ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ফুয়েল লোডিং কী?

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১৩:৪৭ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৫ বার


পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ফুয়েল লোডিং কী?

দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ‌‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের’ (আরএনপিপি) (Rooppur Nuclear Power Plant) প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে জ্বালানি ইউরেনিয়াম লোড শুরু করা হচ্ছে। আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) জ্বালানি (ফুয়েল) লোডের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে।

এই ফুয়েল লোড প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে এক মাসের মতো সময় লাগতে পারে। এর মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু হবে।

 

অনেকেরই কৌতূহল—পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ফুয়েল লোডিং কী? এটি কীভাবে কাজ করে?। এ বিষয়ে বিবিসির প্রতিবেদন বলছে, পারমাণবিক শক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন গোটা বিশ্বেই অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি প্রক্রিয়া।

এই ধরনের স্থাপনা নির্মাণে নিরাপত্তামূলক নানা ধাপ পার করতে হয়। যার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্যায় ‘ফুয়েল লোডিং’।

 

এর মাধ্যমে রিঅ্যাক্টর বা চুল্লিতে পারমাণবিক জ্বালানি স্থাপন করা হয় এবং ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘ফুয়েল লোডিং’ একটিঅত্যন্ত সংবেদনশীল প্রক্রিয়া, যা সম্পন্ন হতে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ দিন সময় লাগতে পারে।

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রটি মূলত ‘নিউক্লিয়ার ফিশন’ প্রক্রিয়ায় কাজ করবে। পারমাণবিক চুল্লিতে ইউরেনিয়ামের নিউক্লিয়াস বিভাজনের মাধ্যমে প্রচুর তাপশক্তি উৎপন্ন হয়। এই তাপশক্তি দিয়ে পানিকে উচ্চচাপে বাষ্পে পরিণত করে টারবাইন ঘোরানো হয়, যা থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। এটি একটি স্বয়ংক্রিয় ও নিয়ন্ত্রিত চেইন রিঅ্যাকশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চলে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ফুয়েল লোডিংয়ের পর বিভিন্ন ধাপে পরীক্ষা করে ফাইনাল সেফটি অ্যানালিসিস রিপোর্ট করা হবে, যেটি পুনরায় পর্যালোচনা করবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

তিনি বলেন, এটা একটা পাইলট অপারেশন। এটা সময় নিতে পারে অন্তত ছয়মাস থেকে এক বছর। এই সময়ে পাওয়ার তৈরির মাধ্যমে সিনক্রোনাইজেশন, টারবাইন জেনারেটর কাজ করছে কি না, ইমার্জেন্সি সব সাপোর্ট কাজ করছে কি না এগুলো সব দেখা হয়।

এরপর কমার্শিয়াল অপারেশনাল ডেট বা সিওডি দেওয়ার আগে চূড়ান্ত উৎপাদনে যাওয়ার জন্য আরেক দফা অনুমোদনের প্রয়োজন হয়।

নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এই অধ্যাপকের মতে, পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক অপারেশন শুরুর পর রিঅ্যাক্টর ৯০ শতাংশ ক্যাপাসিটিতে পুরোদমে চলতে শুরু করবে। টানা ১৮ মাস চলার পর ফুয়েল রিপ্লেসমেন্টসহ রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষে আবারও ১৮ মাসের সাইকেল নতুন করে শুরু হবে।

সূত্র জানায়, ফুয়েল লোডের পর ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আগামী জুলাইয়ের শেষে বা আগস্টে বাণিজ্যিকভাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা হতে পারে। পর্যায়ক্রমে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর অথবা ২০২৭ সালের শুরুতে পুরো মাত্রায় উৎপাদনে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের।


   আরও সংবাদ