ঢাকা, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

শিশু রামিসাকে হত্যা- সোহেল-স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ৭ জুন, ২০২৬ ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৮ বার


শিশু রামিসাকে  হত্যা- সোহেল-স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী স্কুলশিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত।

রায়ে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আজ রোববার বেলা ১১টার পর ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এই রায় ঘোষণা করেন।

এর আগে পৌনে ১১টার দিকে কড়া নিরাপত্তায় ৩১ বছর বয়সী সোহেল ও ২৬ বছর বয়সী স্বপ্নাকে ট্রাইব্যুনালে নিয়ে আসা হয়।

প্রথমে তাদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয় এবং পরে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

ট্রাইব্যুনাল মাত্র পাঁচটি শুনানিতে বিচার শেষ করেছেন। গত ১ জুন অভিযোগ গঠন করা হয় এবং তার পরের দিনই সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়।

৪ জুন যুক্তিতর্ক শেষ করার সময় প্রসিকিউশন প্রধান আসামি সোহেল রানা (৩১) এবং তার স্ত্রী ও সহ-আসামি স্বপ্না খাতুনের (২৬) মৃত্যুদণ্ড দাবি করেন। প্রসিকিউশনের যুক্তি, সাক্ষীদের জবানবন্দি ও জেরার মাধ্যমে অভিযোগগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

তবে আসামিপক্ষ সাজা কমানোর আবেদন জানিয়ে দাবি করেছে যে, চার্জশিট প্রধান আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে তৈরি এবং হত্যার কাজে ব্যবহৃত কথিত অস্ত্রটির ফরেনসিক পরীক্ষা করা হয়নি।

এই মামলার সঙ্গে যুক্ত আইনজীবীরা বলছেন, কোনো ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচারে এত দ্রুত রায় ঘোষণা করার কথা তারা স্মরণ করতে পারছেন না।

গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবী এলাকায় প্রতিবেশী সোহেলের ঘর থেকে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরদিন প্রতিবেশী সোহেল, স্বপ্না ও অজ্ঞাত পরিচয় এক ব্যক্তিকে আসামি করে পল্লবী থানায় মামলা করেন তার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, সোহেল রামিসাকে তার ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে। তদন্তকারীরা জানান, পরে সে শিশুটিকে গলা কেটে হত্যা করে এবং অপরাধ ধামাচাপা দিতে লাশ টুকরো করার চেষ্টা করে।

গত ২৪ মে পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ওহিদুজ্জামান ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

এতে সোহেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, হত্যা ও আলামত নষ্টের অভিযোগ আনা হয়। অন্যদিকে স্বপ্নার বিরুদ্ধে আলামত নষ্ট, মিথ্যা তথ্য প্রদান এবং স্বামীকে অপরাধে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়।

কয়েক ঘণ্টা পরেই আদালত মামলাটি বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন।

 


   আরও সংবাদ