ঢাকা, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

চড়া বাজারদর

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ২০ মার্চ, ২০২৬ ২০:৫৩ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩৪ বার


চড়া বাজারদর

পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে ক্রেতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দামও বেড়েছে। মাংস, সুগন্ধি চাল, সেমাই, চিনি ও মসলাসহ প্রায় সব প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় চাপে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। সরবরাহ কম থাকায় সবজির দামও কিছুটা চড়া।

 

শুক্রবার (২০ মার্চ) রাজধানীর মিরপুরের বিভিন্ন সেকশন, মোহাম্মদপুর ও ফার্মগেট এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

 

ঈদের আগের দিন সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে সুগন্ধি চাল, সেমাই, চিনি, দুধ, মসলা, গরু ও মুরগির মাংস। চাহিদা বাড়ায় অনেক পণ্যের দাম ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

 

বাজারে গরুর মাংসের দাম উঠেছে ৮৫০ টাকায়। সব ধরনের মুরগির মাংসের দাম বেড়েছে, তবে সোনালি মুরগির দাম সবচেয়ে বেশি বেড়ে ৪০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

 

 

খাসির মাংস ১২০০ থেকে ১২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে সুগন্ধি চাল কিনতে এখন কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে। কালিজিরা ও চিনিগুঁড়া চালের প্যাকেট ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, আর খোলা চাল পাওয়া যাচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায়। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত বছরের তুলনায় সুগন্ধি চালের দাম প্রায় ২৩ শতাংশ বেড়েছে।

 

 

বাজারে ব্র্যান্ডের সেমাইয়ের দাম কিছুটা বেশি। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ২০০ গ্রাম সেমাই ৪০-৪৫ টাকা, ৮০০ গ্রাম বোম্বাই সেমাই ২৮০ টাকা এবং খোলা লাচ্ছা সেমাই কেজিপ্রতি ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

 

মসলার বাজারে দাম আরও বেশি চড়া। এলাচ কেজিপ্রতি ৫ হাজার টাকা, দারুচিনি ৫৬০-৬০০ টাকা, জয়ত্রি প্রায় ৪ হাজার টাকা এবং জায়ফল ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া লবঙ্গ, জিরা, ধনিয়া ও তেজপাতার দামও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

 

 

সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ার কথা বলছেন বিক্রেতারা। অনেক মোকামে আগের দিনের সবজি বিক্রি হচ্ছে। নতুন করে সবজির আমদানি কমেছে। এ কারণে দাম কিছুটা বেড়েছে।

 

লাউ ৭০ থেকে ৮০ টাকা পিস, দেশি শসা ১২০ টাকা কেজি, হাইব্রিড শসা ৬০ টাকা, গাজর ৭০ টাকা, উচ্ছে ৮০ টাকা, করলা ১০০ টাকা, পটল ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া কাঁচামরিচের কেজি ১২০ টাকা এবং ধুন্দুল ৮০ টাকা। মিষ্টি কুমড়ার কেজি ৫০ টাকা, পেঁপে ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

 

ইফতারে বহুল ব্যবহৃত বেগুনের দাম শেষ রোজায় দাপট দেখিয়েছে। বেগুনের কেজি ধরনভেদে ৬০ টাকা থেকে শুরু করে ৮০, ১০০ এবং ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

 

পেঁয়াজ, আলু ও টমেটো আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৪৫ টাকা, আলু ১৮-২০ টাকা এবং টমেটো ধরনভেদে ৩০-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ঈদকে সামনে রেখে লেবুর দাম বেড়ে হালিপ্রতি ৬০ থেকে ৮০ টাকায় উঠেছে।

 

মাঝারি রুই মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি। একই দামে বিক্রি হচ্ছে মাঝারি কাতল। বড় রুই ও কাতল প্রায় একই দামে ৫৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচকি মাছ ৫৫০ টাকা, পাঙ্গাস ২০০ টাকা কেজি।

 

ট্যাংরা মাছ ধরনভেদে ৮০০ টাকা, পাবদা ৫৫০ টাকা, দেশি শিং ৫০০-৬০০ টাকা কেজি। বাইম ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা কেজি। মাঝারি থেকে বড় বেলে মাছ ১১০০-১২০০ টাকা। চিংড়ি মাছ ধরনভেদে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

 

শুকনো ফলের বাজারেও ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। কিশমিশ, কাজুবাদাম, কাঠবাদাম ও পেস্তার দাম বেশ বেড়েছে। এদিকে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় খোলা তেলের দাম বেড়ে কেজিপ্রতি ২১৫ থেকে ২২০ টাকায় উঠেছে।

 

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের দিন থেকে দুই-তিন দিনের জন্য রাজধানীতে মানুষের উপস্থিতি কমে যায়। একই সময়ে সবজি ও কাঁচাবাজারসহ নিত্যপণ্যের সরবরাহও কমে যেতে পারে। সে কথা মাথায় রেখে বাড়তি কেনাকাটার কারণে বাজারে দামের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।


   আরও সংবাদ