ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ৯ এপ্রিল, ২০২৬ ২১:২৮ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৭ বার
সংসদ থেকে ওয়াকআউট করা কোনো অপরাধের পর্যায়ে পড়ে কি না—স্পিকারের কাছে এমন প্রশ্ন রেখেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের বিরতির পর অধিবেশনে যোগ দিয়ে তিনি এই প্রশ্ন তোলেন।
এর আগে বিকেলে স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) বিল ২০২৬ পাসের প্রতিবাদে বিরোধী দল সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছিল।
অধিবেশনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা আগেই বলেছি, যে বিষয়টি যৌক্তিক মনে করব তাতে একমত হব এবং সহযোগিতা করব।
কিন্তু যা আমাদের যুক্তিতে ধরবে না, সেটার বিরোধিতা করব। এটি আমাদের দায়িত্ব এবং অধিকার।
আমি একটু জানতে চাচ্ছি—সংসদ থেকে ওয়াকআউট করা কি কোনো অপরাধের পর্যায়ে পড়ে?’
ওয়াকআউটকে গণতান্ত্রিক অধিকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই জানি এটি ডেমোক্রেটিক রাইট অ্যান্ড প্র্যাকটিস। আমাদের অধিকার আছে এবং সেই অধিকার বলেই আমরা যা উপযুক্ত মনে করেছি, তা-ই করেছি।
কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো—সিনিয়র সদস্যরা যারা আগেও পার্লামেন্টে ছিলেন, তারা আমাদের শেখাবেন। কিন্তু আমরা চলে যাওয়ার পর যদি সরাসরি (নেতিবাচক) কমেন্ট করা হয়, তবে সংসদীয় পরিবেশ ক্ষুণ্ন হয়।’
সরকারি দলের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘আমার জানার বিষয়—আমরা কি সরকারি দলকে জিজ্ঞেস করে ওয়াকআউট করব এবং আবার ফিরে আসব?’
বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ কথা বলতে চাইলে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল তাকে বারবার বসার অনুরোধ করেন। ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘আপনি দয়া করে বসুন, আমরা দিনের কার্যসূচিতে যাব। যেহেতু বিরোধীদলের নেতা দাঁড়িয়েছিলেন সেজন্য তাকে ফ্লোর দেওয়া হয়েছে। আপনি অনুগ্রহ করে বসুন।’
পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্লোর পেয়ে তার অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘বিরোধীদলীয় নেতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেই বলছি—ওনারা যখন ওয়াকআউট করছিলেন, আমি জাস্ট দাঁড়িয়ে বলেছিলাম যে, আইন প্রণয়নের সব ধাপ (ফার্স্ট, সেকেন্ড ও থার্ড রিডিং) পার হওয়ার পর এটি কেমন ওয়াকআউট? সেটি আমি বুঝতে পারিনি। মূলত ওনারা সব প্রক্রিয়ায় সহায়তা করেছেন বলেই আমি তাদের ধন্যবাদ জানাতে দাঁড়িয়েছিলাম। এর বাইরে কোনো কথা বলিনি।’
বিকেলে স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) বিল ২০২৬ পাসের সময় নিজেদের আপত্তির পক্ষে সাড়া না পেয়ে সংসদ থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল বিরোধীদল। মাগরিবের নামাজের পর তারা পুনরায় অধিবেশনে যোগ দেয়।