ঢাকা, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

লালবাগ কেল্লায় দর্শনার্থীদের ভিড়

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ২৯ মে, ২০২৬ ২১:১৮ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৯ বার


লালবাগ কেল্লায় দর্শনার্থীদের ভিড়

 

ঈদুল আজহার ছুটিতে রাজধানীর অন্যতম ঐতিহাসিক স্থাপনা লালবাগ কেল্লায় বেড়েছে দর্শনার্থীদের আনাগোনা। ঈদের দিন ও পরদিন থেকেই পুরান ঢাকার এই মুঘল স্থাপনাটি ঘুরতে আসা মানুষের ভিড়ে সরগরম হয়ে ওঠে।

 

এ ঐতিহাসিক স্থাপনা দেখতে এসেছেন বিদেশি দর্শনার্থীরাও।

শুক্রবার (২৯ মে) সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল থেকেই লালবাগ কেল্লার মূল ফটক, বাগান এলাকা, পরীবিবির সমাধি ও জাদুঘরের সামনে ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়।

 

 

দীর্ঘ লাইন পার হয়ে দর্শনার্থীরা লালবাগ কেল্লায় প্রবেশ করছেন। দেশি দর্শনার্থীদের পাশাপাশি কয়েকজন বিদেশি দর্শনার্থীর দেখা মিলেছে শত শত বছরের পুরোনো এ মুঘল দুর্গে।

 

 

Lalbag

ছবি: বাংলানিউজ

পরিবার, বন্ধু ও স্বজনদের নিয়ে অনেকেই ছবি তোলা ও সময় কাটাতে ব্যস্ত ছিলেন। শিশু-কিশোরদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।

 

 

ঢাকায় প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংরক্ষিত ঘোষিত এ স্থাপনায় পুরাকীর্তির মধ্যে রয়েছে তিনতলাবিশিষ্ট লালবাগ দুর্গের দক্ষিণ-পূর্ব তোরণ, তিন গম্বুজবিশিষ্ট লালবাগ দুর্গ মসজিদ, হাম্মাম ভবন ও পরীবিবির মাজার। পুরাকীর্তির বাইরে রয়েছে লালবাগ দুর্গ জাদুঘর, পুকুর, পানির ট্যাংক, সুউচ্চ দেয়াল ইত্যাদি।

দর্শনার্থীরা জানান, ঈদের ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে তারা লালবাগ কেল্লা ঘুরতে এসেছেন। অনেকেই বলেন, রাজধানীর ব্যস্ত জীবনের বাইরে কিছুটা স্বস্তি ও বিনোদনের জন্য পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি তাদের পছন্দের জায়গা।

 

মিরপুর থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা সাইফুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, ঈদের ছুটিতে বাচ্চাদের নিয়ে একটু বাইরে ঘুরতে এসেছি। লালবাগ কেল্লার পরিবেশ ভালো লাগছে। ইতিহাসের সঙ্গে পরিচিত হওয়ারও সুযোগ হচ্ছে।

 

কেল্লা প্রাঙ্গণে ঘুরতে আসা কলেজশিক্ষার্থী তাসনিম আক্তার বলেন, ছোটবেলা থেকে লালবাগ কেল্লার নাম শুনে আসছি। এজন্য ঈদের ছুটিতে বন্ধুদের সঙ্গে এখানে এসেছি। পুরান ঢাকার পরিবেশ ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো সবসময়ই আকর্ষণ করে। পরিবেশটা খুবই সুন্দর, তবে ভিড় একটু বেশি।

 

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে আসা আলমগীর হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছি। বছরের অন্য সময় কাজের চাপে কোথাও যাওয়া হয় না। এখানে এসে ভালো লাগছে। ইতিহাসের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগও মিলছে।

 

Lalbag3

ছবি: বাংলানিউজ

দর্শনার্থীদের চাপ সামাল দিতে কেল্লা এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে পুরো এলাকায়। পাশাপাশি দর্শনার্থীদের শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য মাইকিংও করা হয়।

 

লালবাগ কেল্লা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদের ছুটির কারণে অন্যান্য দিনের তুলনায় দর্শনার্থীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়েছে। আগামী কয়েক দিনও এ ভিড় অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

কর্তৃপক্ষের হিসেব অনুযায়ী, প্রতিবছর এখানে গড়ে প্রায় ৩০ লাখ দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। প্রতিদিন লালবাগ কেল্লা দেখতে আসে দেশি-বিদেশি প্রায় ১০ হাজার দর্শনার্থী। এর মধ্যে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদরাসার শিক্ষার্থী এবং সাধারণ দর্শনার্থী রয়েছেন। বিদেশি দর্শনার্থীরা এখানে কেল্লার ইতিহাস জানতে আসেন।

 

ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি মুঘল আমলে নির্মিত। ১৭শ শতকে মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের পুত্র প্রিন্স মোহাম্মদ আজম শাহ ঢাকায় সুবাদার থাকাকালে ১৬৭৮ সালে এর নির্মাণকাজ শুরু করেন। পরে নবাব শায়েস্তা খান এর কাজ সম্পন্ন করেন। কেল্লার ভেতরে রয়েছে পরীবিবির সমাধি, দরবার হল ও হামামখানা, যা মুঘল স্থাপত্যশৈলীর অনন্য নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত।

 

লালবাগ কেল্লা মুঘল আমলের বাংলাদেশের একমাত্র ঐতিহাসিক নিদর্শনের পাশাপাশি ঢাকার সংস্কৃতি ও পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যেখানে একইসঙ্গে ব্যবহার করা হয়েছে কষ্টিপাথর, মার্বেল পাথরসহ নানান রঙ-বেরঙের টালি। লালবাগ কেল্লা ছাড়া বাংলাদেশের আর কোনো ঐতিহাসিক নিদর্শনে এমন বৈচিত্র্যময় সংমিশ্রণ পাওয়া যায়নি।


   আরও সংবাদ