ঢাকা, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

‘প্রতিশোধ’ নেওয়ার হুমকি ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক


প্রকাশ: ২ মার্চ, ২০২৬ ০৯:৫৪ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৯ বার


‘প্রতিশোধ’ নেওয়ার হুমকি ট্রাম্পের

ইরানে ক্ষমতাসীন ধর্মীয় নেতৃত্বকে উৎখাতের লক্ষ্যে শুরু করা যুদ্ধে তিন মার্কিন নাগরিকের মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এদিকে ইরানের অভিজাত বিপ্লবী গার্ডের সদরদপ্তর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হলেও দেশটি মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লা আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর ট্রাম্প বলেন, তিনি প্রায় চার সপ্তাহব্যাপী যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ইরানি বাহিনী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।

ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে; ঝলমলে উপসাগরীয় অর্থনৈতিক নগরীগুলোর শান্তি ভেঙে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

 

ফ্লোরিডায় নিজের বাসভবন থেকে দেওয়া ভিডিও ভাষণে ট্রাম্প বলেছেন, “আমি আবারও বিপ্লবী গার্ড, ইরানি সেনাবাহিনী ও পুলিশকে অস্ত্র নামিয়ে পূর্ণ দায়মুক্তি গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি, নয়তো নিশ্চিত মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হবে। এটি হবে নিশ্চিত মৃত্যু। দৃশ্যটি সুখকর হবে না।

 

পেন্টাগন জানায়, ‘এপিক ফিউরি’ নামের অভিযানে তিন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত এবং পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

ট্রাম্প বলেন, “দুঃখজনকভাবে, যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগে হয়তো আরও প্রাণহানি ঘটবে। কিন্তু আমেরিকা তাদের মৃত্যুর প্রতিশোধ নেবে এবং যারা মূলত সভ্যতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে, সেই সন্ত্রাসীদের ওপর সবচেয়ে কঠোর আঘাত হানবে।”

যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধক্ষেত্রে হতাহত রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়।

বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো ট্রাম্প এখনও পর্যন্ত মার্কিন জনগণের কাছে এই যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তেমন ব্যাখ্যা দেননি।

 

হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের শীর্ষ ডেমোক্র্যাট হাকিম জেফ্রিস বলেন, এই মৃত্যুগুলো একটি ‘অবিবেচক সিদ্ধান্তের’ ফল এবং ‘এ ধরনের আগাম সামরিক হামলার যৌক্তিকতা প্রমাণ করার মতো কোনো হুমকি ছিল না।’

ইরানি প্রবাসীদের অনেকে খামেনির মৃত্যুকে স্বাগত জানালেও প্রতিবেশী পাকিস্তানের রাস্তায় বিক্ষোভ দেখা গেছে। কর্মকর্তারা জানান, সেখানে ১৭ জন নিহত হয়েছেন এবং বিক্ষোভকারীরা করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটে হামলার চেষ্টা করেন।

মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, তারা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সদরদপ্তর ধ্বংস করেছে।

রাষ্ট্র রক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত এই বাহিনী ইরানের অর্থনীতি ও রাজনীতিতে ব্যাপক প্রভাবশালী।

 

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে বলে, “আমেরিকার রয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী আর আইআরজিসির আর কোনো সদরদপ্তর নেই।”

ইরানের জীবিত নেতারা পাল্টা প্রতিরোধের ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, আত্মরক্ষার অধিকারেই এই হামলার জবাব দেওয়া হচ্ছে।

ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় শহর বেইত শেমেশে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত নয়জন নিহত ও আরও কয়েক ডজন আহত হয়েছেন। এর আগের দিন তেল আবিবের কাছে আরেকজন নিহত হন।

উত্তর ইসরায়েলে লেবানন থেকে ছোড়া প্রজেক্টাইল শনাক্তের পর সতর্কতা সাইরেন বেজে ওঠে। ইরানের মিত্র শিয়া সংগঠন হিজবুল্লাহ বলেছে, এই আগ্রাসনের মোকাবিলায় তাদের দায়িত্ব রয়েছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান খামেনির হত্যাকে “মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার সমতুল্য” বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “এই ঐতিহাসিক অপরাধের পরিকল্পনাকারী ও বাস্তবায়নকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়া ইরানের ন্যায্য দায়িত্ব ও অধিকার।”

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলী লারিজানি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “আজ আমরা তাদের এমন শক্তি দিয়ে আঘাত করব, যা তারা আগে কখনও অনুভব করেনি।”


   আরও সংবাদ