ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

‘ভারতকে চীন হতে দেবে না যুক্তরাষ্ট্র’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক


প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৩১ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৪২ বার


‘ভারতকে চীন হতে দেবে না যুক্তরাষ্ট্র’

ভারতের ক্রমবর্ধমান শক্তিকে ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতে চাপ আরও বাড়াতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ডেনিস আলিপভ। তার দাবি, চলতি বছরের রাইসিনা সংলাপে এক শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তা প্রকাশ্যে বলেছেন, ওয়াশিংটন কখনোই ভারতকে প্রতিযোগী হিসেবে ‘আরেক চীন’ হয়ে উঠতে দেবে না।

আলিপভ ওই মন্তব্যকে ‘ফ্রয়েডিয়ান স্লিপ’ বা অবচেতন মনের প্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

 

রোববার এনডিটিভি ডিফেন্স সামিটে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন আলিপভ।

তিনি বলেন, ভারত যত শক্তিশালী হবে এবং শেষ পর্যন্ত পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হবে, যুক্তরাষ্ট্র তাকে আটকে রাখতে সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে বলে তিনি মনে করেন। রাশিয়ার দৃষ্টিতে সম্প্রতি পাস হওয়া গ্রাহাম অ্যাক্টও সেই চাপ প্রয়োগের একটি উদাহরণ।

 

আলিপভ বলেন, ‘আমার মনে হয় এই বছর রাইসিনা সংলাপে একজন শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তা প্রকাশ্যে বলেছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র কখনোই ভারতকে প্রতিযোগী হিসেবে পরবর্তী চীন হতে দেবে না। এটি একটি ফ্রয়েডিয়ান স্লিপের মতো ছিল।

’

 

 

তার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন রাশিয়ার কাছ থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা নিয়ে ভারতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ নিয়ে আলোচনা চলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ‘লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’-এ স্বাক্ষর করেছেন। আইনটিতে রাশিয়ার সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর ওপর শুল্ক ও অন্যান্য অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের ক্ষমতা দেওয়ার বিধান রয়েছে।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইনে রাশিয়ার তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে আইনটি কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে নয়; রাশিয়ার তেল কেনার সঙ্গে যুক্ত দেশগুলোর ক্ষেত্রে এর বিধান প্রয়োগের সুযোগ রয়েছে।

ভারতের রাশিয়ান তেল কেনার বিষয়ে আলিপভ বলেন, মস্কোর স্বার্থে নয়, নিজেদের অর্থনীতি ও জনগণের স্বার্থেই ভারত রাশিয়ার তেল কিনছে। কারণ বাজারে সেটি প্রতিযোগিতামূলক দামে পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘ভারত রাশিয়ার স্বার্থে রাশিয়ার তেল কিনছে না। ভারত তার নিজের অর্থনীতি এবং নিজের জনগণের স্বার্থে রাশিয়ার তেল কিনছে। কারণ এটি প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে পাওয়া যাচ্ছে।’

আলিপভের মতে, মার্কিন চাপের জবাবে ভারত কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন ও দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছে। তিনি বলেন, গ্রাহাম অ্যাক্টের মাধ্যমে রাশিয়ার ওপর চাপ প্রয়োগের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট করেছে। তার ধারণা, ভারত যত শক্তিশালী হবে, এ ধরনের চাপ ও কৌশল ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে।

ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের প্রসঙ্গেও কথা বলেন রুশ রাষ্ট্রদূত। তিনি জানান, ১৯৪৭ সালের এপ্রিলে সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর রাশিয়ান ফেডারেশনের সঙ্গেও সেই সম্পর্ক অব্যাহত থাকে। আগামী বছর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৮০ বছর পূর্তি উদযাপন করা হবে বলে জানান তিনি।

আলিপভ বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্ব রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এলেও ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক টিকে আছে। তার মতে, দুই দেশ কখনো নিজেদের সম্পর্ককে তাৎক্ষণিক বৈশ্বিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল করেনি এবং এটিকে ‘জিরো-সাম গেম’ হিসেবেও দেখেনি।

রুশ রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, পারস্পরিক আস্থা ও সম্মান দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। কয়েক দশক ধরে একে অপরকে সহযোগিতা করার ধারাবাহিকতা ভবিষ্যৎ সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার শক্ত ভিত্তি তৈরি করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সম্প্রতি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠকের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন আলিপভ। গত ১১ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ব্রিকস নেতাদের সম্মেলনের ফাঁকে তাদের বৈঠক হয়। আলিপভের ভাষ্য, ওই বৈঠকসহ ব্রিকসের সাম্প্রতিক তৎপরতা রাশিয়া-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ এজেন্ডার বিস্তৃতি এবং বৈশ্বিক বিষয়ে আরও জোরালো ভূমিকার আকাঙ্ক্ষার ইঙ্গিত দেয়।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি, হিন্দুস্তান টাইমস


   আরও সংবাদ