আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ মে, ২০২৬ ১৭:৪৪ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ১০ বার
ইরানের ট্যাংকারে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনা ও জাহাজে ‘ভারী হামলা’ চালানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। শনিবার ইরানি গণমাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।
একই সময়ে ওয়াশিংটন তেহরানের কাছ থেকে তাদের সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে।
আইআরজিসি বলেছে, ‘ইরানের ট্যাংকার ও বাণিজ্যিক জাহাজে যেকোনো হামলার জবাবে অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন কেন্দ্র ও শত্রুপক্ষের জাহাজে ভারী আঘাত হানা হবে।
’ এর একদিন আগে ওমান উপসাগরে দুটি ইরানি ট্যাংকারে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালায়।
রোববার সকালে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সেন্টার (ইউকেএমটিও) জানায়, কাতারের উপকূলের কাছে অজ্ঞাত উৎস থেকে নিক্ষিপ্ত একটি বস্তু আঘাত হানার পর একটি জাহাজে আগুন ধরে যায়।
ইউকেএমটিও জানায়, বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজটিতে ছোট আকারের আগুন লাগলেও পরে তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ঘটনাটি কাতারের রাজধানী দোহার উত্তর-পূর্বে প্রায় ২৩ নটিক্যাল মাইল দূরে ঘটে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার বলেছিলেন, ওয়াশিংটনের সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবের জবাব ‘সম্ভবত আজ রাতেই’ দেবে ইরান।
তবে পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরান কোনো জবাব পাঠিয়েছে কি না, তার প্রকাশ্য কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। এরই মধ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বলে জানা গেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইসনার বরাতে বলা হয়, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপে আরাগচি বলেন, ‘পারস্য উপসাগরে মার্কিন বাহিনীর সাম্প্রতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ধারাবাহিক পদক্ষেপ কূটনৈতিক পথে আমেরিকার উদ্দেশ্য ও আন্তরিকতা নিয়ে সন্দেহ আরও বাড়িয়েছে।’
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধবিমান ওমান উপসাগরে ইরানি পতাকাবাহী দুটি ট্যাংকারে হামলা চালিয়ে সেগুলো অচল করে দেয়। ওয়াশিংটনের অভিযোগ ছিল, জাহাজ দুটি ইরানের বন্দর অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করছিল। জবাবে ইরানি নৌবাহিনী পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে দেশটির এক সামরিক কর্মকর্তা স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান।
এর আগে হরমুজ প্রণালীতেও উত্তেজনা দেখা দেয়। আন্তর্জাতিক এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অর্থনৈতিক চাপ তৈরির চেষ্টা করছে ইরান। তবে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তেহরানের হাতে এই গুরুত্বপূর্ণ তেলপথের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণযোগ্য নয়।
যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের কাছে উপসাগরীয় অঞ্চলের যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করার প্রস্তাব পাঠিয়েছে, যাতে ১০ সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া সংঘাতের স্থায়ী সমাধান নিয়ে আলোচনা চালানো যায়।
ফরাসি টিভি চ্যানেল এলসিআই-এর সাংবাদিক মারগো হাদ্দাদ শনিবার জানান, ট্রাম্প তাকে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে বলেছেন, খুব শিগগিরই ইরানের জবাব পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা করছেন।
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শুক্রবার জানান, প্রস্তাবটি এখনো পর্যালোচনাধীন রয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শনিবার কাতারের আমির শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানির সঙ্গে বৈঠক করেন। ইরানের সঙ্গে আলোচনায় কাতার ওয়াশিংটনের গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, বৈঠকে ‘মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং হুমকি মোকাবিলায় ঘনিষ্ঠ সমন্বয়’ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
এর একদিন আগে কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আল থানি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে বৈঠক করেন। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা নিয়েই সেখানে আলোচনা হয়।
যুদ্ধ চলাকালে ইরান কাতারের কয়েকটি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল। উপসাগরীয় এই ধনী রাষ্ট্রটিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।
খার্গ দ্বীপের কাছে তেলের স্তর
এদিকে স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের উপকূলে বড় ধরনের তেলের স্তর ছড়িয়ে পড়েছে।
গ্লোবাল মনিটরিং প্রতিষ্ঠান অরবিটাল ইওএস জানায়, দ্বীপটির পশ্চিম উপকূলে ছড়িয়ে পড়া তেলের স্তর প্রায় ২০ বর্গমাইল (৫২ বর্গকিলোমিটার) এলাকাজুড়ে বিস্তৃত ছিল। তবে এর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংস্থা কনফ্লিক্ট অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট অবজারভেটরি এএফপিকে জানায়, শনিবার নাগাদ তেলের স্তর অনেকটাই কমে আসে এবং ধারণা করা হচ্ছে এটি তেল অবকাঠামো থেকে লিক হওয়ার ফল।
খার্গ দ্বীপ ইরানের তেল রপ্তানি শিল্পের কেন্দ্রবিন্দু এবং দেশটির অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি হরমুজ প্রণালীর উত্তরে উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়, যা বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি করে এবং তেলের দাম বাড়িয়ে দেয়।
জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানি বন্দরগুলো অবরোধ করে। পরে ট্রাম্প বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দিতে চালু করা স্বল্পমেয়াদি মার্কিন নৌ-অভিযান বাতিল করেন।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান