ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২ মার্চ, ২০২৬ ০৯:৫৯ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৯ বার
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা, ইরানে হামলা এবং পাল্টাপাল্টি সংঘাতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে জাতীয় নেতা ও রাষ্ট্রপ্রধানদের ‘টার্গেট’ করে হত্যার প্রবণতা বিশ্বকে দীর্ঘস্থায়ী বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
রোববার (১ মার্চ) এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।
বিবৃতিতে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করে কূটনীতির পথে ফিরে আসার আহ্বান জানান।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সম্প্রতি ইরানে সামরিক হামলা এবং পরবর্তী সময়ে প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা সংঘাতের বিপজ্জনক বিস্তারকে নির্দেশ করে। এটি সমগ্র অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তোলার আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে।
জাতীয় সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন ও বেসামরিক মানুষের জীবন বিপন্নকারী যেকোনো হামলার দ্ব্যর্থহীন নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের জনগণ এবং বিশ্ববাসী আরেকটি বিধ্বংসী যুদ্ধ কামনা করে না। তারা চায় শান্তি, নিরাপত্তা ও মর্যাদা।
ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডে উদ্বেগ
অঞ্চলে ইসরায়েলের ভূমিকার সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, ইসরায়েলের অস্থিতিশীলতামূলক কর্মকাণ্ড উত্তেজনা বাড়াচ্ছে এবং সংলাপের পথ রুদ্ধ করছে। এ ধরনের আচরণ সমগ্র অঞ্চলের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে।
একইসঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইরানের পাল্টা হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইরানের পাল্টা হামলা অকার্যকর ও পরিস্থিতি অবনতিকারী। এ ধরনের পদক্ষেপ অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত।
কারণ সংঘাতের বিস্তার কেবল নিরীহ মানুষের দুর্ভোগই বাড়াবে।
জাতীয় নেতাদের হত্যা বিপজ্জনক নজির
বিবৃতিতে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করে জাতীয় নেতা ও রাষ্ট্রপ্রধানদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে হত্যার যে প্রবণতা ক্রমেই স্বাভাবিক হয়ে উঠছে, তা গভীর উদ্বেগের বিষয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিপজ্জনক নজির স্থাপন করে এবং বৈশ্বিক নীতিমালা দুর্বল করে দেয়।
প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান
মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বাংলাদেশ সরকারকে জরুরি ও সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রবাসীদের পূর্ণাঙ্গ কনস্যুলার সহায়তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
তাদের নিরাপত্তা ও কল্যাণকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা আবশ্যক।
তিনি আরও বলেন, সংযম ও কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার না হলে বৃহত্তর অঞ্চল আরও বিস্তৃত সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
রক্তপাত বন্ধ এবং আঞ্চলিক শান্তি রক্ষায় সবাইকে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।