ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২ জুন, ২০২৬ ২০:২৭ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ১০ বার
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী এবং নেত্রকোনার মদন উপজেলায় একটি পূর্বনির্ধারিত বাউল সংগীতের আয়োজন বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।
মঙ্গলবার (২ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি জানায়, এ ধরনের ঘটনা সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা এবং নাগরিকের মৌলিক অধিকারের ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপের শামিল।
আসক বলেছে, বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭, ২৮ ও ৩৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সব নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং তাদের চিন্তা, বিবেক, বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতা সংরক্ষিত। একইসঙ্গে সাংস্কৃতিক চর্চা, শিল্প ও সাহিত্যচর্চাও এসব অধিকারের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
সংগঠনটি আরও উল্লেখ করে, মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণার ১৯ ও ২৭ অনুচ্ছেদ এবং আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদ (আইসিসিপিআর)-এর ১৯ ও ২১ অনুচ্ছেদে মতপ্রকাশ, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ এবং সাংস্কৃতিক জীবনে অংশগ্রহণের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা চাপের মুখে এসব সাংবিধানিক ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অধিকার খর্ব করার সুযোগ নেই।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব হলো নাগরিকদের সাংস্কৃতিক ও মতপ্রকাশের অধিকার সুরক্ষিত রাখা এবং নিশ্চিত করা যে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যেন আইনের শাসনকে উপেক্ষা করে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে। সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্রিয় ও নিরপেক্ষ ভূমিকা জরুরি।
আসক মনে করে, কোনো সাংস্কৃতিক আয়োজন বা শিল্পকর্ম নিয়ে ভিন্নমত কিংবা সমালোচনা গণতান্ত্রিক অধিকারের অংশ হলেও ভয়ভীতি, চাপ সৃষ্টি, অপপ্রচার বা অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে আইনসম্মত সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বন্ধ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের প্রবণতা সমাজের সাংস্কৃতিক সহনশীলতা, বহুত্ববাদ এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
সংগঠনটি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর, দৃশ্যমান ও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে এবং সব সাংস্কৃতিক আয়োজনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।