ঢাকা, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

সোমবার শুরু সংসদ অধিবেশন

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ৮ নভেম্বর, ২০২৬ ১৬:৫৪ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৭ বার


সোমবার শুরু সংসদ অধিবেশন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশনে দুই-তিনটি বিল পাসসহ ৬টি বিল নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এ ছাড়া সংক্ষিপ্ত এ অধিবেশনে সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে উত্তপ্ত হতে পারে সংসদ।

 

আগামীকাল সোমবার (৯ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন শুরু হবে। গত ১৪ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ অধিবেশন আহ্বান করেছেন।

 

সংশ্লিষ্টরা জানান, এ অধিবেশনটি মূলত সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রক্ষার অধিবেশন। সংবিধান অনুযায়ী একটি অধিবেশন শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে পরবর্তী অধিবেশন অনুষ্ঠিত হতে হবে।

সংসদ সচিবালয় ইতোমধ্যে অধিবেশনের যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

 

এ অধিবেশন ৯ নভেম্বর শুরু হয়ে আগামী ২০ নভেম্বর পর্যন্ত মোট ১০ কার্যদিবস চলতে পারে।

আগামী জানুয়ারিতে নতুন অধিবেশন আহ্বানের বাধ্যবাধকতা থাকায় এই অধিবেশন সংক্ষিপ্ত করা হচ্ছে। স্বাভাবিক নিয়মে প্রতি বছরই জানুয়ারি মাসে বছরের প্রথম অধিবেশন বসে। সে অনুযায়ী আগামী জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝিতে সংসদের পরবর্তী অধিবেশন অর্থাৎ ২০২৭ সালের প্রথম অধিবেশন বসতে পারে।

 

এদিকে সংসদের এ চতুর্থ অধিবেশন শুরুর দিন জাতীয় সংসদের কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠক হবে। এ বৈঠকে অধিবেশনের কার্যদিবসের মেয়াদ ও কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বাংলানিউজকে বলেন, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে এই অধিবেশনটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। একটি অধিবেশনের পর ৬০ দিনের মধ্যে আরেকটি অধিবেশনের বসার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ অধিবেশনটি সংক্ষিপ্ত হবে। দুই-একটি বিল পাস হতে পারে। প্রশ্নোত্তরসহ স্বাভাবিক যে কর্মসূচি সেগুলো থাকবে। কত কর্মদিবস চলবে সেটা কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে।

এদিকে সংসদ সচিবালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এ অধিবেশনে ৬টি সরকারি বিল উত্থাপন ও আলোচনা হতে পারে। দুই-তিনটি বিল পাসও করা হতে পারে এ অধিবেশনে। এসব বিলের মধ্যে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা তিনটি অধ্যাদেশও থাকতে পারে, যেগুলো বিল আকারে পাসের মাধ্যমে আইনে পরিণত করার একটা বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

এ ছাড়া অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর, জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশ ও সাধারণ আলোচনার বিষয়গুলো থাকবে। পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির বাইরেও বিরোধী দলের পক্ষ থেকে চলমান ও জনগুরুত্বসম্পন্ন কোনো ইস্যুতে সাধারণ আলোচনার প্রস্তাব এলে তা নিয়েও নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে আলোচনা হতে পারে বলেও সংশ্লিষ্টরা জানান।

তবে বহুল আলোচিত সংবিধান সংশোধন প্রস্তাব এই অধিবেশনে উপস্থাপন হচ্ছে না। সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটি প্রস্তাব তৈরির কাজ করছে।

জানুয়ারিতে সংসদের পঞ্চম অধিবেশনে সেটি উপস্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে কমিটি সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে সংসদ অধিবেশন কিছুটা উত্তপ্তও হতে পারে। বিরোধী দল সংবিধান সংস্কারের প্রশ্ন জাতীয় সংসদের এ অধিবেশনে তুলতে পারে বলে জানা গেছে। যদিও সংবিধান সংশোধনের জন্য বিশেষ কমিটি কাজ করছে। কিন্তু বিরোধী দল সংবিধান সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছে। এ জন্য তারা সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটিতেও যায়নি। 

বিশেষ কমিটি সংবিধান সংশোধনের সুপারিশের খসড়া আগামী জানুয়ারির সংসদে উপস্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। জানুয়ারির আগে স্বাভাবিকভাবে আর কোনো অধিবেশন বসার সম্ভাবনা নেই। তাই এ অধিবেশনেই সংবিধান সংস্কারের ইস্যুতে উত্তেজনা তৈরি হতে পারে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে জানতে চাইলে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন বাংলানিউজকে বলেন, সরকারের দায়িত্ব এটা বিল হিসেবে আনা কিংবা কিছু একটা করে... কিন্তু কোনো লক্ষণ তো দেখছি না। আমরা দাবি জানাচ্ছি এখানেই ওনারা কিছু আপডেট দিক, কিন্তু দিচ্ছে না তো। সরকার যদি আর কিছু না করে আমাদের তো বাইরে কর্মসূচি দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।


   আরও সংবাদ