আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ জুন, ২০২৬ ১৩:০২ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৪ বার
জোরপূর্বক শ্রম (ফোর্সড লেবার) প্রতিরোধে ব্যর্থতার অভিযোগে বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই প্রস্তাব প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর (ইউএসটিআর)।
ইউএসটিআরের দাবি, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি। এর ফলে মার্কিন শ্রমিকরা বৈশ্বিক বাজারে অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান, যুক্তরাজ্য ও ইকুয়েডরসহ ১৫টি দেশ ও অঞ্চলের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।
অন্যদিকে, তালিকাভুক্ত বাকি ৪৫টি দেশের পণ্যের ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিয়েসন গ্রিয়ার বলেন, জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের প্রবেশ ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এতে মার্কিন শ্রমিকরা আন্তর্জাতিক বাজারে বৈষম্যমূলক প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হচ্ছেন।
তবে কিছু নির্দিষ্ট পোশাক ও বস্ত্রপণ্যের ক্ষেত্রে সীমিত পরিমাণে কম শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ রাখার প্রস্তাবও দিয়েছে ইউএসটিআর। যদিও এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত সাময়িক শুল্ক ব্যবস্থার মেয়াদ আগামী ২৪ জুলাই শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে জরুরি ক্ষমতার আওতায় আরোপিত কয়েকটি শুল্ক বাতিল করে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। এরপর নতুন আইনি কাঠামোর আওতায় শুল্কনীতি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেয় প্রশাসন।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই প্রস্তাব কার্যকর হলে বাংলাদেশের রপ্তানি খাত, বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এখনো নির্ধারিত হয়নি।
সূত্র:রয়টার্স