আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ মার্চ, ২০২৬ ০৮:৫৭ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৪১ বার
টানা প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার জেরে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, চলমান অভিযানে ইসরায়েল ‘অগ্রগতি অর্জন করছে’, অন্যদিকে ইরানের সামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের মুখে পড়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুত বড় আকারে দুর্বল হয়ে গেছে এবং তা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংসের লক্ষ্য নিয়েই অভিযান চলছে।
নেতানিয়াহু জানান, বর্তমানে এমন সব স্থাপনায় হামলা চালানো হচ্ছে, যেখানে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উৎপাদন করা হয়।
একই সঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কারখানাগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে; এমন দাবির পক্ষে কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করেননি তিনি।
এর আগে, ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আল–বুসাইদি জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনায় ইরান সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত শূন্যে নামিয়ে আনার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু সেই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।
এ অবস্থায় পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলেও বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
যুদ্ধ তিন সপ্তাহে গড়ালেও ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু হবে কি না; এ নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, সে সিদ্ধান্ত ইরানের জনগণের ওপরই নির্ভর করছে। উপযুক্ত সময়ে তাদেরই অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে।
বর্তমানে সংঘাত মূলত আকাশপথে সীমাবদ্ধ থাকলেও, প্রয়োজনে স্থল অভিযানের বিকল্পও প্রস্তুত রয়েছে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
যুক্তরাষ্ট্রকে এই যুদ্ধে জড়ানোর অভিযোগও নাকচ করেন নেতানিয়াহু। তার প্রশ্ন, কেউ কি সত্যিই মনে করে যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো একজন প্রেসিডেন্টকে বাইরের কেউ নির্দেশ দিতে পারে?
একই সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, ইরানের বৃহৎ গ্যাসক্ষেত্র সাউথ পার্স গ্যাস ফিল্ডে আর হামলা চালাবে না ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
যদিও এর আগে ওই গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েল এককভাবে হামলা চালিয়েছিল বলে স্বীকার করেন।
হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে বিশ্বকে চাপের মুখে ফেলার চেষ্টা করছে ইরান—এমন অভিযোগ তুলে নেতানিয়াহু বলেন, এই কৌশল সফল হবে না। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে এক বছর আগেই তাকে সতর্ক করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
সূত্র: আলজাজিরা