ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২ এপ্রিল, ২০২৬ ১৫:৩৬ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৫ বার
সশস্ত্র বাহিনী কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়; দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষাই এ বাহিনীর একমাত্র পবিত্র দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ড চালিয়ে সেনাবাহিনীকে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছিল।
তবে সশস্ত্র বাহিনী ঐক্যবদ্ধ থাকলে বাংলাদেশকে কেউ কখনো পরাজিত করতে পারবে না।
রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে ঢাকা সেনানিবাসের সেনাপ্রাঙ্গণ মিলনায়তনে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ দরবারে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এদিন সকালে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, তিন বাহিনীর (সেনা, নৌ ও বিমান) প্রধান এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার।
দরবারে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ড চালিয়ে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছিল।
এরপরের শাসনামলেও নানা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এই বাহিনীকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টাও করা হয়েছিল।
২০২৪ সালের আগস্ট-পরবর্তী সময় থেকে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং অন্তর্বর্তী সরকারের পুরো মেয়াদে সশস্ত্র বাহিনীর ইতিবাচক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুনিপুণভাবে সম্পন্ন করতেও সেনাবাহিনী অত্যন্ত স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করেছে।
সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সশস্ত্র বাহিনী যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, তবে বাংলাদেশকে কখনো কেউ পরাজিত করতে পারবে না। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশপ্রেমের যে অগ্নিশিখা সেনাবাহিনীর মধ্যে জ্বালিয়েছিলেন, তা যেন কখনো নিভে না যায়।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে অংশগ্রহণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে বিএনপি সরকারই অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনীর ভবিষ্যৎ সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন এবং জাতীয় উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।
সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী তাদের দল-মতের ঊর্ধ্বে থাকার আহ্বান জানান। তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব ও সংবিধানের মর্যাদা সমুন্নত রাখা, জনগণের আস্থা অটুট রাখা এবং সর্বোপরি কর্মে, সততায়, শপথে ও ত্যাগের মাধ্যমে দেশকে ভালোবাসার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেন।
রাষ্ট্র মেরামতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শুধু সেনাবাহিনী নয়, দেশের প্রতিটি সেক্টর সংস্কার ও প্রতিটি মানুষের উন্নয়নের ইশতেহার আমরা বাস্তবায়ন করতে চাই। রাষ্ট্র মেরামতের লক্ষ্যে বিএনপি ‘জুলাই সনদে’ স্বাক্ষর করেছিল। জুলাই সনদের প্রতিটি দফা ঠিক যেভাবে ছিল, সেভাবেই বাস্তবায়নে এই সরকার বদ্ধপরিকর।
দরবারে ঢাকায় অবস্থানরত সামরিক ও অসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এবং বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা সরাসরি উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া দেশের অন্যান্য সেনানিবাস ও স্থানে অবস্থানরত সদস্যরা ভিডিও টেলিকনফারেন্সের (ভিটিসি) মাধ্যমে এই দরবারে অংশ নেন।