ঢাকা, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

বৈরুতে ইসরায়েলের বোমাবর্ষণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক


প্রকাশ: ২ মার্চ, ২০২৬ ০৯:৫৩ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৮ বার


 বৈরুতে ইসরায়েলের বোমাবর্ষণ

উত্তর ইসরায়েলের হাইফা শহরের কাছে একটি সামরিক ঘাঁটিতে রকেট ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করার পর লেবাননের রাজধানী বৈরুতে বোমাবর্ষণ করেছে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান।

সোমবার ভোরে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লা জানায়, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লা আলী খামেনিকে হত্যার প্রতিশোধ হিসেবেই তারা এ হামলা চালিয়েছে। খবর আল জাজিরা।

এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি বলে, “প্রতিরোধ নেতৃত্ব সব সময়ই স্পষ্ট করেছে যে, ইসরায়েলের আগ্রাসন অব্যাহত থাকা এবং আমাদের নেতা, তরুণ ও সাধারণ মানুষকে হত্যা করা আমাদের আত্মরক্ষার অধিকার দেয় এবং উপযুক্ত সময় ও স্থানে জবাব দেওয়ার বৈধতা দেয়।

 

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “পনেরো মাস ধরে চলা আগ্রাসন কোনো সতর্কতামূলক জবাব ছাড়া ইসরায়েলি শত্রু চালিয়ে যেতে পারে না; এই আগ্রাসন থামাতে এবং দখলকৃত লেবাননি ভূখণ্ড থেকে সরে যেতে তাকে বাধ্য করতেই এই পদক্ষেপ।”

এই সহিংসতা এমন এক সংঘাতের বড় ধরনের বিস্তারকে নির্দেশ করে, যা ক্রমেই এক আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিচ্ছে—একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল, অন্যদিকে ইরান ও তার মিত্ররা।

হামলার পর দ্রুতই দক্ষিণ বৈরুতে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, দক্ষিণ লেবাননের একাধিক গ্রাম এবং দেশের পূর্বাঞ্চলের বেকা উপত্যকাতেও ইসরায়েলি হামলা হয়েছে।

 

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায়, তারা লেবাননজুড়ে জোরালোভাবে হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।

বাহিনীটি জানায়, “এই অভিযানে যোগ দেওয়ার হিজবুল্লাহর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেব এবং ইসরায়েল রাষ্ট্রের জন্য কোনো হুমকি তৈরি করা বা উত্তরের বাসিন্দাদের ক্ষতি করার সুযোগ সংগঠনটিকে দেওয়া হবে না।”

তারা আরও বলে, “হিজবুল্লাহ সন্ত্রাসী সংগঠন লেবানন রাষ্ট্রকে ধ্বংস করছে। উত্তেজনা বৃদ্ধির দায় তাদেরই এবং এই ক্ষতির জবাবে ইসরায়েলি বাহিনী কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবে।

 

এই উত্তেজনা লেবাননের চলমান সংকটকে আরও গভীর করতে পারে; দেশটি বহু বছর ধরে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় ভুগছে।

২০২৪ সালের নভেম্বরে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও, লেবাননের অভিযোগ অনুযায়ী ইসরায়েল প্রায় প্রতিদিনই সেই সমঝোতা লঙ্ঘন করে দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়ে আসছে।

গত বছর লেবানন সরকার হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার একটি ডিক্রি জারি করে। তবে সংগঠনটি সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে জানায়, ইসরায়েলি সম্প্রসারণবাদ থেকে দেশকে রক্ষা করতে তাদের অস্ত্র অপরিহার্য।


   আরও সংবাদ