স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২ জুন, ২০২৬ ২০:৩১ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৯ বার
ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে লস অ্যাঞ্জেলেসে ব্যাপক নিরাপত্তা পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। কর্তৃপক্ষ বলছে, টুর্নামেন্ট চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা আইসিইর (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) কর্মকর্তারা দায়িত্বে থাকলেও কোনো ধরনের অভিবাসন অভিযান চালানো হবে না।
সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির শেরিফ রবার্ট লুনা বলেন, 'কয়েক সপ্তাহ ধরে বিশ্বকাপের ম্যাচ ও আয়োজন ঘিরে আইসিইর উপস্থিতি নিয়ে নানা আলোচনা ও গুঞ্জন ছিল। এ বিষয়ে আমি সরাসরি হোমল্যান্ড সিকিউরিটির আঞ্চলিক প্রধানের সঙ্গে কথা বলেছি।
তারা আমাকে নিশ্চিত করেছেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফেডারেল এজেন্ট থাকবে, তবে কোনো ম্যাচ বা আয়োজনে অভিবাসন অভিযান পরিচালনা করা হবে না।'
তবে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি বদলালে নতুন জটিলতা তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করেন লুনা।
তিনি বলেন, যদি এমন কিছু ঘটে, তাহলে তাদের সামনে সম্পূর্ণ নতুন ধরনের সমস্যা তৈরি হবে।
বিশ্বকাপ চলাকালে লস অ্যাঞ্জেলেসে মোট আটটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
ইনগেলউডের সোফাই স্টেডিয়াম যা বিশ্বকাপের সময় ‘লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়াম’ নামে পরিচিত হবে সেখানেই আগামী ১২ জুন প্যারাগুয়ের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচ খেলবে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র।
এর আগে স্টেডিয়ামকর্মীরা আইসিইর সম্ভাব্য উপস্থিতির প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভও করেছিলেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, অভিবাসন সংস্থার উপস্থিতি কর্মী ও দর্শকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করতে পারে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া স্টেডিয়ামকর্মী আইজ্যাক মার্টিনেজ বলেন, ‘এই ম্যাচগুলোতে আইসিইর কোনো ভূমিকা থাকা উচিত নয়। আমরা কাজে আসা বা বাড়ি ফেরার পথে আটক হওয়ার ভয় নিয়ে থাকতে চাই না।’
এদিকে বর্তমান বৈশ্বিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের ম্যাচগুলো ঘিরে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে প্রশাসন। লস অ্যাঞ্জেলেসে ইরানের দুটি গ্রুপ ম্যাচ হওয়ার কথা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে সম্ভাব্য বিক্ষোভ বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করা হবে।
শেরিফ লুনা বলেন, ‘বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে ইরানকে ঘিরে আলাদা ধরনের বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। তাই কিছু ম্যাচে বাড়তি নিরাপত্তা সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।’
বিশ্বকাপ ভেন্যুগুলোর আশপাশে ড্রোন ওড়ানো নিয়েও কড়া অবস্থানের কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এফবিআইয়ের সহকারী পরিচালক প্যাট্রিক গ্র্যান্ডি বলেন, ‘কেউ যদি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ড্রোন ওড়ায়, তাহলে সেটিকে নিরাপদভাবে নিচে নামিয়ে আনার সক্ষমতা আমাদের রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভেন্যুর আশপাশে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হবে। ইচ্ছাকৃতভাবে নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করলে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে।’