ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ৬ জুন, ২০২৬ ০৯:৫২ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩২ বার
ঋতুতে চলছে মধুমাস। জ্যৈষ্ঠ মাস মানেই মধুমাস।
এ মাসেই বাজারে আসে ফলের রাজা আম, লিচুসহ অন্যান্য ফল। আর আম উৎপাদনে এখনও দেশের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
এ জেলায় গোপালভোগ, ক্ষীরসাপাত, ফজলি, আম্রপালি, লক্ষণভোগসহ অন্তত ৩০০ জাতের আম উৎপাদন হয়ে থাকে। এসব আমের সঙ্গে বেশ কয়েক বছর থেকে যুক্ত হয়েছে সুইট কাটিমনসহ রপ্তানিযোগ্য বিভিন্ন ধরনের আম।
বেশ কিছু তরুণ শিক্ষিত উদ্যোক্তা নিরাপদ আম উৎপাদন করে বিশ্ব বাজারে রপ্তানি করছেন। পাশাপাশি চলতি মৌসুমে ইতোমধ্যে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে গোপালভোগ, ক্ষীরসাপাতসহ অন্যান্য আম।
তরুণ উদ্যোক্তাদের মধ্যে জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার চাত্রা ও মোবারকপুর এলাকার দুইজন আমচাষি বিদেশে আম রপ্তানি শুরু করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, আন্তর্জাতিক বাজারে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমের চাহিদা বাড়লে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারবেন।
চককীত্তি ইউনিয়নের চাত্রা গ্রামের আমচাষি শামীম রেজা সোহাগ জানান, তিনি ২০২২ সাল থেকে রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন করছেন। পরের বছর তিনি বিদেশে ১২ টন আম রপ্তানি করেন এবং সর্বশেষ গত বছর ৩৫ টন আম বিভিন্ন দেশে পাঠিয়েছেন। এবার শুক্রবার (৫ জুন) এই মৌসুমে প্রথমবারের মতো তিনি দুই টন আম ইতালিতে পাঠিয়েছেন। শনিবার আরও দুই টন পাঠানোর কথা রয়েছে। তার বাগানের সর্বমোট ৫০ টন রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন হলেও তিনি সবগুলো আম বিদেশে রপ্তানি করতে পারেন না। এ কারণে লাভের অঙ্কটা কমে যায়।
রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদনসহ বিভিন্ন কারণে খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবং স্থানীয় বাজারে এর মূল্য না পাওয়ায় তাদের লাভ কম হয় বলে তিনি জানান।
বিদেশে আম রপ্তানি বাড়লে কৃষকরা যেমন লাভবান হবেন, তেমনি বাংলাদেশ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারবে—এমন মত প্রকাশ করেন তিনি।
মোবারকপুর গ্রামের আমচাষি আল মামুন জানান, তিনি অনেক দিন ধরে রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন করছেন এবং বিদেশের বিভিন্ন জায়গায় আম রপ্তানি করে থাকেন। শুক্রবার তার বাগানে জাপানের একটি প্রতিনিধি দল এসেছিল এবং তারা আম নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
তিনি এ বছর এখন পর্যন্ত এক টন আম রপ্তানি করতে সক্ষম হয়েছেন। তবে আম রপ্তানিতে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এ বছর বিমান ভাড়া। বিমান ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় অন্যান্য দেশের সঙ্গে আমের বাজার নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি।
এদিকে এবার চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমের বাম্পার ফলন হলেও বাজারে ন্যায্যমূল্য না পেয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন আমচাষিরা। তবে সেই হতাশার মধ্যেই চলতি মৌসুমে আবারও বিদেশে রপ্তানি শুরু হওয়ায় অনেকেই আশার আলো দেখছেন।
আমের রাজধানীখ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জে এবার ৩৭ হাজার ৪৮৭ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এ বছর জেলায় প্রায় ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৯১২ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
কিন্তু উৎপাদন ভালো হলেও বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় লোকসানের শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা।
অনেক চাষি বলছেন, বাগান পরিচর্যা, কীটনাশক ও শ্রমিক খরচ বাড়লেও সেই তুলনায় বাজারে আমের দাম কম।
গত বছরও আম রপ্তানির সম্ভাবনা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত আশানুরূপ রপ্তানি হয়নি। তবে এবার শুরু থেকেই রপ্তানির কার্যক্রম শুরু হওয়ায় আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, নিরাপদ ও মানসম্মত আম উৎপাদনের মাধ্যমে বিদেশি বাজার সম্প্রসারণে কাজ চলছে। ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমের চাহিদা বাড়ছে বলেও জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
একদিকে বাজারে কম দাম, অন্যদিকে বিদেশে রপ্তানির নতুন সম্ভাবনা, সব মিলিয়ে আশা আর হতাশার দোলাচলে সময় পার করছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমচাষিরা। রপ্তানি বাড়লে কৃষকের মুখে হাসি ফিরবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।