ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ৬ জুন, ২০২৬ ১২:৩৪ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৯ বার
‘আমি আমার বাচ্চাকে হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই। বাংলাদেশের আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করি।
সেই শাস্তি যেন দ্রুত কার্যকর হতে দেখি, একজন বাবা হিসেবে এটাই আমার একমাত্র চাওয়া’
শনিবার (৬ জুন) রাজধানীতে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে শিশু নির্যাতন বৃদ্ধি ও করণীয়’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে এ দাবি জানান রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।
তিনি বলেন, ‘এত হতাশার মধ্যেও বিচার প্রক্রিয়ায় আমি একটি আশার আলো দেখতে পেয়েছি।
বাংলাদেশ সরকার দ্রুত বিচার শেষ করার যে আশ্বাস দিয়েছিল, তার প্রতিফলন আমি দেখতে পেয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ, আশা করি আগামীকালের রায় বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
একজন বাবা হিসেবে আমি সর্বোচ্চ রায় প্রত্যাশা করছি।’
অনুষ্ঠানে আব্দুল হান্নান আরো বলেন, ‘এক ফ্ল্যাটের এক দরজা থেকে আরেক দরজার দূরত্ব তিন ফুট।
এই তিন ফুটের মধ্যেও যদি আমরা একটি শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারি, তাহলে শুধু সরকারকে দায়ী করলে হবে না। পরিবার, প্রতিবেশী ও সমাজের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে হবে। তা না হলে আরও হাজার হাজার রামিশা এমন নৃশংসতার শিকার হতে পারে।
তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘আজ আমি একজন ধর্ষিতার বাবা হিসেবে পরিচিত। এই দায়ভার কে নেবে- আমি, সমাজ নাকি রাষ্ট্র? আমার সন্তানের এমন পরিণতির জন্য দায়ী কে?’
তিনি বলেন, আলোচনা ও গোলটেবিল বৈঠক অনেক হয়, কিন্তু বাস্তবে সমস্যার সমাধান কতটা হয় সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে যেন আর কোনো শিশুকে এমন ভয়াবহ নির্যাতন ও হত্যার শিকার হতে না হয়, সে জন্য কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
তিনি জানান, ঘটনার পর তার স্ত্রী গভীর মানসিক ট্রমার মধ্যে রয়েছেন এবং তাকে সার্বক্ষণিক দেখাশোনা করতে হচ্ছে। পরিবারের আরেক সন্তানকে নিয়েও তিনি আতঙ্ক ও শঙ্কার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
বক্তব্যের শেষে তিনি বিচারক, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং বিচার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত সবাইকে ধন্যবাদ জানান এবং নিজের ও পরিবারের জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।
উল্লেখ্য, নিপীড়িত নারী ও শিশুদের আইনি ও স্বাস্থ্য সহায়তা সেল আয়োজিত এ গোলটেবিল বৈঠকে আইনজীবী, চিকিৎসক, শিক্ষক, সাংবাদিক, সমাজকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনায় বাংলাদেশে শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে কার্যকর আইন প্রয়োগ, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।