স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১১:২৯ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩২ বার
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে পাত্তাই পায়নি ভারত। তবে জিম্বাবুয়েকে পেয়েই বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহের রেকর্ড গড়েছে তারা। অভিষেক শর্মা ও হার্দিক পান্ডিয়ার ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ২৫৬ রান তোলে ভারত। জবাবে খেলতে নেমে জিম্বাবুয়ের ইনিংস থামে ১৮৪ রানে।
তাতেই ৭২ রানের জয়ে সেমিফাইনালের পথটা অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে যায় বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের।
বৃহস্পতিবার চেন্নাইয়ে ভারতের দেওয়া ২৫৭ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে দুই ওপেনার ব্রায়ান বেনেট ও তাদিওয়ানাশে মারুমানির জুটিতে ভালো শুরু পায় জিম্বাবুয়ে। ওপেনিং জুটিতে ৪৪ রান যোগ হওয়ার পর ২৩ রানে আউট হন মারুমানি। এরপর ডিওন মায়ার্সকে সঙ্গে নিয়ে ১৯ বলে ২৮ রানের আরেকটি জুটি গড়েন বেনেট।
ওই জুটি ভাঙার পর সিকান্দার রাজাকে সঙ্গে নিয়ে ভালোই এগোচ্ছিলেন বেনেট। দুজন মিলে ৪২ বলে ৭২ রানের জুটি গড়েন। তবে ২১ বলে ৩১ রান করে আউট হন সিকান্দার। এরপর মূলত ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় জিম্বাবুয়ে।
এক প্রান্ত আগলে রেখে বেনেট চেষ্টা চালিয়ে গেলেও যোগ্য সঙ্গীর অভাবে ভারতের দেওয়া পাহাড়সম লক্ষ্য আর ছোঁয়া হয়নি।
দুর্ভাগ্য বেনেটের। টি-টোয়েন্টিতে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়েও মিস করেন তিনি। ৫৯ বলে ৯৭ রানে অপরাজিত থাকেন জিম্বাবুয়ের এই ওপেনার। বিস্ফোরক এই ইনিংসে ছিল ৮টি চার ও ৬টি ছক্কা।
তার এমন দাপুটে ব্যাটিংয়ের পরও জিম্বাবুয়ের ইনিংস থামে ১৮৪ রানে।
ভারতের বোলারদের মধ্যে অর্শদীপ সিং সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন। এছাড়া বরুণ চক্রবর্তী, অক্ষর প্যাটেল ও শুভমন দুবে নেন একটি করে উইকেট।
এর আগে টস জিতে ভারতকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় জিম্বাবুয়ে। ক্রিজে এসেই আগ্রাসী ব্যাটিং শুরু করেন দুই ভারতীয় ওপেনার। ১৫ বলে ২৪ রান করে আউট হন স্যাঞ্জু স্যামসন, তবে পাওয়ার প্লেতেই আসে ৮০ রান। দ্বিতীয় উইকেটে যোগ হয় ৭২ রান। ২৪ বলে ৩৮ রান করে সাজঘরে ফেরেন ইশান কিষাণ।
মাত্র ২৬ বলে ফিফটি তুলে নেন অভিষেক শর্মা। আসরে পাঁচ ম্যাচে এটি তার প্রথম ফিফটি। টানা তিন ম্যাচে শূন্য রানে আউট হওয়ার পর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে করেছিলেন ১৫ রান।
এদিকে মাত্র ১৩ বলে ৩৩ রান করে আউট হন দলনেতা সূর্যকুমার যাদব। পঞ্চম উইকেটে জিম্বাবুয়ের বোলারদের ওপর চড়াও হন হার্দিক পান্ডিয়া ও তিলক ভার্মা। ইনিংসের শেষ পর্যন্ত খেলে তারা ৩১ বলে ৮৪ রানের জুটি গড়েন। শেষ দিকে টানা দুই বলে ছক্কা মেরে ২৩ বলে ৫০ রানে অপরাজিত থাকেন পান্ডিয়া।
সব মিলিয়ে ব্যাটারদের কার্যকর ইনিংসে ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ২৫৬ রানের পাহাড় গড়ে ভারত। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। রেকর্ড ভাঙা হয়নি মাত্র চার রানের জন্য। ২০০৭ সালের উদ্বোধনী আসরে কেনিয়ার বিপক্ষে ২৬০ রান করেছিল শ্রীলঙ্কা। এর আগে ২০০৭ বিশ্বকাপে ডারবানে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের আগের সর্বোচ্চ ছিল ২১৮ রান।