা হয়েছে।

নিউমার্কেট এলাকায় ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সদস্যরা মুশফিকুর রহমান নাফিজ নামে একজনকে ছাত্রলীগের কর্মী সন্দেহে আটক করে নিউমার্কেট থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরে ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার তথ্য না পাওয়ায় অভিভাবকের কাছে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এদিকে মিরপুর-১১ এলাকায় শিকড় পরিবহনের বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বাসটির চালক ও হেলপারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে, ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) থেকেই রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে ডিএমপি। বিভিন্ন স্থানে প্রায় ২০০ চেকপোস্ট বসিয়ে রাতভর যানবাহনে তল্লাশি চালানো হয়। প্রধান সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও প্রবেশপথে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সন্দেহজনক যানবাহনে তল্লাশি করা হচ্ছে।

ডিএমপির এডিসি মিডিয়া নিয়াজ মেহেদী জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে চেকপোস্ট ও পিকেট ডিউটি জোরদার করা হয়েছে। নগরজুড়ে থানা মোবাইল, ফুট ও হোন্ডা প্যাট্রোল বাড়ানো হয়েছে। নাশকতা প্রতিরোধে ডিবি, সিটিটিসি ও এপিবিএনের টিম মাঠে রয়েছে। পাশাপাশি থানা পুলিশ, সিটি এসবি ও ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড অ্যানালাইসিস ডিভিশনের সদস্যরাও কাজ করছেন।

ডিএমপির এই কর্মকর্তা আরও জানান, অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


   আরও সংবাদ